Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ১৯, ২০২৪

ফের বিতর্কের কেন্দ্রে কালনার পুরপ্রধান

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফের বিতর্কের কেন্দ্রে কালনার পুরপ্রধান

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না কালনার পুরপ্রধান আনন্দ দত্তর। রাজবাড়ি চত্বরে নিরাপত্তারক্ষীকে ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্থার অভিযোগের পর এবার বেআইনি নির্মাণে নাম জড়াল পুরপ্রধানের। পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কোনও স্থাপত্যের ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে কোনওরকম নির্মাণ বা খনন নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত। অথচ রাজবাড়ি এলাকার গায়েই রয়েছে পুরপ্রধানের বাড়ি। পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে কালনার রাজবাড়ি। ‘নিয়ম না মেনে’ নির্মাণের বিষয়টি সম্পর্কে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের কালনা ইউনিট।
আর নিরাপত্তারক্ষীকে ধাক্কা মারা ও গালিগালাজের ঘটনায় এবার কালনার পুরপ্রধান আনন্দ দত্তর জবাব চেয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্বের নির্দেশে শুক্রবার এই চিঠি পাঠানোর কথা। কালনা রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের ভিতর কী ঘটেছিল তা বিস্তারিতভাবে পুরপ্রধানকে জানাতে হবে। অন্যদিকে কালনা পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে পুরাতত্ত্ব বিভাগও বেশ কিছু আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে শুক্রবার কালনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট আর্কিওলিজিস্টের কালনায় আসার কথা। এর আগে ‘পুরপ্রধানের দাদাগিরি’র কথা পূর্ব বর্ধমান জেলা ও কালনা মহকুমা পুলিশ-প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে জানান কালনা সাব সার্কেলের সিনিয়র কনজারভেশন অ্যাসিন্ট্যান্ট অমিত মালো।

 

টোটোকে ঢুকতে বাধা, নিরাপত্তা রক্ষীর ওপর চড়াও কলনার পুরপ্রধান। উঠলো নিন্দার ঝড়

 

 

এদিকে পুরপ্রধান হয়েও আনন্দবাবুর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরির অভিযোগ পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের। অমিতবাবুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কালনার রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের সংরক্ষিত সীমা থেকে ১০০ মিটার এবং তৎপরবর্তী ২০০ মিটার পর্যন্ত সংরক্ষিত স্মারকের নিকটবর্তী অথবা সংলগ্ন অঞ্চল খননাদি কার্য কিংবা কোনওরকম নির্মাণের জন্য যথাক্রমে নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত। পুরপ্রধানের বাড়ি রাজবাড়ির গায়েই। এ ব্যাপারে কালনা থানায় অভিযোগও দায়ের হয়। অমিতবাবুরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে পদক্ষেপ নিতে চলেছেন বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে ডাকটিকিটে স্থান পাওয়া কালনার উল্লেখযোগ্য ২৫ চূড়া মন্দির হিসাবে উল্লেখযোগ্য লালজি মন্দির। সেখানে ঘটনার দিন রথযাত্রা কমিটির পক্ষ থেকে মন্দিরে ভোগ খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়। সেই কমিটির সভাপতি পদে রয়েছেন পুরপ্রধান আনন্দ দত্ত। নিমন্ত্রিতের সংখ্যা হাজারেরও বেশি হওয়ায় আয়োজন হয় বড় আকারে। স্বাভাবিক কারণেই সেখানে বেশ কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডার ও ওভেন ঢোকানো ও এই আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের তরফে। তাদের দাবি অনুযায়ী ওই মন্দিরে দেবতার ভোগ ও মুষ্টিমেয় কয়েকজনের রান্নার আয়োজন প্রতিদিনই থাকে। তার অনুমতিও রয়েছে। কিন্তু বিশাল সংখ্যক মানুষজনের জন্য এলাহি আয়োজন করতে গেলে পুরাতত্ত্ব বিভাগে আবেদন জানাতে হয়। সেই আবেদন করাই হয়নি বলে অভিযোগ। এদিকে অনুমতি ছাড়া রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের গেটের সামনে দিয়ে সিলিন্ডার ও ওভেন কী করে ঢুকলো সেই ব্যাপারে অনেকে পুরাতত্ত্ব বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!