Advertisement
  • এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • ডিসেম্বর ৪, ২০২৫

ছোটো গল্পের বিশ্বরূপদর্শন, জানুয়ারিতেই মহানগরে আন্তর্জাতিক শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ছোটো গল্পের বিশ্বরূপদর্শন, জানুয়ারিতেই মহানগরে আন্তর্জাতিক শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

‘নীড় ছোটো ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড়ো’— সহজ কথা, অথচ ঠিক ততটা সহজ নয়। আজকের দ্রুতগামী পৃথিবীতে মানুষের চাহিদার সীমাপরিসীমা নেই, আর তা পূরণ করতে অদ্ভূত এক উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। গল্প বলতে, গল্প শুনতে নয়া প্রজন্মের হাতে সময় আর ইচ্ছা দুটোই খুব কম। এই সংকটের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রয়েছে শর্ট ফিল্ম, যে কয়েক মিনিটের মধ্যে মানুষের মন জয় করতে পারে, সমাজের কথা বলতে পারে এবং সংস্কৃতির নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। যে জানান দেয়, ছোটো মানেই সে নীরব নয়, জোড়ালো বক্তব্যে সেও বড়ো প্রভাব ফেলতে পারে।

চলচ্চিত্রের জন্মই আসলে শর্ট ফিল্মের হাত ধরে। ১৮৯৫ সালে লুমিয়ের ব্রাদার্সের ৪৫–৫০ সেকেন্ডের ছোটো ছোটো বাস্তবচিত্র — ‘ওয়াকার্স লিভিং দ্য ফ্যাক্টরি’, ‘অ্যারাইভাল অফ ট্রেন’-ই ইতিহাসের প্রথম সংক্ষিপ্ত চলচ্চিত্র। তখন প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, ক্যামেরার রিল-দৈর্ঘ্য, এবং দর্শকের সিনেমার প্রতি নতুন আকর্ষণ, এই তিন কারণে ছোটো ছবিই ছিল স্বাভাবিক ফরম্যাট। মেলিয়েসের ‘আ ট্রিপ টু দ্য মুন’ (১৯০২) ছিল প্রথম দিকের আলোচিত ‘ফিকশন শর্ট ফিল্ম’, যেখানে জাদু, কল্পবিজ্ঞান ও গল্পের রূপকাঠামো প্রথমবার দেখল অগুনতি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাওয়া দর্শক। তখনও কেউ জানত না, ওই ক্ষণিক দৈর্ঘ্যের ভিতের উপরই একদিন গড়ে উঠবে শতবর্ষের সপ্তম শিল্প। কালের স্রোতে বদলেছে প্রযুক্তি, বদলেছে দর্শকের রুচি। তবু শর্ট ফিলমের আবেদন চিরকাল ছিল আলাদা—ঘনীভূত নাটকীয়তা, ন্যূনতম সময়ে গল্প বলার তীব্র ক্ষমতা আর নির্মাতার সৃজনী স্বাধীনতার অফুরন্ত সম্ভাবনা।

এরপর আসে স্বর্ণযুগ। চলচিত্রের বহুমুখী দিগন্তে, ছোটো ছবিও তার বহুমাত্রিক রঙ ছড়াতে থাকে। অ্যানিমেশনের জগতে ওয়াল্ট ডিজনি ‘স্টিমবোট উইলি’ দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ইউরোপে লুইস বুনুয়েল ‘আঁ স্যাঁ আনদালু’–র মাধ্যমে গল্প বলার নতুন দিক দেখান, যা আজও দর্শক ও ছবি নির্মাতাদের ভাবনার খোরাক জোগায়। সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে সরাসরি কথা বলতে শুরু করে শর্ট ফিল্ম ৬০–৮০-এর দশকে। স্পাইক লির ‘জো’স বেড-স্টাই বার্বারশপ’ সেই ধারার শক্তিশালী উদাহরণ। বিশ্বের সিনে মানচিত্রে সংক্ষিপ্ত আখ্যানের গতিপথ বহু ঢেউ দেখেছে। বিংশ শতকের গোড়ায় নির্বাক চলচিত্রের অনন্যে, চ্যাপলিন, বাস্টার কিটন কিংবা জর্জ মেলিয়েসের কল্পবিজ্ঞান— সবই শুরু হয়েছিল অল্প সমইয়ে ছাপ রেখে যাওয়ার স্বপ্ন থেকে। বিশ্বযুদ্ধের সময় তথ্যচিত্র-ভিত্তিক প্রোপাগান্ডা শর্ট ছিল শাসকের অন্যতম হাতিয়ার। পরে ফিল্ম স্কুলের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে নতুন ভাষা পেল এক পরীক্ষামূলক প্রজন্ম। ডিজিটাল যুগ এল আর শর্ট ফিলম ছুঁয়ে ফেলল তাঁর নিজস্ব গণতন্ত্রের আকাশ— ইউটিউব, ভিমিও, আন্তর্জাতিক উৎসবের রেড কার্পেট। প্রযুক্তির দরজা খুলতেও হল না; সবাই নিজস্ব ক্যামেরা আর কল্পনাই হয়ে উঠলেন নির্মাতা। ‘ওয়ার্ল্ড অফ টুমরো’ বা ‘পেপারম্যান’–এর মতো ফিল্ম দেখিয়ে দিয়েছে, কল্পনা, আবেগ, ভবিষ্যতের চিন্তা, এ সবই কয়েক মিনিটে প্রকাশ করা সম্ভব। আজ বিশ্বের স্বতন্ত্র কণ্ঠরোধকারীরা, নতুন নির্মাতারা, এবং সাহসী গল্পকাররা শর্ট ফিল্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। আন্দোলিত করছেন সিনেপ্রেমিকদের নরম বুক।

