Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ১৮, ২০২৬

তৃণমূলে প্রকাশ্য বিভাজন ! বিধানসভায় ঋতব্রত শিবিরে ৩৮, কালীঘাটপন্থীদের আলাদা আসন; ‘বিদ্রোহী’ দলে ববিও

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তৃণমূলে প্রকাশ্য বিভাজন ! বিধানসভায় ঋতব্রত শিবিরে ৩৮, কালীঘাটপন্থীদের আলাদা আসন; ‘বিদ্রোহী’ দলে ববিও

বিধানসভার বিরোধী বেঞ্চে এবার স্পষ্টভাবে ফুটে উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব। বিজেপি সরকার গঠনের পর বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে দেখা গেল, প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে বসেছে। একদিকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ৩৮ জন বিধায়ক, অন্যদিকে কালীঘাটপন্থী ১৪ জন বিধায়ক বিরোধী বেঞ্চের অন্য অংশে আলাদা করে বসেন।

ঋতব্রত শিবিরে নজর কাড়েন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা একসময়ের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা ফিরহাদ হাকিম (ববি)। তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাদের সঙ্গে বিরোধী বেঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। অন্যদিকে কালীঘাটপন্থী শিবিরে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, রুকবানুর রহমান এবং আলিফা আহমেদসহ একাধিক নেতা-বিধায়ক।

শুধু পরিষদীয় দল নয়, তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ভাঙনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে। দলের ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের তালিকায় রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ফলে তাঁর স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় কোন শিবিরে থাকবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল। তবে বৃহস্পতিবার তাঁকে কালীঘাটপন্থী বিধায়কদের সঙ্গেই দেখা যায়।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ৮০টি আসনে জয়লাভ করে এবং সেই সূত্রে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পায়। দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম মনোনীত করে গত ৯ মে স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, সেই চিঠির ভিত্তিতে স্পিকার কোনও পদক্ষেপ নেননি।

অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিধায়ক দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দেন এবং তাঁরাই ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। এর পরই ‘দলবিরোধী কার্যকলাপ’-এর অভিযোগে গত ১ জুন তৃণমূল নেতৃত্ব ঋতব্রতকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

স্পিকারের ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুললেও বৃহস্পতিবার কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেননি। ফলে আপাতত বিরোধী দলনেতার পদে বহাল থাকছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৮ জুলাই।

এদিকে ঋতব্রত শিবিরের দাবি, বর্তমানে তাঁদের সমর্থনকারী বিধায়কের সংখ্যা বেড়ে ৬৫-এ পৌঁছেছে। পাশাপাশি তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছেন। যদিও বৃহস্পতিবার তাঁদের অনেক সমর্থক বিধায়ক অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। তবে বিধানসভার প্রথম দিনেই তৃণমূলের প্রকাশ্য বিভাজন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!