Advertisement
  • বি। দে । শ
  • জুন ১৬, ২০২৬

‌পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না ইরান, দাবি ট্রাম্পের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‌পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না ইরান, দাবি ট্রাম্পের

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে সম্মত হয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তিতে ১৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তার মধ্যে যেমন রয়েছে সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, আমেরিকা ও তার মিত্রদের ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০ কোটি  ডলার পর্যন্ত সহায়তা প্রদানের কথা। তবে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার কথা চুক্তিতে উল্লেখ নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, ইরান পারমানবিক অস্ত্র তৈরি না করতে সম্মত হয়েছে। আর ৩০ কোটি ডলার দেওয়ার কথাও ভুয়ো।

ট্রুথ সোশ্যাল–এ এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‌ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়াও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে, এই খবরটি ভুয়ো খবর। এই ভুল খবরটা ডেমোক্র্যাটরা ছড়িয়েছে।’‌ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করা এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ নিয়ে আলোচনার একটা কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পর এই পোস্টটি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ এখনও অস্পষ্ট এবং একটা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা এখনও চলছে।

ট্রাম্পের এই দাবির প্রতিধ্বনি করে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা মার্কিন প্রশাসনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। ভ্যান্স এক্স–এ লিখেছেন, ‘‌প্রেসিডেন্ট প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’‌ তিনি এই  চুক্তিটিকে একটা বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেও তুলে ধরেছেন। ভ্যান্স বলেন, ‘‌আমেরিকা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ঘৃণা করে এমন অগণিত ব্যক্তিদের বানচালের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শান্তি প্রতিষ্ঠা ফলপ্রসূ হয়েছে।’‌

এর আগে সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটা প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর তিনি বলেন, এ সপ্তাহের শেষের দিকে জেনেভায় একটা আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভ্যান্স যোগ দেবেন। ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা স্মারকটিকে যুদ্ধবিরতির দিকে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে একটা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে এখনও আলোচনা বাকি আছে।

তবে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রকৃত অর্থ কী হবে, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতি অনুসারে, তেহরানের আলোচক দল দাবি করেছে যে, শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যেন কমপক্ষে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার পুনর্গঠনের জন্য ইরানকে দেয়। ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দাবিটি একটা বৃহত্তর প্যাকেজের অংশ, যার মধ্যে ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন সময়ে জব্দকৃত ২৪ কোটি মার্কিন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলি এই ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের অঙ্কটিকে ভিন্নভাবে বর্ণনা করছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলিতে এটাকে একটা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও পুনর্গঠন কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন সহায়তা করবে এবং এতে সরাসরি সরকারি ক্ষতিপূরণের পরিবর্তে বেসরকারি খাতের পুঁজি জড়িত থাকতে পারে। অর্থনৈতিক প্যাকেজ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, প্রস্তাবিত পারমাণবিক কাঠামোর বিশদ বিবরণ এখনও সীমিত। ভ্যান্স সিএনএন-কে বলেছেন যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি মাত্র দেড় পৃষ্ঠার এবং এটা একটা অত্যন্ত সাধারণ নথি। আগামী দিনগুলিতে এর আরও বিশদ বিবরণ প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!