ভারতেও ইতিহাস প্রায় একই রেখায় আঁকা। দাদাসাহেব ফালকের ‘রেসলার্স’–এর মধ্যেই এঁকে দেয় দেশের শর্ট ফিল্ম ঐতিহ্য। পরের কয়েক দশক ব্রিটিশ আমলে সংবাদচিত্রের রমরমা, স্বাধীনতার পর ‘ফিল্ম ডিভিশন’-এর তথ্যচিত্র একসময় হয়ে ওঠে প্রায় নাগরিক-শিক্ষার পাঠ্যবই। তারপর এফটিআইআই ও এসআরএফটি আই-এর ছাত্রনির্মিত পরীক্ষামূলক শর্ট ফিলম আসতে শুরু করে। যেখানে কুমার শাহানি থেকে মণি কৌল পর্যন্ত অনেকে তাঁদের শুরুর ভাষা খুঁজে পেয়েছেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘টু’ (১৯৬৪), ‘দ্য ইনর আই’ (১৯৭২), ‘বালা’ (১৯৭৬) ‘পিকু’ (১৯৮০) স্বল্প দীর্ঘের ছবি, কিংবা ঋত্বিক ঘটকের ‘ফিয়ার’ (১৯৬৫) ‘আমার লেনিন’ (১৯৭০), মৃণাল সেনের ‘কভি দূর, কভি পাশ’ (১৯৮৬-৮৭), শ্যাম বেনেগালের ‘চাইল্ড অফ দ্য স্ট্রিটস’ (১৯৬৭), ‘ঘের বেথা গঙ্গা’ (১৯৬২) ‘হিরো’ (১৯৭৫), এ ছাড়াও, খওয়াজা আহমেদ আব্বাস, সাই পরাঞ্জপে , জবরেজ খান, জানকী বিশ্বনাথন, এল. ভি. প্রসাদ, বি. ভি. করান্ত , বিভূতি লাহিড়ী, হৃষিকেশ মুখার্জি কৃষ্ণমূর্তি, এস. সত্যু, গিরিশ কাসারাভল্লি, অরিবিন্দন, শিবেন ভট্টাচার্য, অদূর গোপালকৃষ্ণন প্রমূখ স্বল্পদীর্ঘের ছবি অথবা ডকুফিল্মকে যে অনায়াসে কাব্যিক উদারতার উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যায়, সে-প্রমাণ রেখে গেছেন বারবার।

