Advertisement
  • টে | ক | স | ই
  • ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫

চাকরি খুঁজতে ডেটিং অ্যাপ ! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নয়া ট্রেন্ড

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চাকরি খুঁজতে ডেটিং অ্যাপ ! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নয়া ট্রেন্ড

এ মুহূর্তে, যখন গোটা বিশ্বে অর্থনীতির চাকা বেসামাল। চারদিকে যুদ্ধের ঘনঘটা। চাকরির বাজার দুর্লভ আর জটিল। বাড়ছে দারিদ্র আর বেকারত্ব। এরকম ডিজিটাল জমানায়, প্রায়শই একটা চাকরি পেতে অকূল পাথারে পড়েন চাকরীপ্রার্থীরা। বায়ো-ডাটা নির্বাচন স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় তারা প্রায়শই সরাসরি নিয়োগকারী বা মানব সম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। ফলে, হু হু করে বাড়ছে হতাশা। এমন  আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে সামনে এসেছে, চাকরি পাওয়ার এক অভূতপূর্ব প্রচেষ্টার কথা। আশ্চর্য হলেও সত্য, বহু মার্কিন তরুণ-তরুণী এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা এখন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের কর্মজীবন সুনিশ্চিত করতে চাইছেন। এতে, কখনো কখনো তারা পছন্দের কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকার পর্যন্ত করতে পারছেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি করা একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, সে দেশে গত এক বছরে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারী চাকরি বা পেশাগত উন্নয়নের উদ্দেশ্যে অ্যাপগুলি ব্যবহার করেছেন। তার চেয়েও চমকপ্রদ, যারা ওই পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তাদের মধ্যে প্রায় ৩৯ শতাংশ ইন্টারভিউতে ডাকও পেয়েছেন এবং ৩৭ শতাংশ চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন। সমীক্ষা জানাচ্ছে, বর্তমানে মার্কিন তরুণ-তরুণীরা যে কোনো উপায়ে হলেও সরাসরি নিয়োগকারীর নজরে আসার চেষ্টা করছেন, আর তা করতে নানান অভিনব পন্থা বেছে নিচ্ছেন তারা।

ক্যালিফোর্নিয়ার আর্টস কলেজের ২০ বছর বয়সী পড়ুয়া টিফানি চৌ এই নয়া প্রবণতার একজন উদাহরণ। তিনি হিঞ্জ’ নামের একটি ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপের জন্য নেটওয়ার্কিং করেছিলেন। তিনি জানান, ‘আমি ডেটিং অ্যাপকে অন্য নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মের মতো ব্যবহার করেছি। আমার মনে হয়েছে এটি ইনস্টাগ্রাম বা লিঙ্কডইনের মতো একটি মাধ্যম।’ জানা গেছে,  অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া তাঁর এক ‘সঙ্গী’ তাঁকে হ্যালোউইন পার্টিতে নিয়ে যায়যেখানে তিনি প্রোডাক্ট-ডিজাইনের ইন্টার্নশিপ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও পান। তবে, পরবর্তীতে তাঁর ‘সঙ্গী’র সঙ্গে প্রেমসম্পর্ক বেশিদূর এগোয়নি। লস এঞ্জেলেসের মেকআপ আর্টিস্ট অ্যালাইনা ডেভেনপোর্টও ‘হিঞ্জ ব্যবহার করে কাজ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই চাকরির জন্য আমি কৃতজ্ঞবে আমি মূলত সম্পর্কের জন্যই ওই অ্যাপে ঢুকেছিলাম।’ অনুরূপভাবে কেট ওনিল নামের অন্য এক যুবক ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে চাকরির টিপস চেয়েছিলেনকিন্তু তিন মাসের চেষ্টার পর তিনি বুঝেছেন, সবসময় ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া সম্ভব নয়। তাই তিনি আবার ফিরে এসেছেন লিঙ্কডইনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেনবর্তমান চাকরি বাজারে সরাসরি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনই একমাত্র উপায়। এ বিষয়ে ‘রেজুমেবিল্ডার ডট কম’-এর প্রধান ক্যারিয়ার পরামর্শদাতা স্টেসি হেলার বলেন, ‘আজকের দিনে চাকরি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, আপনার কার কার সাথে যোগাযোগ আছে। তাই মানুষ যে কোনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নেটওয়ার্কিং করছে। ডেটিং অ্যাপগুলোর ব্যক্তিগত এবং কম চাপের পরিবেশ অনেককে সহজভাবে সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করছে।’ তবে সব ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে পেশাগত জীবন সুনিশ্চিত করার চেষ্টাকে সমর্থন করে না। ‘বাম্বল’-এর মুখপাত্র বলেছে, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে প্রকৃত সম্পর্ক তৈরি করাচাকরি খোঁজাতে সাহায্য করা নয়।’ ‘হিঞ্জ’ ও ‘ওকেকিউপিড-এর মতো অ্যাপগুলোর নির্দেশিকাতেও ব্যবহারকারীদের সতর্ক করা হয়েছে যে, সেগুলি মূলত প্রেম এবং সম্পর্কের জন্য। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ডেটিং অ্যাপগুলো এমন নেটওয়ার্কিংকে সমর্থন করছে। যেমন, ‘গ্রাইন্ডার’-এর চিফ প্রোডাক্ট অফিসার এ জে ব্যালান্স বলেন, ‘এলজিবিটিকিউ’ সম্প্রদায়ের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই বাস্তব জগতে নিজেদের লিঙ্গ পরিচয় দিতে, বৈষম্যের মুখোমুখি হতে ভয় পান। অনলাইনে সংযোগ স্থাপন তাঁদের অনেকের জন্য যেমন নিরাপদ, তেমন কার্যকরও বটে।’

ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়াবার্কলে-র ১৮ বছর বয়সী ছাত্র অ্যালেক্স শিয়াওও এমন পরিস্থিতির সাক্ষী। ‘ডিট্টো এআই’ নামের কলেজ-ভিত্তিক ডেটিং অ্যাপের পরিচালক হিসেবে তিনি দেখেছেনঅনেক ব্যবহারকারী সরাসরি চাকরি চাওয়ার বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি জানান, ‘অনেকেই আমাদের অ্যাপে, বা আমাদের কাছে সরাসরি বার্তা পাঠিয়ে জানতে চান, আমরা কীভাবে তাঁর ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারি, বা আদেও পারি কি না।’ বিশেষজ্ঞদের মত, মার্কিন মুলুকে চাকরি বাজারের চাপ, এমন ধরণের প্রবণতার পিছনে দায়ী। এই কঠিন বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছেপ্রেম এবং পেশাগত জীবন— সবই যেন একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে যাচ্ছে। আর্থিক চাপ আর প্রতিযোগিতা মানুষকে যে কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে নিজের সুযোগ বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করছে। উল্লেখ্য, মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো অনুযায়ী২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আমেরিকায় মোট বেকারত্বের হার ৪.৬%। তরুণ বয়সী২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার আরো বেশি, প্রায় ৮.৩%


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!