Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ২২, ২০২৬

এক লিটার ইথানল উৎপাদনে ১০ হাজার লিটার জল ! জ্বালানি নিরাপত্তার দৌড়ে আরও গভীর হচ্ছে দেশের জলসংকট ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এক লিটার ইথানল উৎপাদনে ১০ হাজার লিটার জল ! জ্বালানি নিরাপত্তার দৌড়ে আরও গভীর হচ্ছে দেশের জলসংকট ?

অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমানোজ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আয়ের নতুন রাস্তা তৈরি তিন লক্ষ্যকে সামনে রেখে দুদশকেরও বেশি সময় আগে ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচি শুরু করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু সবুজ জ্বালানির স্বপ্নের আড়ালে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে অন্য এক উদ্বেগজনক বাস্তব। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতেইথানল উৎপাদনের জন্য যে বিপুল পরিমাণ জল প্রয়োজনতা ভারতের ক্রমবর্ধমান জলসংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ধানআখ এবং ভুট্টার মতো জলনির্ভর ফসলের উপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রের জ্বালানি নীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে। কারণদেশের যে সব অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ভূগর্ভস্থ জলের উপর তীব্র চাপ রয়েছেসেখানেই দ্রুত বাড়ছে ইথানল উৎপাদনকারী কারখানার সংখ্যা।

ভারতে পেট্রলের সঙ্গে উদ্ভিদজাত অ্যালকোহল ইথানল মিশিয়ে ব্যবহারের কর্মসূচি প্রথম শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত কয়েকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৫ শতাংশ ইথানল-মিশ্রিত পেট্রল বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তারপর ধাপে ধাপে সে হার বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালে ১০ শতাংশে পৌঁছয়। ২০২৫ সাল থেকে দেশে ই-২০ বা ২০ শতাংশ ইথানল-মিশ্রিত পেট্রল বাধ্যতামূলক করা হয়। ২০২৬ সালে ই-৮৫ এবং ই-১০০ জ্বালানির জন্য প্রয়োজনীয় সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকরি সম্প্রতি ই-১০০ জ্বালানির মানদণ্ডে ছাড়পত্র দিয়েছেন। ইথানলযুক্ত পেট্রলকে কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্কের আওতার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফলে সম্পূর্ণ ইথানলচালিত গাড়ির পথও খুলে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা সংস্থা উচ্চমাত্রার ইথানলচালিত যানবাহন তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছে। কেন্দ্রের দাবিইথানল কর্মসূচির জেরে ইতিমধ্যেই এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের অপরিশোধিত তেল আমদানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আয় হয়েছে। গ্রেন ইথানল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক দীপক বল্লানি-এর মতেঅপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধিবিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইথানল মিশ্রণ কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এই জ্বালানি নিরাপত্তার এ সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে জলব্যবহারের কঠিন সমীকরণ। ২০২৪ সালে দিল্লিতে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে খাদ্যসচিব সঞ্জীব চোপড়া জানানধান থেকে এক লিটার ইথানল উৎপাদনে প্রায় ১০,৭৯০ লিটার জল প্রয়োজন হয়। হিসাব বলছেএক কিলোগ্রাম ধান উৎপাদনেই খরচ হয় প্রায় ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ লিটার জল। অন্য দিকেএক লিটার ইথানল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন হয় প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোগ্রাম ধান। অর্থাৎএক লিটার জ্বালানি তৈরির জন্য খরচ হচ্ছে ১০ হাজার লিটারেরও বেশি জল। ভুট্টা থেকে এক লিটার ইথানল উৎপাদনে প্রায় ৪,৬৭০ লিটার এবং আখ থেকে প্রায় ৩,৬৩০ লিটার জল লাগে। ফলে, জলব্যবহারের নিরিখে ধানকেই সবচেয়ে ব্যয়বহুল কাঁচামাল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যানেল বা আইপিসিসি-র লেখক অঞ্জল প্রকাশ জানিয়েছেন, ‘ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচি ভারতের জলসংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। কারণএর প্রধান কাঁচামাল ধান, আখ এবং ভুট্টা— সবগুলিই অত্যন্ত জলনির্ভর ফসল।’ শুধু উৎপাদন নয়ইথানল কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইথানল কারখানাগুলি বিপুল পরিমাণ ভিনাস’ বা বর্জ্যজল তৈরি করে। তা যথাযথ ভাবে পরিশোধন না হলে ভূপৃষ্ঠ এবং ভূগর্ভস্থ জলের দূষণ ঘটতে পারে।  

