Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ২২, ২০২৬

কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! মৃত্যু ১৪ পড়ুয়ার, নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা সাহায্য ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! মৃত্যু ১৪ পড়ুয়ার, নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা সাহায্য ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

বিকেলের ব্যস্ত সময়ে মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে উঠ তিনতলা বাণিজ্যিক ভবনটি। চার দিকে শুধু কালো ধোঁয়াআর্তনাদ আর ছুটোছুটি। প্রাণ বাঁচাতে কেউ জানলার গ্রিল আঁকড়ে ধরেছেনকেউ আবার প্রথম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন নীচে। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনৌয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক জন। নিহতদের পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আহতদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ।

সোমবার বিকেল প্রায় ৩টা নাগাদ আলিগঞ্জের উষা মেহতা মার্গের একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুন লাগে। স্থানীয় সূত্রের খবরভবনটিতে একটি কোচিং সেন্টার ছাড়াও লাইব্রেরিকম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রপোষ্য প্রাণীর দোকান এবং আরও কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবিআচমকাই ভবনের ভিতর থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিতরে আটকে পড়েন বহু পড়ুয়া। আতঙ্কে কয়েক জন ছাত্রছাত্রী ভবনের প্রথম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। তাঁদের দাবিঅন্তত পাঁচ থেকে ছয় জনকে তাঁরা উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় ১৪টি দমকল ইঞ্জিন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা। উদ্ধারকাজ চালাতে পাশের ভবন দিয়েও প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। একটি দেওয়াল ভেঙে পথ তৈরি করতে হয় উদ্ধারকারীদের। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। একের পর এক উদ্ধার হয় দেহ। শেষ পর্যন্ত প্রশাসন জানায়ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত চার জনকে ভর্তি করা হয়েছে কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ট্রমা সেন্টারে। তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন চিকিৎসকেরা।

উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ‘মর্মান্তিক ঘটনা ১৪ জন শিশু-কিশোর প্রাণ হারিয়েছে। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কী ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটলতদন্তের পরেই তা স্পষ্ট হবে।’ তিনি আরও জানানউদ্ধারকারী দল ভবনের প্রতিটি ঘর এবং শৌচাগারে তল্লাশি চালিয়েছে। আপাতত আর কেউ ভিতরে আটকে নেই বলে নিশ্চিত হয়েছে প্রশাসন। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে আলিগড়ে নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে লখনৌয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করে লেখেনলখনৌয়ের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীর ভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। স্থানীয় কয়েক জনের অনুমানবৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা কোনো স্ফুলিঙ্গ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। যদিও প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এই দুর্ঘটনার পর ফের প্রশ্নের মুখে শহরের বাণিজ্যিক ভবনগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত কোচিং সেন্টারগুলিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি নাজরুরি অবস্থায় বেরিয়ে আসার বিকল্প পথ ছিল কি নাতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে তবেই স্পষ্ট হবেএই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কোন গাফিলতি দায়ী।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!