Advertisement
  • দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, পাইলটের ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ ? ইতালীয় সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক দাবি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, পাইলটের ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ ? ইতালীয় সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক দাবি

আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার যে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তা নিছক যান্ত্রিক ত্রুটির ফল নয়—বরং পাইলটের ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপের ফলেই ঘটে থাকতে পারে বলে দাবি করেছে ইতালির প্রভাবশালী দৈনিক ‘কোরিয়ের ডেলা সেরা’। যদিও ভারতের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ এখনও পর্যন্ত এই দুর্ঘটনা নিয়ে চূড়ান্ত সরকারি রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

ইতালীয় সংবাদপত্রটি তাদের প্রতিবেদনে দু’টি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আহমেদাবাদে ভেঙে পড়া এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। বরং পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানের জ্বালানি সুইচ ‘কাটঅফ’ অবস্থায় নিয়ে যান। এর ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে ভেঙে পড়ে। ভারতীয় তদন্তকারীদের একাংশও এই সম্ভাবনার দিকে ঝুঁকছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় পাইলট-ইন-কমান্ড ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হয়েছে। ‘কোরিয়ের ডেলা সেরা’ জানিয়েছে, তারা শীঘ্রই এই দুর্ঘটনা নিয়ে একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। সেখানে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পাইলটদের মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সুপারিশও থাকতে পারে বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মেঘানিনগরের বিজে মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনের উপর ভেঙে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)-এর প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিমানটি যখন গতি সঞ্চয় করে উপরে উঠছিল, ঠিক তখনই দু’টি ইঞ্জিনের জ্বালানি ‘কাটঅফ’ মোডে চলে যায়। ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার ঠিক আগে একজন পাইলট অপরজনকে জিজ্ঞাসা করেন, “ইঞ্জিন বন্ধ করলে কেন?” উত্তরে অপর পাইলট বলেন, “আমি কিছু বন্ধ করিনি।”

তবে পাইলটদের সংগঠনের দাবি, প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, জ্বালানি সুইচে সম্ভাব্য ত্রুটি বা অন্য যান্ত্রিক সমস্যার বিষয়টি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। তাই এই দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে আদালতের নজরদারিতে পুনরায় তদন্তের দাবি তুলেছেন তারা।

সব মিলিয়ে, আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। চূড়ান্ত সরকারি রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত রহস্যের সম্পূর্ণ সমাধান মিলবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!