ইথানল উৎপাদনে ধানের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানোর পথে হাঁটছে কেন্দ্র। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ইথানল উৎপাদনের জন্য ৫২ লক্ষ টন ধান বরাদ্দ করা হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে সে পরিমাণ বাড়িয়ে ৯০ লক্ষ টনে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে গণবণ্টন ব্যবস্থার আওতায় দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ভাঙা চালের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া চাল সরাসরি ডিস্টিলারিগুলিতে পাঠানো হবে। এখানেই উঠছে  খাদ্য বনাম জ্বালানির প্রশ্ন। কৃষি বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কাখাদ্যশস্যের ক্রমবর্ধমান অংশ যদি জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়তা হলে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তার উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।

কিষাণ তক’-এর সম্পাদক ওম প্রকাশ এ প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘এক জন কৃষক যখন এক কিলোগ্রাম ধান উৎপাদনের জন্য ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ লিটার জল ব্যবহার করেনতখন তাঁকে ভূগর্ভস্থ জলস্তর কমিয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী করা হয়। অথচ শিল্পক্ষেত্রে এক লিটার ইথানল উৎপাদনের জন্য ১০ হাজার লিটারেরও বেশি জল ব্যবহার হলেও সে শিল্পকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না। উদ্বেগ আরও বেড়েছে দেশের বর্তমান জলপরিস্থিতির কারণে। নীতি আয়োগ-এর কম্পোজিট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনডেক্স’-এ সতর্ক করা হয়েছে২০৩০ সালের মধ্যে দিল্লিবেঙ্গালুরু এবং চেন্নাই-সহ দেশের ২১টি বড়ো শহরে ভূগর্ভস্থ জলের ভাণ্ডার কার্যত শূন্যের কোঠায় পৌঁছে যেতে পারে।

কেন্দ্রীয় ভূগর্ভস্থ জল বোর্ডের ২০২৫ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ীদেশে বছরে ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণ ক্ষমতা ৪৪৮.৫২ বিলিয়ন ঘনমিটার। অন্যদিকেবার্ষিক উত্তোলনযোগ্য জলসম্পদের পরিমাণ ৪০৭.৭৫ বিলিয়ন ঘনমিটার। ইতিমধ্যেই দেশের বহু অঞ্চলকে অতিরিক্ত শোষিত’, ‘সংকটজনক’ এবং আধা-সংকটজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উদ্বেগের বিষয়দেশের মোট ইথানল উৎপাদন ক্ষমতার বড়ো অংশই এমন রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রীভূতযেখানে জলসংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বর্তমানে ভারতের মোট ইথানল উৎপাদন ক্ষমতা ১,৮২২ কোটি লিটার থেকে বেড়ে প্রায় ১,৯৫০ কোটি লিটারে পৌঁছেছে। মহারাষ্ট্রে একাই ৩৯৬ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ইথানল কারখানা রয়েছে। অথচ বিদর্ভ এবং মারাঠওয়াড়ার বিস্তীর্ণ অংশে পানীয় জলের সংকট প্রতি বছরই চরম আকার নেয়। মহারাষ্ট্রে এ বছর স্বাভাবিকের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

একই ভাবেউত্তরপ্রদেশ এবং কর্নাটকের ইথানল কারখানাগুলিও এমন সব ভূগর্ভস্থ জলভাণ্ডারের উপর নির্ভর করছেযেগুলিকে ইতিমধ্যেই বিপজ্জনক ভাবে নিঃশেষপ্রায় বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকনমিক্স অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল অ্যানালিসিস বা আইইইএফএ-র জ্বালানি বিশেষজ্ঞ স্বাতী সেশাদ্রি বলেন, ‘আখচাষের সুবিধার জন্য অধিকাংশ ইথানল কারখানা সেসব অঞ্চলে গড়ে উঠেছেযেখানে বহু বছর ধরেই ভূগর্ভস্থ জলের উপর তীব্র চাপ রয়েছে। ব্যাপক হারে ইথানল উৎপাদন পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।’ পাঞ্জাব ও  হরিয়ানার কৃষকদের বহু বছর ধরে ভূগর্ভস্থ জলস্তর কমে যাওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে। অথচ এখন সেই একই ফসল শিল্পোৎপাদনের মাধ্যমে জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাকে সবুজ জ্বালানি’ বলে প্রচার করা হচ্ছে। এই বৈপরীত্য উপেক্ষা করা কঠিন।

