Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫

আয়কর পোর্টাল অচল, রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ল একদিন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আয়কর পোর্টাল অচল, রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ল একদিন

ই-ফাইলিং পোর্টালে একের পর এক সমস্যা। লগইন হচ্ছে না, পেমেন্ট হয়ে গেলেও দেখাচ্ছে ‘এরর’। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি একদিন বাড়ানো হল সময়সীমা। কিন্তু তাতে ক্ষোভ কমল না করদাতাদের। রীতিমতো বিদ্রুপে ফেটে পড়েছে নেটপাড়া। সোমবার রাতে আয়কর দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন ডেডলাইন ১৬ সেপ্টেম্বর, সোমবার। অথচ এই বাড়তি সময়ে করদাতাদের তেমন কোনও স্বস্তি মিলছে না। কারণ, ই-ফাইলিং পোর্টাল কার্যত অচল। এ সব সমস্যা ঘিরে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাধারণ মানুষ। গত কয়েক দিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে একটাই সুর— পোর্টাল ঠিকমতো কাজ করছে না। কেউ অভিযোগ করছেন, লগইন করার পর বারবার ‘সেশন টাইম আউট’ দেখাচ্ছে। কেউবা বলছেন, রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ ধাপে গিয়ে ‘এরর’ দেখিয়ে কাজ আটকে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হয়েছে টাকা লেনদেন নিয়ে। বহু করদাতা জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আয়কর বাবদ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পোর্টালে তার কোনো স্বীকৃতি নেই। ফলে আবার পুরো প্রক্রিয়া শুরু থেকে করতে হচ্ছে, যার ফলে সময়ের ক্ষতি ও মানসিক চাপ পড়ছে।

এমত অবস্থায় রবিবার রাতেই সিবিডিটি অর্থাৎ সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডিরেক্ট ট্যাক্সেস একদিন সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা করে। যদিও সপ্তাহান্তে দপ্তরটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, পোর্টালে কোনো ত্রুটি নেই এবং সময়সীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও নেই। হঠাৎ করেই একদিন সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই লোক দেখানো পদক্ষেপ বলে মনে হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যখন ৪-৫ দিন ধরে পোর্টাল সাড়া দিচ্ছে না, তখন মাত্র একদিন সময় দিয়ে কী হবে? নেটিজেনরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। একজন ব্যবহারকারী টুইটারে লিখেছেন, ‘আপনারা কি একই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন? টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে, অথচ পোর্টালে ‘এরর’ দেখাচ্ছে আর রিটার্ন জমা পড়ছে না ? দয়া করে রিটুইট করুন এবং সবাইকে জানাতে সাহায্য করুন।’ অন্য এক জন লিখেছেন, ‘গত ৪ দিন ধরে পোর্টাল একেবারে মরা। এর মধ্যেও সময়সীমা না বাড়ানো হলে তা হবে আইনের অবমাননা।’ কেউ কেউ সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে ট্যাগ করে লিখেছেন, করদাতাদের এই দুর্দশা অগ্রাহ্য করা যায় না। আবার কেউ কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘আইটিআর পোর্টাল একেবারেই ব্যর্থ। আইআরসিটিসি-এর থেকে এদের শিখে আসা উচিত, কীভাবে চাপ সামলাতে হয়।’

এ পরিস্থিতিতে করদাতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনই বাড়ছে ভয়ও। কারণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন না জমা পড়লে জরিমানা দিতে হবে। আয়কর আইনের ২৩৪এফ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো করদাতা নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন জমা দেন, তবে তাঁকে দেরির জন্য জরিমানা দিতে হবে। বার্ষিক আয় যদি ৫ লক্ষ টাকার কম হয়, তবে জরিমানার পরিমাণ ১ হাজার টাকা। আর যদি আয় বেশি হয়, তবে জরিমানা বাড়বে ৫ হাজার টাকা। এর পরেও যদি কেউ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে রিটার্ন জমা না দেন, তবে আইনের ২৩৪এ ধারা অনুযায়ী প্রতি মাসে বকেয়া টাকার উপর ১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।

তবে এই বিভ্রান্তির মধ্যেও একটি তথ্য কিছুটা হলেও ইতিবাচক। চলতি মূল্যায়ন বছরে (২০২৫-২৬), ৩১ জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত মোট ৭.২৮ কোটি আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৭.৫ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সে সংখ্যা ছিল ৬.৭৭ কোটি। অর্থাৎ করদাতারা আগ্রহ নিয়েই রিটার্ন দাখিল করছেন, তবু পোর্টালের দুর্বল পরিকাঠামো যেন সব আগ্রহে জল ঢেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছরই দেখা যায় শেষ মুহূর্তে প্রচুর মানুষ একসঙ্গে রিটার্ন দাখিল করতে যান। ফলে সার্ভারে চাপ পড়ে। অথচ সেই চাপ সামলানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো সরকার এখনো পর্যন্ত গড়ে তুলতে করেনি। শুধু প্রচার দিয়ে করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করা গেলেও, পরিকাঠামোর হাল না ফেরালে ভবিষ্যতেও এই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি হবে। সরকারি তরফে এ পর্যন্ত পরবর্তী কোনো ঘোষণা আসেনি। করদাতারা চাইছেন, অন্তত কয়েক দিন সময়সীমা বাড়ানো হোক, যাতে যাঁরা প্রযুক্তিগত সমস্যার শিকার, তাঁরা আইনি ঝামেলায় না পড়েন। নইলে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র স্লোগান কেবল পোস্টারে থেকে যাবে, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটবে না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!