- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ১৮, ২০২৬
উদ্ধব শিবিরে নতুন বিদ্রোহ, লোকসভা স্পিকারের দ্বারস্থ ৬ সাংসদ
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড়সড় অস্থিরতা। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) শিবিরের ছয় বিদ্রোহী সাংসদ লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দল ছাড়ার এবং একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনা গোষ্ঠীতে যোগদানের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।
সূত্রের খবর, এই ছয় সাংসদ স্পিকারকে জানিয়েছেন যে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা দল তাদের মূল হিন্দুত্ববাদী আদর্শ থেকে সরে এসেছে। তাঁদের অভিযোগ, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই সম্ভাব্য ‘মার্জার’-এর বিরোধিতাই তাঁদের দলত্যাগের প্রধান কারণ বলে দাবি করেছেন বিদ্রোহী সাংসদরা।
এছাড়াও তাঁরা স্পিকারের কাছে অনুরোধ করেছেন, লোকসভায় তাঁদের আসন যেন একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীর সাত সাংসদের আসনের কাছাকাছি বরাদ্দ করা হয়।
উদ্ধব ঠাকরের পুরনো ক্ষতের স্মৃতি
এই ঘটনা অনেকের কাছেই ২০২২ সালের জুন মাসের রাজনৈতিক নাটকের পুনরাবৃত্তি বলে মনে হচ্ছে। সেই সময় একনাথ শিন্ডের বিদ্রোহে মহারাষ্ট্রের মহা বিকাশ আঘাড়ি (এমভিএ) সরকার ভেঙে পড়ে এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন উদ্ধব ঠাকরে।
বিদ্রোহী সাংসদদের অভিযোগ, উদ্ধব ঠাকরে তাঁদের নির্বাচনী এলাকাগুলির প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দেননি। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি অনেক ক্ষেত্রে এলাকায় যাননি এবং নির্বাচনের সময়ও পর্যাপ্ত সহায়তা মেলেনি। এমনকি আদিত্য ঠাকরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে উঠেছিল বলে তাঁদের অভিযোগ।
কারা এই ৬ বিদ্রোহী সাংসদ ?
গত কয়েকদিন ধরে যাঁদের অবস্থান নিয়ে জল্পনা চলছিল, সেই ছয় সাংসদের পরিচয় এখন স্পষ্ট হয়েছে। তাঁরা হলেন—
- নাগেশ অষ্টিকার
- ভাউসাহেব ওয়াঘচৌরে
- সঞ্জয় দিনা পাটিল
- ওমরাজে নিম্বলকর
- সঞ্জয় দেশমুখ
- সঞ্জয় জাধব
দিল্লিতে গোপন বৈঠক ও যাত্রাপথ
সূত্র অনুযায়ী, বিদ্রোহী সাংসদরা বিভিন্ন শহর থেকে ধাপে ধাপে দিল্লিতে পৌঁছান।
- নাগেশ অষ্টিকার ১৬ জুন গভীর রাতে নান্দেড় থেকে ব্যক্তিগত বিমানে দিল্লি আসেন।
- ওমরাজে নিম্বলকর পুনে থেকে আসেন এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন একনাথ শিন্ডের পুত্র শ্রিকান্ত শিন্ডে।
- পরে সঞ্জয় দেশমুখ ও সঞ্জয় জাধব পৃথক ব্যক্তিগত বিমানে পৌঁছান।
- ভাউসাহেব ওয়াঘচৌরে হায়দরাবাদ থেকে আসেন।
- সঞ্জয় দিনা পাটিল রাতের দিকে দিল্লিতে পৌঁছান।
দিল্লিতে পৌঁছে সকলকে নয়ডার একটি হোটেলে রাখা হয়। পরে একনাথ শিন্ডে, শ্রিকান্ত শিন্ডে এবং ছয় বিদ্রোহী সাংসদ বৈঠক করেন। এরপর স্পিকারের সঙ্গে পৃথকভাবে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়।
মন্দির দর্শনে বিদ্রোহী সাংসদরা
স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংসদরা বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে রওনা দেন।
- নাগেশ অষ্টিকার যান তিরুপতিতে।
- ভাউসাহেব ওয়াঘচৌরে যান বারাণসীতে।
- সঞ্জয় দিনা পাটিল ফিরে যান মুম্বইয়ে।
- ওমরাজে নিম্বলকর যান পুনেতে।
- সঞ্জয় দেশমুখ ও সঞ্জয় জাধব যান অযোধ্যায়।
শনিবার তাঁরা আবার একনাথ শিন্ডের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এরপর স্পিকারকে দেওয়া চিঠি প্রকাশ করে নিজেদের অবস্থান জনসমক্ষে তুলে ধরতে পারেন।
উদ্ধব শিবিরের পাল্টা আক্রমণ
অন্যদিকে উদ্ধব ঠাকরের শিবির বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দল তাঁদের সাত দিনের ‘শো-কজ’ নোটিশ পাঠিয়েছে এবং লোকসভা স্পিকারকে অনুরোধ করেছে যাতে দল ভাঙা ও আসন পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ না করা হয়।
এছাড়া বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে ‘দলবিরোধী কার্যকলাপ’-এর অভিযোগ আনার প্রস্তুতিও চলছে।
আজ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন দলীয় হুইপ জারি করা সত্ত্বেও ছয় বিদ্রোহী সাংসদ দলের বৈঠকে উপস্থিত হননি। বর্তমানে উদ্ধব শিবিরের হাতে ৯ জন লোকসভা সাংসদ রয়েছেন, কিন্তু বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩ জন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, অতীতের অনুরূপ ঘটনাগুলির মতোই এই দলত্যাগের প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে একনাথ শিন্ডের শিবসেনা আরও শক্তিশালী হবে এবং সংসদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যাও বাড়বে।
❤ Support Us








