Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২২, ২০২৬

ময়ূরাক্ষী নদীর উপর চার লেনের সেতু, পিপিপি মডেলে দাদনপাত্রবাড়ে গড়ে উঠবে গভীর সমুদ্র বন্দর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ময়ূরাক্ষী নদীর উপর চার লেনের সেতু, পিপিপি মডেলে দাদনপাত্রবাড়ে গড়ে উঠবে গভীর সমুদ্র বন্দর

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করল রাজ্যের বিজেপি সরকার । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আগের ঘোষণার পর এবার সেই সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়ল রাজ্যের প্রথম বাজেটে । অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট বক্তৃতায় জানান, পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে একটি আধুনিক গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হবে ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের উপকূলীয় বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি এবং শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে । পাশাপাশি পূর্ব ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশাবাদী রাজ্য সরকার ।

পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমল থেকেই তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল । দাবি করা হয়েছিল, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে তাজপুরের অর্থনৈতিক চেহারা এবং তৈরি হবে বহু কর্মসংস্থান । কিন্তু বহু ঘোষণার পরও প্রকল্পটি বাস্তবের মুখ দেখেনি ।

সরকার পরিবর্তনের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । এ নিয়ে তিনি শিল্পপতি করণ আদানির সঙ্গে বৈঠকও করেন । সেই বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, পর্যাপ্ত জমির অভাব থাকায় তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ সম্ভব নয় । বিকল্প হিসেবে দাদনপাত্রবাড়কে চিহ্নিত করা হয় ।

পূর্বতন সরকার প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তাজপুরে গ্রিনফিল্ড প্রযুক্তিনির্ভর একটি গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল । পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা ছিল ।

টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আদানি গোষ্ঠীকে । ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার করণ আদানির হাতে প্রাথমিক আগ্রহপত্র (লেটার অফ ইনটেন্ট) তুলে দেন । তবে এরপর একাধিকবার প্রকল্পটি নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি ।

যদিও পূর্বতন সরকারের পক্ষ থেকে কখনও বলা হয়নি যে আদানি গোষ্ঠী প্রকল্প থেকে সরে গিয়েছে । তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দরপত্রে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরও আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকনমিক জোন (APSEZ) সংস্থা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, বিদেশ ও জাহাজ মন্ত্রকের প্রয়োজনীয় সমস্ত শর্ত পূরণ করতে পারেনি । ফলে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও মেলেনি । এর জেরেই প্রকল্পটি আর আদানি গোষ্ঠীর হাতে এগোয়নি বলে সূত্রের দাবি ।

দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পাশাপাশি বীরভূম জেলার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে । অর্থমন্ত্রী জানান, ময়ূরাক্ষী নদীর উপর চার লেনের একটি আধুনিক সেতু নির্মাণ করা হবে ।

প্রশাসনের মতে, এই সেতু নির্মিত হলে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে । একই সঙ্গে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন শিল্পেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে ।

রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দাদনপাত্রবাড়ের গভীর সমুদ্রবন্দর এবং ময়ূরাক্ষীর উপর চার লেনের সেতু — দুই প্রকল্পকেই বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে দেখা হচ্ছে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!