ভারতে বর্তমানে শস্যভিত্তিক ইথানল উৎপাদনের অংশ প্রায় ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশ আসে আখ থেকে। অল ইন্ডিয়া ডিস্টিলার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি বিজেন্দ্র সিং জানিয়েছেনমোট ইথানল উৎপাদনের প্রায় ৪৮ শতাংশের কাঁচামাল ভুট্টা। সরকারের লক্ষ্য যদি ভবিষ্যতে ই-১০০-র দিকে এগোনো হয়তা হলে বর্তমান ১,০৫০ কোটি লিটারের চাহিদা বেড়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি লিটারে পৌঁছতে পারে। সে লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে উৎপাদন অন্তত পাঁচ গুণ বাড়াতে হবে। কিন্তু সে সঙ্গে বাড়বে জলের চাহিদাও। এমন এক সময়েযখন ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে যেচলতি মরসুমে দীর্ঘমেয়াদি গড়ের মাত্র ৯২ শতাংশ বৃষ্টিপাত হতে পারে। প্রায় এক দশকের বেশি সময় পরে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বর্ষার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় জল কমিশনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ীদেশের জলাধারগুলিতে জলসঞ্চয়ের পরিমাণ ৪০ শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছে।

ফলে, জ্বালানি নিরাপত্তাকৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির লক্ষ্যের সঙ্গে জলসম্পদের সুরক্ষার ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন কেন্দ্রের সামনে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে প্রথম প্রজন্মের (১জি) ইথানল থেকে ধীরে ধীরে দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) ইথানলের দিকে অগ্রসর হওয়া। দ্বিতীয় প্রজন্মের ইথানল উৎপাদনে জোর দেওয়াকৃষিজ বর্জ্য ও বাঁশের মতো বিকল্প কাঁচামালের ব্যবহার বাড়ানোজলসমৃদ্ধ অঞ্চলে নতুন কারখানা স্থাপন এবং সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থার প্রসার ছাড়া এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। পাশাপাশি, ইথানল উৎপাদনকারী কারখানাগুলির অবস্থান নির্বাচনেও সরকারকে নতুন করে ভাবতে হবে। বর্তমানে মহারাষ্ট্রউত্তরপ্রদেশ,  কর্নাটকের মতো জলসংকটপূর্ণ রাজ্যগুলিতে বিপুল সংখ্যক ডিস্টিলারি গড়ে উঠেছে। নতুন কারখানার অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূগর্ভস্থ জলস্তরবৃষ্টিপাতের ধরন  জলপ্রাপ্যতার বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। জলপ্রাচুর্য রয়েছে এমন অঞ্চলে শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হলে স্থানীয় জলভাণ্ডারের উপর চাপ কমবে।

কৃষিক্ষেত্রে জলসাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখনো দেশের বহু এলাকায় আখ, ধান, গম চাষে প্লাবন-সেচ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়যেখানে বিপুল পরিমাণ জল অপচয় হয়। এর পরিবর্তে ড্রিপ সেচ এবং মাইক্রো-সেচ পদ্ধতি চালু করা গেলে সেচের জলের ব্যবহার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এর জন্য কৃষকদের আর্থিক প্রণোদনাভর্তুকি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। ডিস্টিলারিগুলিতেও জল ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে হবে। আধুনিক জিরো লিকুইড ডিসচার্জ’ বা জেডএলডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্যজল পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব। এতে কারখানা থেকে নির্গত ভিনাস’ নামে পরিচিত দূষিত বর্জ্যজল শোধন করে পুনরায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা যায়। এর ফলে নতুন করে ভূগর্ভস্থ জল তোলার প্রয়োজন কমে।

বিশেষজ্ঞদের মতেইথানল নীতিকে কেন্দ্রীয় জলনীতির সঙ্গে সমন্বিত করাও জরুরি। বর্তমানে ইথানল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সময় কোনো অঞ্চলের জলসংকট বা ভূগর্ভস্থ জলের অবস্থা যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। ভবিষ্যতে কাঁচামাল বরাদ্দডিস্টিলারি স্থাপন এবং উৎপাদনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে জলপদচিহ্নকে একটি বাধ্যতামূলক সূচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে ভারতের সামনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে— জ্বালানি বৈচিত্র্যকরণ। ইথানলের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যানবাহনসবুজ হাইড্রোজেন এবং সৌরশক্তির মতো বিকল্প জ্বালানির প্রসার ঘটানো গেলে ইথানলের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে। কারণজ্বালানি নিরাপত্তার পথে এগোতে গিয়ে যদি দেশের জলনিরাপত্তাই বিপন্ন হয়ে পড়েতা হলে সে মূল্য আগামী  প্রজন্মকে জীবন দিয়ে চোকাতে হতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!