Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৪, ২০২৬

কলকাতা পুরসভাতেও কি ‘নতুন তৃণমূল’? ফিরহাদ-জটিলতায় কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তুঙ্গে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কলকাতা পুরসভাতেও কি ‘নতুন তৃণমূল’? ফিরহাদ-জটিলতায় কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তুঙ্গে

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথমে পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ হাত বদল হয়েছে, এখন সংসদীয় দলেও ভাঙনের জল্পনা জোরালো হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে পারে কলকাতা পুরসভাও ! রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভার ধাঁচে পুরসভার অন্দরেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে একটি ‘নতুন তৃণমূল’, যা কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল বলে দাবি করতে পারে।

পালাবদলের পর থেকেই কলকাতা পুরসভার পরিস্থিতি ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন বরো চেয়ারম্যান এবং একাধিক কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। দেবলীনা বিশ্বাস, তারক সিং, অরূপ চক্রবর্তী ও সুশান্ত ঘোষের মতো পরিচিত মুখও সেই তালিকায় রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দু-দফা কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে সে বৈঠকেও বহু কাউন্সিলরের অনুপস্থিতি দলের অন্দরের অসন্তোষের ইঙ্গিত দিয়েছে।

অন্যদিকে, পালাবদলের পর অধিকাংশ কাউন্সিলর নিয়মিত পুরসভায় যাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্মেও প্রভাব পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিম পুরসভায় উপস্থিত থেকেও কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করতে পারেননি। যদিও এ ক্ষেত্রে পুর কমিশনারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে।

এরই মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়ায় যে ফিরহাদ হাকিম মেয়রের পদ ছাড়তে পারেন। যদিও তিনি নিজে সরাসরি এমন কোনো ঘোষণা করেননি। কিন্তু বুধবার বিকেলে বিধানসভায় ‘নতুন তৃণমূল’-এর আত্মপ্রকাশের পর কালীঘাট থেকে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, দলের সম্মানরক্ষার্থে ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাতে সম্মতি দিয়েছেন। মুহূর্তে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে মেয়র পদত্যাগ করছেন। তবে পরে ফিরহাদ হাকিম নিজেই সে জল্পনা খণ্ডন করে জানান, তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি। যদিও দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি ইস্তফা দিতে পারেন।

রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন — ফিরহাদের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের আগেই কেন তাঁর পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আনা হল? তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, ফিরহাদের কিছু সাম্প্রতিক পদক্ষেপে নেত্রী অসন্তুষ্ট। বুধবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকলেও পরে কালীঘাটে দলীয় বৈঠকে তাঁকে দেখা যায়নি। পাশাপাশি, নবান্নের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নিয়েও দলের একাংশে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, এই ঘটনাগুলিই কালীঘাটের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করছে, ক্ষমতা হারানোর পরও কলকাতা পুরসভাকে দলের নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ। সে লক্ষ্যেই প্রয়োজনে ফিরহাদের পরিবর্তে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে মেয়র করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমান আইনে কাউন্সিলর না হয়েও মেয়র হওয়া সম্ভব, যদিও নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে তাঁকে জয়ী হতে হবে ৬ মাসের মধ্যে।

দলীয় সূত্রের দাবি, ৫ জুনের মধ্যে ফিরহাদের পদত্যাগ চায় কালীঘাট। কিন্তু ফিরহাদ তাতে রাজি নন বলেই জানা যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি যদি সংঘাতের দিকে গড়ায়, তবে কলকাতা পুরসভার অন্দরেও ‘নতুন তৃণমূল’-এর জন্ম হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে ফিরহাদের নেতৃত্বে বহু কাউন্সিলর কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করতে পারেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শুধু বিধানসভা নয়, কলকাতা পুরসভার ‘ছোট লালবাড়ি’র উপর থেকেও কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আর সেটাই হতে পারে তৃণমূলের সামনে নতুন রাজনৈতিক সংকটের সূচনা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!