- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ১৯, ২০২৬
প্রশ্নফাঁসের জেরে ১১ পড়ুয়ার মৃত্যু ! পরিবারপিছু ক্ষতিপূরণ, শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি সিজেপি প্রতিষ্ঠাতার
‘নিট-ইউজি’ পুনঃপরীক্ষার আগে ফের চাপের মুখে কেন্দ্র ? প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং শিক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে খোলা চিঠি পাঠালেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। পরীক্ষাসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ও প্রশ্নফাঁসের আবহে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ১ কোটি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ফের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবিও তুলেছেন অভিজিৎ।
আগামী ২০ জুন দিল্লির যন্তর–মন্তরে সিজেপি-র দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে। তার ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা চিঠিতে অভিজিৎ দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী ‘নিট’ প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ৪৮ ঘণ্টাতেই ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এ দাবির সরকারি কোনো পরিসংখ্যান বা স্বাধীন যাচাই এখনো সামনে আসেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ওই চিঠিতে অভিজিৎ লিখেছেন, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপনাকে লিখছি। এমন এক ক্রমবর্ধমান সঙ্কটের দিকে আপনার জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে।’
সিজেপি-র দাবি, সম্ভাব্য পুনঃপরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক চাপের জেরে পড়ুয়াদের মানসিক উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। আগামী ২১ জুন ‘নিট-ইউজি’ পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সে আবহেই শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা ও মানসিক চাপ বেড়েছে বলে দাবি সংগঠনের। চিঠিতে অভিজিৎ উল্লেখ করেছেন, বহু পরিবার তাঁদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণের জন্য বিপুল অঙ্কের শিক্ষাঋণ নিয়েছেন। দীর্ঘ দিনের সঞ্চয়, ধারদেনা এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করেছেন অভিভাবকেরা। অথচ সেই সন্তানদেরই হারিয়ে আজ বহু পরিবার আর্থিক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। চিঠিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ১ কোটি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জন্মলগ্ন থেকেই শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং পড়ুয়াদের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাবের বিরুদ্ধে সরব ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। ‘নিট’ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে সংগঠনটি। দিল্লির যন্তর–মন্তরে বিক্ষোভ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ কর্মসূচি; গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে সিজেপি। চিঠিতে অভিজিৎ লিখেছেন, ‘গত এক মাস ধরে ককরোচ জনতা পার্টি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন করছে। আমরা জবাবদিহি চাই।’ তাঁর দাবি, শিক্ষাব্যবস্থার উপর লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এবং অভিভাবকের আস্থা ফেরাতে হলে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর মতে, ‘দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ করা।’ তিনি আরও দাবি করেছেন, সরকারের তরফে কোনো পদক্ষেপ না করা হলে বার্তা যাবে যে, প্রশাসন বর্তমান পরিস্থিতিকে মেনে নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাই সিজিপি প্রধানের আবেদন, ‘শিক্ষামন্ত্রী আপনার আস্থাভাজন হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন। শেষ পর্যন্ত দায়ও প্রধানমন্ত্রীর। তাই আমরা বিনীত ভাবে শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণের অনুরোধ জানাচ্ছি।’ অভিজিতের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীকে সরানো দুর্বলতার পরিচয় নয়, বরং সরকারের জবাবদিহির প্রতি দায়বদ্ধতারই প্রমাণ হবে। অন্যথায় পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা আরও গভীর হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে, শুধু শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য আর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ারও আর্জি জানিয়েছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর দাবি, এমন কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষাজনিত হতাশার কারণে আর কোনো তরুণ প্রাণ অকালে ঝরে না যায়।
উল্লেখ্য, আগামী ২০ জুন যন্তর–মন্তরে দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। সংগঠনের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ওই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। এর আগে গত ৬ জুন যন্তর–মন্তরে আয়োজিত প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী এবং তরুণ পেশাজীবী অংশ নিয়েছিলেন। পরীক্ষা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সেখানেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ওঠে। পরবর্তী সময়ে দেশের একাধিক শহরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাসংক্রান্ত বিতর্কের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করেছে সিজেপি। প্রতিটি কর্মসূচিতেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি ছিল সংগঠনের মূল সুর। এখন দেখার, যন্তর মন্তরের দ্বিতীয় দফার আন্দোলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা এই খোলা চিঠি কেন্দ্রের উপর নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে কি না।
❤ Support Us







