- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৯, ২০২৬
বকেয়া ডিএ নিয়ে চাপ বাড়াল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবকে চিঠি
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে, রাজ্যের নতুন সরকার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রাজ্যের সরকারি কর্মীদের একাংশ এবং বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কাছে ইতিমধ্যেই ডিএ-এর একটা অংশ পৌঁছে গেলেও, এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছেন সরকার পোষিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তরা। স্কুল-কলেজ, পুরসভা, পঞ্চায়েত, বিভিন্ন বোর্ড ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বড়ো অংশ এখনও বকেয়া ডিএ থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত বকেয়া মেটানোর দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।
ডিএ-আন্দোলনের দীর্ঘ লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর, সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার সরকারি কর্মীদের একাংশের অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ-র অর্থ জমা দিতে শুরু করেছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদেরও এক অংশ তাঁদের প্রাপ্য টাকার কিছুটা পেয়েছেন বলে খবর। তবে পুরো টাকা পাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজ্যের হাজার হাজার সরকার পোষিত কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া কার্যকর হয়নি। ফলে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে অসন্তোষ ও ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
গত সপ্তাহেই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সে বৈঠককে ঘিরে কর্মচারী মহলে যথেষ্ট প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। বৈঠক শেষে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছিলেন, বকেয়া ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যথাযথ ভাবে কার্যকর করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ পরিশোধের বিষয়টি বাস্তবায়িত করা হবে। যদিও এরিয়ার হিসাব, প্রদানের পদ্ধতি আর প্রাপকদের তালিকা নিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। সেসব বিষয় নিয়ে আরও এক দফা আলোচনার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।
ওই বৈঠকের ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও সরকার পোষিত কর্মীদের জন্য এখনো কোনো স্পষ্ট সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়নি। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, কলকাতা পুর এলাকার বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এ পর্যন্ত তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া পাননি। একই অভিযোগ উঠেছে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, বিভিন্ন বোর্ডের কর্মী, পুরসভা ও পঞ্চায়েত কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও। তাঁদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। একাংশ অর্থ পেলেও অন্য অংশ এখনও অপেক্ষায়। শুধু তাই নয়, পূর্ত দফতর এবং সেচ দফতরের কর্মভারভিত্তিক কর্মী, তথা ওয়ার্ক-চার্জড কর্মচারী এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (এনভিএফ) সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সকলেই কোনো না কোনো ভাবে সরকারি ব্যবস্থার অংশ। তাই তাঁদের ক্ষেত্রে বকেয়া ডিএ প্রদানে দেরি হওয়ার কোনও যৌক্তিক কারণ নেই। সংগঠনের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য অর্থ আটকে থাকায় বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছেন। ফলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়, মানবিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, যাঁদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ জমা পড়তে শুরু করেছে, তাঁদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নতুন প্রশ্ন। অনেকের অভিযোগ, যে পরিমাণ অর্থ পাওয়ার কথা ছিল, তার তুলনায় অনেক কম টাকা জমা হয়েছে। কী সূত্রে হিসাব করা হচ্ছে, কোন সময়কাল ধরে বকেয়া নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের অভিযোগ ও তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ হেল্পডেস্ক চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সংগঠনের দাবি, বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্য একত্রিত করে তা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে বকেয়া ডিএ প্রদানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতির বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে আনা হবে। সূত্রের খবর, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া ডিএ-র একটি অংশ বর্তমানে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। একই ভাবে ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অবসর নেওয়া বহু কর্মচারীর কাছেও বকেয়া মহার্ঘ ভাতার অর্থ পৌঁছতে শুরু করেছে। তবে এখনো বিপুল সংখ্যক কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এই তালিকার বাইরে রয়েছেন।
ফলে এখন সরকারি কর্মচারী মহলের সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন, যাঁরা এখনো বকেয়া ডিএ পাননি, তাঁদের প্রাপ্য অর্থ কবে মিলবে? মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও সরকারি স্তরে নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা না হওয়ায় প্রশ্নের উত্তর এখনো অধরাই। আর সে কারণেই আন্দোলনের পথ থেকে আপাতত সরে আসতে নারাজ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি; দুটিই যেন দ্রুত বাস্তব রূপ পায়।
❤ Support Us