এমন শক্তিশালী মাটি থাকা সত্ত্বেও, ভারতের পুর্ণদীর্ঘের ছবির জোয়ারে ভারতীয় শর্ট ফিল্ম দীর্ঘদিন সীমাবদ্ধ ছিল আর্থিক সংকটে, প্ল্যাটফর্মের অভাবে এবং দর্শকের অচেনা দৃষ্টির কারণে। শর্ট ফিল্ম দেখার উপায়ই খুব কম ছিল। একরকম অচলাবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা এই মাধ্যমটিকেই পুনর্জাগরণ দিল ডিজিটাল বিপ্লব— তারও অধিক, ওটিটি-র আগমন। নতুন যুগ যেন হঠাৎই জানিয়ে দিল, সিনেমার দৈর্ঘ্য নয়, গল্পই মূল। সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের চাহিদা পাল্টেছে। ফলে শর্ট ফিল্ম হয়ে উঠল নির্মাতার তীক্ষ্ণ মত প্রকাশের ক্ষেত্র। কম সময়ে তীব্র বার্তা, এটাই এখন সময়ের দাবি। নেটফ্লিক্সের ‘গোস্ট স্টোরিজ’ হোক বা অ্যামাজনের ‘আনপজড’, বঙ্গের নিজস্ব হইচই, সবাই শর্ট ফরম্যাটকে জায়গা দিল অ্যান্থলজির মাধ্যমে। ফলে নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা পেলেন অভূতপূর্ব স্বাধীনতা।বাজেট বাড়ল, ক্যামেরা হল আরও নিখুঁত, সম্পাদনা পেল আন্তর্জাতিক ছাঁদ। দক্ষিণ ভারতে দেখা গেল ভিএফএক্স-নির্ভর উচ্চমানের শর্ট, বাংলা ও মালয়ালমে মিলল ভাষাভিত্তিক ধারার নতুন ওঠানামা। এখন শর্ট ফিলম শুধু চলচ্চিত্র-শিক্ষার্থীর পাঠ-পর্ব নয়; বরং বড়ো প্রযোজনা সংস্থার কাছে নির্মাতার পরিচয়পত্র। ওটিটি এসে বদলে দিয়েছে চিত্রভুবনের সংগীত। যেখানে দুই ঘণ্টার সিনেমা বানানোর আগে নির্মাতা ছুঁয়ে দেখছেন ১২–২০ মিনিটের শর্ট ফরম্যাট। যেখানে দর্শক দ্রুততর, শহর দ্রুততর, আর গল্প বলার ধরনও সেই তাড়াহুড়োর ভিতরেই খুঁজে পাচ্ছে নতুন সৌন্দর্য। কখনো বা সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটছে অকালেই। তবুও, শেষ পর্যন্ত, শর্ট ফিল্ম একটা বিদ্রোহের মতো। বহু তরুণ হতদরিদ্র, মধ্যবিত্ত বহু সিনেমা নির্মাতা, কলেজের ছাত্র, ভবঘুরে বেকারের কাছে এটি একটি অমোঘ শিল্পরূপ, কবিতার মতোই তার আনাগোনা। শব্দ কম, ইঙ্গিত বেশি; সময় কম, গভীরতা বেশি।

এই মুহূর্তে শীতের আমেজে মাখামাখি মহানগর। চারপাশের বিবিধ দূষণের ভারে কিছুটা ক্লান্ত, ঘরমুখী। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উত্তাপ এখনো মিলিয়ে যায়নি। তার মাঝেই ফের একঝাঁক ইচ্ছেডানার ঝাপটানি। ফের এক সংস্কৃতি-উৎসব। ফের সিনেমাপ্রেমীদের জন্য বড়ো সুখবর। শুরু হতে চলেছে আন্তর্জাতিক কলকাতা শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল বা আইকেএসএফএফ। নতুন বছরের প্রথম দিকেই ছোটো ছবির এমন সমারোহ, এমন জমজমাট মেলা কলকাতাকে আবারও টেনে নিয়ে যাচ্ছে সিনেমার বিশ্বরূপদর্শনে। উৎসবের পরিচালনার দায়ভার নিয়ে দাঁড়িয়ে ‘সিনে ব্রিজ’— স্বাধীন নির্মাতা, নতুন পরিচালক ও তরুণ প্রতিভাদের স্বপ্নপূরণের এক অভিনব ইন্ডাস্ট্রি মার্কেট প্ল্যাটফর্ম। যে প্ল্যাটফর্মে প্রথম বারের মতো কলকাতায় একসঙ্গে বসবেন ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রোডাকশন হাউসের প্রতিনিধি, নামী ওটিটি সংস্থার কর্তারা, বিনিয়োগকারী ও চলচ্চিত্র শিল্পের বড়ো বড়ো সিদ্ধান্তগ্রহণকারীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র উৎসবের গ্রাউন্ডে থেকেও ‘বড়ো বাজারে’ পৌঁছতে না পারা বহু প্রতিভাবান শর্ট ফিল্ম নির্মাতার জন্য এ প্ল্যাটফর্ম যেন নতুন দিগন্তের দরজা।

উৎসবের চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী এ প্রসঙ্গে বললেন, ‘ভারতে প্রতিভার ঘাটতি কোনোদিনই ছিল না। ছিল শুধু সুযোগের অভাব। সেই অভাব পূরণ করতেই ‘সিনে ব্রিজ’। আমাদের লক্ষ্য—ছোটো ছবিকে বড়ো পরিসরে নিয়ে যাওয়া, নির্মাতাদের সামনে মূল বাজারের দরজা খুলে দেওয়া।’ তাঁর কথার সুরে সুর মিলিয়েছেন ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টর সস্বতী গুহ চক্রবর্তীও। তিনি জানালেন, ‘এই উৎসব শুধু প্রদর্শনীর মঞ্চ নয়, ভবিষ্যতের পথ তৈরিরও ক্ষেত্র। ডিজিটাল-পারদর্শী আজকের সময়ে দর্শকসংখ্যাকে বহুগুণে বাড়ানোর সেরা মাধ্যমই হাইব্রিড ফরম্যাট। তাই অনলাইন-অফলাইন মিলিয়েই এবার মেলা।’ ২০২০ সালে শুরু হওয়া আইকেএসএফএফ আজ পূর্ব ভারতের সবচেয়ে পরিচিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এক শর্ট ফিল্ম উৎসব। ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ের লিটল ল্যাম্ব প্রোডাকশন, ইওন ফিল্মস, কলকাতার একাধিক প্রযোজনা সংস্থা এবং বেশ কয়েকটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। উৎসবের দিনগুলিতে আদামাস ইউনিভার্সিটি, সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি এবং রোটারি সদন পরিণত হবে ছোট ছবির পর্দাঘরে। তার পাশাপাশি অনলাইন স্ক্রিনিং চলবে ইফিল্মজোনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।

