Advertisement
  • দে । শ
  • মে ৫, ২০২৬

কাজিরাঙায় পর্যটনের নতুন রেকর্ড, বিদেশি আগমনেও নজির। ২৫–২৬ অর্থবছরে ৪.৬৮ লক্ষের বেশি পর্যটক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কাজিরাঙায় পর্যটনের নতুন রেকর্ড, বিদেশি আগমনেও নজির। ২৫–২৬ অর্থবছরে ৪.৬৮ লক্ষের বেশি পর্যটক

অরণ্য পর্যটনের ক্ষেত্রে নজির গড়ল সমের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান। ২০২৫২৬ অর্থবছরে  মোট পর্যটক আগমনের সংখ্যা পৌঁছল ৪,৬৮,১৪৭-এ। যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর মধ্যে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ৩০,৪৭৪, অতীতের চেয়ে প্রায় ৪.৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক পর্যটনের এ ঊর্ধ্বগতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত উদ্যান কর্তৃপক্ষ। উদ্যানের পরিচালক সোনালি ঘোষ জানিয়েছেনগত এক দশকে কাজিরাঙায় পর্যটকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০১৬১৭ অর্থবছরে যেখানে পর্যটক সংখ্যা ছিল প্রায় ১.৫৫ লক্ষসেখানে বর্তমানে তা প্রায়  গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে ধাক্কা সামলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে ঐতিহ্যবাহী অরণ্য

প্রশাসনিক সূত্রের দাবিচলতি বছরের শুরু থেকেই পর্যটকের ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল। শুধু এপ্রিল মাসেই উদ্যানটিতে ৪৯,৩২২ জন পর্যটক এসেছেনযার মধ্যে ২,১১৬ জন বিদেশি। পর্যটন মরশুম শেষ হওয়ার আগেই এই প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। কাজিরাঙার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের ভিভিআইপি সফরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের সফরপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক উপস্থিতি— এসবই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্যানটির পরিচিতি আরও বাড়িয়েছে। পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নেতৃত্বে ৬০ জন রাষ্ট্রদূতের প্রতিনিধি দলের সফরও কাজিরাঙার কূটনৈতিক পর্যটন মর্যাদাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।

কর্মকর্তাদের মতেশুধুমাত্র বন্যপ্রাণী দর্শনের গণ্ডিতে আটকে না থেকে কাজিরাঙা এখন অভিজ্ঞতাভিত্তিক পর্যটনের দিকে এগিয়েছে। পানবাড়িতে বার্ড সাফারিকোহোরায় সাইক্লিং ট্রেইলবিশ্বনাথ এলাকায় নৌকা ও জিপ সাফারি এবং কার্বি আংলংয়ের হেমটাপ পাহাড়ে কমিউনিটি ট্রেকিং— এসব নতুন উদ্যোগ পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে বহু গুণ। একইসঙ্গে ইকো-ট্যুরিজমের দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ইকো-ডেভেলপমেন্ট কমিটি এবং স্টাফ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে পরিচালিত ইকো-শপে স্থানীয় হস্তশিল্প ও স্মারক বিক্রি হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পর্যটকের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হচ্ছেঅন্যদিকে স্থানীয়দের জীবিকাতেও গতি এসেছে।

অসম সরকারের দাবিকাজিরাঙার পর্যটন বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতে। হোটেললজরেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ীদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতেসংরক্ষণপরিকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় অংশগ্রহণএই তিন স্তম্ভের সমন্বয়েই কাজিরাঙা আজ আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে।ই উনেস্কো স্বীকৃত এ উদ্যানের পরিচিতি মূলত একশৃঙ্গ গণ্ডারের আবাসস্থল হিসেবে হলেওএখন তা বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবেও জায়গা করে নিচ্ছে। কাজিরাঙার এই ধারাবাহিক সাফল্য রাজ্যের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!