- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬
জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য ! উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে উত্তাল জেএনইউ। পড়ুুয়াদের ‘দীর্ঘ মিছিল’-এ বাধা, মোতায়েন পুলিশ-র্যাফ
একাধিক দাবি নিয়ে মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের উদ্দ্যেশে একটি শান্তিপূর্ণ ‘দীর্ঘ মিছিল’ করার পরিকল্পনা করেছিল দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের বা জেএনইউ-এর ছাত্ররা। বুধবার রাত ১০টার মধ্যেই পরিস্থিতি একেবারে পাল্টে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে বিপুল পরিমাণে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়। বসে ব্যারিকেড, আসে বোম স্কোয়াড আর স্নিফার কুকুর।
জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতি আদিতি মিশ্র জানিয়েছেন ‘বুধবার রাতে ছাত্রদের ফোনে খবর আসছিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে ব্যারিকেড তৈরি করছে। সকালে এসিপি নিজে এসে জানালেন, মিছিল নিয়ে বাইরে যাওয়া যাবে না।’ বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের পরিকল্পনা ছিল, বের সারাই এলাকায় জমায়েত হয়ে মন্ত্রকের দিকে শান্তিপূর্ণভাবে যাত্রা করা। তবে মিছিল শুরু হওয়ার আগেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ উভয়ই তা বানচাল করতে প্রস্তুতই ছিল। প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পুলিশ এবং অন্যান্য বাহিনী গেটগুলি ঘিরে ফেলে।
আন্দোলনকারীদের দাবি স্পষ্ট। প্রথমত, অবিলম্বে ‘রোহিত অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করতে হবে, যা উচ্চশিক্ষায় সর্বস্তরের পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং অধিকার সংরক্ষণে সাহায্য করবে। দ্বিতীয়ত, ‘জাতিবিদ্বেষী’ মন্তব্য করার কারণে জেএনইউ-এর উপাচার্য সনতিশ্রী ধুলিপুদি পাণ্ডিকে পদত্যাগ করতে হবে, পাশাপাশি ক্ষমাও চাইতে হবে। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় অনুদান কমিশনের সমতার বিধি পুনরায় কার্যকর করার মতো বেশকিছু দাবি তুলেছেন।এই সমতার বিধি ২০২৬ সালে সংশোধিত হয়েছিল। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট এর উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আদালতের মতে, এই বিধির কিছু ধারা সমাজকে বিভক্ত করতে পারে। তবে ছাত্ররা দাবি করছে, এই বিধি কার্যকর হলে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতি ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সমান সুযোগ এবং প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে।
তবে, উপাচার্যের বিতর্কিত মন্তব্যই মূল উত্তেজনার কারণ। ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এই ভাবনা প্রচলিত আছে যে, দলিত মানুষ যুগের পর যুগ ধরে কেবল অত্যাচারিতই হচ্ছেন। এ ধরণের ভাবনা থাকলে সমাজের অগ্রগতি সম্ভব নয়। শিকারত্বের কার্ড খেললে কালো সম্প্রদায়ের জন্য করা হয়েছিল। একই জিনিস এখানে দলিতদের জন্য আনা হয়েছে। কাউকে শয়তান বানানো সহজ নয়। কিন্তু এই বাস্তবতা তৈরি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যেখানে আমি স্থায়ী শিকার আর আপনি স্থায়ী দমনকারী। এভাবে সমাজ এগোতে পারে না।’ উপাচার্যের এহেন মন্তব্যকে ছাত্র, শিক্ষক ও সমাজের বিভিন্ন মহল জাতিগতভাবে সংবেদনশীল ও আপত্তিকর বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
প্রাক্তন জেএনইউএসইউ সভাপতি ধনঞ্জয় জাতীয় জাতিগত কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘উপাচার্যের বক্তব্যে দলিত এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা ও শত্রুতার অনুভূতি’ সৃষ্টি করতে পারে। এটি এসসি-এসটি অ্যাক্টের ধারা ৩(১)(উ)-এর অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। ধনঞ্জয় আরও উল্লেখ করেছেন, প্রশাসনের উচ্চ পদে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরণের মন্তব্য সমাজের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। সংবিধানের মৌলিক স্তরে আঘাত হানতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দলিত ও সংখ্যালঘু ছাত্রদের প্রতি হেনস্থা বাড়লে তার দায় কী উপাচার্য নেবেন?’
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ দাবানল হয়ে জ্বলে ওঠে। উপাচার্যকে ক্ষমা চাইতে হবে, পদত্যাগ করতে হবে; এই দাবিতে ২২ ফেব্রুয়ারি হাজার হাজার ছাত্র ‘সমতা মিছিল’ আয়োজন করে। সংঘর্ষ বাঁধে সেখানেও। অখিল ভারতীয় ছাত্র পরিষদ এবং বিজেপি-সংযুক্ত সংগঠনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারী বাম পড়ুয়ারা। আহত হন অনেকেই। ‘লং মার্চে’ পুলিশি বাধা পেয়েও পড়ুয়ারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অনড়। তারা বলছেন দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। ফলে আগামীতে দিল্লির ‘বামদুর্গ’ বলে পরিচিত ক্যাম্পাস যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে তা সহজেই অনুমেয়।
❤ Support Us







