- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১৭, ২০২৪
টোটোকে ঢুকতে বাধা, নিরাপত্তা রক্ষীর ওপর চড়াও কলনার পুরপ্রধান। উঠলো নিন্দার ঝড়
কালনার রাজবাড়ির ঐতিহ্য ও স্থাপত্যরক্ষার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীর উপর চড়াও হয়ে ধাক্কা, অশালীন কথাবার্তা। অভিযুক্ত কালনার প্রথম নাগরিক আনন্দ দত্ত। পুরপ্রধানের পদে থেকে এহেন আচরণের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (যাচাই করা হয়নি) শহরজুড়ে নিন্দার ঝড়। জানা গেল, রাজবাড়ি চত্বরে জলের জার বহনকারী একটি টোটোকে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেওয়া ও অশালীন গালিগালাজে ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল নিয়ন্ত্রিত কালনা পুরসভার পুরপ্রধান আনন্দ দত্ত। ঘটনার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে পুরপ্রধানের নিন্দায় মুখর নেটিজেনরা। তৃণমূলের একজন জনপ্রতিনিধির এহেন আচরণে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। এছাড়াও হঠাৎ করেই এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েন সকলেই। যদিও অনেকের দাবি, এই ঘটনা প্রথম নয়। এর আগেও অনেকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন পুরপ্রধান।
কালনার বিধায়ক তথা তৃণমূলের মুখপাত্র দেবপ্রসাদ বাগের সাফ কথা, ‘এই ঘটনাকে দল সমর্থন করে না। একজন জনপ্রতিনিধির সংযত থাকা উচিত। এই ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার কথা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েছি।’ পুরপ্রধানের আচরণকে ‘দাদাগিরি’-র সঙ্গে তুলনা করে নিন্দায় মুখর হয়েছেন বিরোধীরাও। পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ ঘটনার কথা লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজবাড়ি লাগোয়া লালজি মন্দিরে হাজারেরও বেশি মানুষজনের জন্য ভোগপ্রসাদের আয়োজন করায় অতিরিক্ত পরিমাণে গ্যাস সিলিন্ডার, ওভেন সহ অন্যান্য সরঞ্জাম ঢোকানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। পুরপ্রধান এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
কালনার রাজবাড়ি চত্বর ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের অধীনে থাকলেও ভিতরে থাকা মন্দিরগুলিতে নিত্য পুজার্চনার দায়িত্ব সামলানো হয় রাজপরিবারের তরফে। রক্ষণাবেক্ষণে কেন্দ্রীয় সংস্থা দায়িত্বে থাকলেও তাদের বেশ কিছু সিদ্ধান্তে ও তাদের কর্মীদের আচরণেও এর আগে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সাত মাস আগেই রাজবাড়ি চত্বরে থাকা একটি গেটে পুরাতত্ত্ব আধিকারিকদের তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয় পুরপ্রধান আনন্দ দত্তর। আর রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের নিরাপত্তার জন্য গেটে দায়িত্ব সামলানো বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষী সুমন গোস্বামীকে পুরপ্রধান আনন্দ দত্তর ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই চতুর্দিকে ঢি ঢি পড়ে গিয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, একটি টোটো বেশ কয়েকটি জলের জার নিয়ে রাজবাড়ি চত্বরের ভিতরে ঢুকছে। সেইসময় ওই নিরাপত্তারক্ষী টোটোটিকে ভিতরে নিয়ে যেতে নিষেধ করেন। জানিয়ে দেন, রাজবাড়ি চত্বরে টোটোর প্রবেশ নিষিদ্ধ। সেই সময় পুরপ্রধান আনন্দবাবু টোটোর সামনে আসতেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন ওই নিরাপত্তারক্ষী। তখনই আনন্দবাবু তেড়ে গিয়ে ওই নিরাপত্তারক্ষীকে ধাক্কা মারতে-মারতে সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। এলাকার বাসিন্দা মনোরঞ্জন সাহা ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি জানান, ‘কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তারক্ষীকে যেমন নির্দেশ দিয়েছে, তিনি তেমনই তো পালন করবেন। নিজের কর্তব্যে তিনি অবিচল ছিলেন। আনন্দবাবু গত বছরেও একজন পর্যটকে পিটিয়েছিলেন। আবারও একই অঘটন ঘটালেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও দেন।’ কালনার তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ জানান, “একজন জনপ্রতিনিধির এই ধরনের আচরণ করাটা কখনোই উচিত নয়। কারণ জনপ্রতিনিধিদের সংযত থাকা উচিত। সমস্যায় পড়লে সাধারণ মানুষ তো আমাদের কাছেই আসেন।’ তিনি যোগ করেন, ‘দলও এই সমস্ত কাজকে সমর্থন করে না। আমি ইতিমধ্যেই দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েছি। তারা নিশ্চয়ই এইসব দিকে নজর রাখছেন।’ পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের আধিকারিক অমিত মালো জানান, ‘আমাদের কিছু নিয়ম রয়েছে। সংরক্ষিত এলাকায় রান্না করা আইনবিরুদ্ধ কাজ। এটা তখনই অনুমতি দেওয়া হয়, যখন কোনও চিরাচরিত ধর্মাচরণের জন্য সামান্য কয়েকজনের জন্য রান্না করা হয়। লালজি মন্দির এলাকায় হাজারেরও বেশি মানুষ প্রসাদ গ্রহণ করেছেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের খাবার ছিল। বড়ো আয়োজন। এর জন্য অনুমতি প্রয়োজন ছিল। সেই নিয়ম মানা হয়নি। কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডার ও ওভেন ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়াও রাজবাড়ি চত্বরে কোনও গাড়ি ঢোকার অনুমতি নেই। বিষয়টি জানানোর আগেই পুরপ্রধান নিরাপত্তারক্ষীকে ধাক্কাধাক্কি করে হেনস্থা করেন। ঘটনার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’ এত বড় আয়োজনের কথা রাজবাড়ির ম্যানেজার জয়চাঁদ চট্টোপাধ্যায়কেও জানানো হয়নি। জয়চাঁদবাবু জানান, ‘প্রায় দেড় হাজার মানুষের আয়োজন করা হয়। এর আগে আয়োজন হলেও এত বড় করে হয়নি। বিষয়টি আমি জানিই না।’
❤ Support Us







