Advertisement
  • বি। দে । শ
  • জুলাই ৯, ২০২৬

গাজায় ফের ইজরায়েলি বিমান হানা, ত্রাণকর্মীসহ নিহত ৫

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
গাজায় ফের ইজরায়েলি বিমান হানা, ত্রাণকর্মীসহ নিহত ৫

যুদ্ধ শুধু দালানকোঠা কিংবা পরিকাঠামোই ধ্বংস করে না, মানুষের কাছ থেকে তাদের ক্ষুদ্রতম আনন্দগুলোও কেড়ে নেয়। তেমনই নৃশংসতার পরিচয় দিল ইজরায়েল। দীর্ঘদিন ধরেই গাজার অধিবাসীদের যাবতীয় সুখ কেড়ে নিয়েছে। এবার বিশ্বকাপ ঘিরে মানুষের ক্ষুদ্রতম আনন্দও কেড়ে নিল ইজরায়েলি বাহিনী। এক বিমান হানায় বিশ্বকাপের আনন্দ পরিণত হল শোকে।

গাজায় চলমান যুদ্ধের মাঝে মানুষ বড় পর্দায় ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে জড়ো হয়েছিল। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ছিল উত্তেজিত। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগে একটি বিমান হামলা সেই উৎসবের পরিবেশকে শোকের ছায়ায় পরিণত করে। এই হামলায় সেই মানুষটিও নিহত হন, যিনি যুদ্ধের মাঝে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছিলেন। ইজরায়েলি বাহিনীর হামলায় একজন ত্রাণকর্মীসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
গাজা শহরের সাবরা মহল্লায় বাসিন্দারা একটা বড় পর্দায় মিশর ও আর্জেন্টিনার মধ্যেকার বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। যুদ্ধের উত্তেজনা থেকে ক্ষণিকের স্বস্তি দিতে একটা বড় পর্দা স্থাপন করা হয়েছিল। উদ্যোগ নিয়েছিলেন এক ত্রাণকর্মী। তবে, ম্যাচ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে ওই এলাকায় একটা বিমান হামলা চালানো হয়, যা ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলায় ত্রাণকর্মী মোহাম্মদ আল–ওয়াহিদি নিহত হয়েছেন।

মোহাম্মদ আল–ওয়াহিদির সাথে তিনজন শিশু এবং একজন ট্যাক্সি চালকও প্রাণ হারান। আল-ওয়াহিদি গাজায় ত্রাণ কার্যক্রম ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্তদের জীবনে এক মুহূর্তের আনন্দ নিয়ে আসা। ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে আল-ওয়াহিদি তাদের লক্ষ্য ছিলেন না। সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে এই হামলাটি হামাসের এক সদস্যকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। তবে, এই অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।

গাজায় বেশ কয়েক মাস ধরে লড়াই চলছে। যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, মাঝে মাঝেই বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। স্কুল, বাজার এবং জনসমাগম ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং ক্রীড়া অনুষ্ঠানগুলো মানুষের জন্য মানসিক স্বস্তির উৎস হয়ে উঠেছে। এই ম্যাচে অনেক গাজাবাসী মিশরকে সমর্থন করছিল। এর কারণ হল, যুদ্ধের সময় গাজায় মানবিক সহায়তা প্রদান এবং যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টায় মিশর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!