- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ১৮, ২০২৬
হুগলি নদীর বুকে আকাশমুখী জোড়া জলস্তম্ভ, সাগরে বিরল দৃশ্যে চাঞ্চল্য
সাগরদ্বীপের আকাশে তখন ঘনিয়ে আসছে কালো মেঘ। হুগলি নদীর বুক জুড়ে বইছে দমকা হাওয়া। তারই মধ্যে আচমকা নদীর মাঝখানে ঘুরপাক খেতে শুরু করল জলরাশি। মুহূর্তের মধ্যে সে ঘূর্ণন তীব্র হয়ে আকাশমুখী জলস্তম্ভের আকার নিল। বিস্ময় এখানেই শেষ নয়। প্রথমটির কিছু দূরেই তৈরি হল আরও একটি জলস্তম্ভ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর ব্লকের মহিষামারি এলাকায় বৃহস্পতিবার এমনই বিরল প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ হুগলি নদীর উপরে পরপর দুটি ঘূর্ণায়মান জলস্তম্ভ বা ‘ওয়াটারস্পাউট’ দেখা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়েরা। কয়েক মিনিট স্থায়ী হওয়া ওই দৃশ্য ঘিরে কৌতূহলের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে নৌকাচালক, সকলেই দ্রুত সতর্ক হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে নদীর মাঝখানে জল অস্বাভাবিক ভাবে ঘুরতে শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সে ঘূর্ণন তীব্র হয়ে জলস্তম্ভের রূপ নেয়। তার কিছু দূরেই তৈরি হয় আরও একটি। এমন দৃশ্য আগে কখনো এখানে দেখা যায় নি।
মৎস্যজীবীদের একাংশের বক্তব্য, জলস্তম্ভ তৈরি হওয়ার আগে নদীর জলে আচমকা অস্বাভাবিক স্রোত দেখা যায়। একই সঙ্গে দ্রুত বাড়তে থাকে বাতাসের বেগ। পরিস্থিতি বুঝে নদীতে থাকা ছোটো নৌকা ও ট্রলারগুলিকে সতর্ক করা হয়। বেশ কয়েকটি ট্রলার মাঝনদী থেকে দ্রুত ঘাটের দিকে ফিরে আসে। জোড়া জলস্তম্ভের দৃশ্য কয়েক মিনিট স্থায়ী হওয়ার পরই আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। আকাশ ঢেকে যায় কালো মেঘে। শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি। সাগরদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হওয়ায় সাময়িক ভাবে জনজীবনে প্রভাব পড়ে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
এ ধরনের ঘটনাকে সাধারণ ভাবে ‘টর্নেডো’ বলা হলেও আবহবিদদের মতে, জলভাগের উপরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তের বৈজ্ঞানিক নাম ‘ওয়াটারস্পাউট’। সমুদ্র ও নদী সংলগ্ন অঞ্চলে তাপমাত্রার তারতম্য, জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং বায়ুচাপের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে এ ধরনের জলস্তম্ভ তৈরি হতে পারে। যদিও, উপকূলবর্তী এলাকায় মাঝেমধ্যে ওয়াটারস্পাউটের দেখা মিললেও, একসঙ্গে দুটি জলস্তম্ভ তৈরি হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
অন্যদিকে, আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে এখনো গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে। পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে। পাশাপাশি, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ এবং বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে নদীপথে যাতায়াতকারী নৌকা, ট্রলার এবং মৎস্যজীবীদের আবহাওয়ার সতর্কবার্তা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
❤ Support Us