এ বছর প্রায় ৩২টি দেশ থেকে এসেছে ৩০০-রও বেশি শর্ট ফিল্ম, ডকুমেন্টারি, মিউজিক ভিডিও ও এক্সপেরিমেন্টাল কাজ। সেই সমস্ত জমার ভিড় থেকে নানা বিভাগের নির্বাচিত চলচ্চিত্রের তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। আন্তর্জাতিক বিভাগে ইজরায়েলের ‘ব্ল্যাক বেলুনস’, রাশিয়ার ‘ট্রেজর দ্য ডগ’, তাইওয়ানের ‘হাও টু কিল আ চিকেন’, আমেরিকার ‘গ্রে স্কাইজ’, মেক্সিকোর ‘রিলিফ’— প্রতিটি ছবির গল্প বলার নিজস্ব কৌশলে আলাদা, স্বতন্ত্র, মন জয় করার মতো। জাতীয় বিভাগে রয়েছে ‘রু বা রু’, ‘ইকোজ অফ আস’, ‘আলমারি কা আচার’, ‘বিয়ন্ড দ্য স্যান্ডস’, ‘হাউ টু ইট বার্থডে কেক’ এবং ‘কেজড’— নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের নিরীক্ষাধর্মী দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট ছাপ। আর বাংলা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে ‘কবুল হ্যায়’, ‘ইফ’, ‘মিষ্টি’, ‘উল্টো রাজার দেশে’, ‘আ স্ট্রেঞ্জ ডার্কনেস’, ‘ইতি: দ্য বিগিনিং’, ‘কিং কর্তব্য’ এবং ‘ঘি’—প্রতিটি ছবিই বাংলার গল্প বলার পরম্পরার সঙ্গে আধুনিকতার সহাবস্থানকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চায়।

শুধু শর্ট ফিল্ম নয়। উৎসবের পরিসরে থাকছে শর্ট ডকুমেন্টারি, মিউজ়িক ভিডিও, পিএসএ এবং বিজ্ঞাপন ফিল্মের কিউরেটেড প্রদর্শনীর আলাদা আয়োজন। শিল্পের নানা দিকের প্রতিফলন ঘটানোর এক প্রচেষ্টা। আর এই উৎসবের বড় আকর্ষণ—‘শর্টফ্লিক্স’। ফেস্টিভ্যালের অফিসিয়াল ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নির্মাতারা তাঁদের ছবির মাধ্যমে রেভিনিউ শেয়ারের সুযোগ পাবেন। দর্শকের কাছে সহজে পৌঁছনোর পথে এক নতুন জানালা। পুরো উৎসব জুড়ে চলবে নানা সেমিনার, আলোচনা আর মাস্টারক্লাস। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে ভবিষ্যতের সিনেমাকে বদলে দেবে, পুরুষের আবেগ ও বঞ্চনা কেন মূলধারার সিনেমায় কম প্রতিফলিত হয়, ডিজিটাল যুগে সিনেমার রূপান্তর— এ সব বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে আদামাস ও সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটিতে। বিশেষ করে অধ্যাপক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের মাস্টারক্লাস ঘিরে ইতিমধ্যেই উৎসাহ তুঙ্গে। সব মিলিয়ে ছোটো ছবির এত বড়ো সম্মিলন, এত বিস্তৃত আয়োজন এবং এত দর্শকের অপার কৌতূহল আবারও যেন প্রমাণ করতে চায়, ‘সংস্কৃতির রাজধানী’ হিসেবে কলকাতার পরিচয় কেন আজও অটুট। আগামী ২০ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শহর জুড়ে চলবে এই মেলা। রোটারি সদনে ২৫ জানুয়ারির অ্যাওয়ার্ড ও ক্লোজিং সেরিমনি দিয়ে শেষ হবে ২০২৬-এর আন্তর্জাতিক কলকাতা শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। যাঁরা শর্ট ফিল্ম জমা দিতে চান বা আরও তথ্য জানতে ইচ্ছুক, তাঁরা যেতে পারেন উৎসবের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে—iksff.co.in/cinebridge। নতুন বছরের শুরুতেই কলকাতা সাজছে আলো, পর্দা আর গল্পের জাদুতে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!