Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫

কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশের সেরা দশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও আইআইটি খড়গপুর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশের সেরা দশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও আইআইটি খড়গপুর

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র‍্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক (এনআইআরএফ)-এর সদ্য প্রকাশিত তালিকায় ফের উজ্জ্বল বাংলার নাম। দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে প্রথম ১০-এ জায়গা করে নিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইআইটি খড়গপুর।মঙ্গলবার যে র‍্যাঙ্কিং তালিকা প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, তাতে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন বিভাগের র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জায়গা করে নিয়েছে প্রথম দশে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে, দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় নবম স্থানে রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। যদিও সমস্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরিখে যাদবপুর নবম স্থানে অবস্থান করছে, তবে রাজ্যের ইউনিভার্সিটির মধ্যে এটি দেশের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে। রাজ্যের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নেমে এসেছে ৩৯তম স্থানে, যেখানে গত বছর তা ছিল ১৮ নম্বরে।

রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়গপুরও পিছিয়ে নেই। সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে এর অবস্থান ষষ্ঠ, যা শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যের প্রতিফলন। ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাটাগরিতে আইআইটি খড়গপুর রয়েছে পঞ্চম স্থানে, গবেষণা সংস্থার ক্ষেত্রে পঞ্চম এবং আর্কিটেকচার ও প্ল্যানিং বিভাগে তৃতীয় স্থানে। এছাড়াও, ইনোভেশন র‍্যাঙ্কিং-এ এই প্রতিষ্ঠান জায়গা করে নিয়েছে চতুর্থ স্থানে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, কলেজ র‍্যাঙ্কিংয়েও দেখা গেছে বাংলার প্রতিষ্ঠানের নজরকাড়া সাফল্য। কলকাতার রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ সেন্টিনারি কলেজ রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। একই সঙ্গে অষ্টম স্থানে রয়েছে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা। এই দুই কলেজের ধারাবাহিক ফলাফল এবং শিক্ষা-পরিকাঠামোই তাদের এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা।

আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগেও বাংলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কৃতিত্ব চোখে পড়ার মতো। দেশের সেরা আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ জুরিডিক্যাল সায়েন্সেস। অন্য দিকে, ম্যানেজমেন্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট, কলকাতা। রাজ্যের আরো একটি গর্বের নাম—শিবপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। এই প্রতিষ্ঠানটির আর্কিটেকচার ও প্ল্যানিং বিভাগ এ বছর দেশের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে।

দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকার দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, প্রথম স্থানে রয়েছে বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স। দ্বিতীয় স্থানে, দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় বা জেএনইউ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে মণিপাল অ্যাকাডেমি অফ হায়ার এডুকেশন, চতুর্থ স্থানে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া রয়েছে পঞ্চম স্থানে, এবং ছয় নম্বরে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়। সপ্তম ও অষ্টম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্স (পিলানি) এবং অমৃতা বিশ্ববিদ্যাপীঠম, কোয়েম্বাটুর। এরপর নবম স্থানে যাদবপুর এবং দশম স্থানে রয়েছে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। অন্য দিকে, দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সামগ্রিক তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আইআইটি মাদ্রাজ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইআইএসসি বেঙ্গালুরু এবং তৃতীয় স্থানে আইআইটি বম্বে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাফল্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে একটি বার্তা দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, এই অর্জন শুধু যাদবপুরের নয়, গোটা রাজ্যের।

একাধিক বিভাগে রাজ্যের এতগুলি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একসঙ্গে সাফল্য নিঃসন্দেহে গর্বের। তবে এর পাশাপাশি এই গৌরব ধরে রাখাও যে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন অনেকেই। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় ভুগছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। রাজ্য ও কেন্দ্র প্রাপ্য অর্থ দিচ্ছে না অভিযোগ অরবিন্দ ভবন ও শিক্ষক-পড়ুয়াদের। এবছর রাজ্য জয়েন্টের ফল প্রকাশের দেরির কারণে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও দেশের সেরা রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি অর্জন করেছে কলকাতার বহুল আলোচিত প্রতিষ্ঠানটি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘ কেন্দ্রীয় তালিকায় জায়গা পেয়ে সাময়িক মুখরক্ষা হয়েছে বটে, কিন্তু আর্থিক দুরবস্থা এখনো কাটেনি। সরকারের অনুদান হ্রাসের ফলে কর্পাস ফান্ড থেকেই প্রতিদিনের খরচ চালাতে হচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (নাক)-এর পরিদর্শকরাও দুর্বল কর্পাস ফান্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!