- দে । শ
- মার্চ ৯, ২০২৬
এসআইআর নিয়ে ব্যস্ততা, রাজ্যে লোক আদালতের দিনবদল
রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এস আই আর প্রক্রিয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বহু বিচারক ও জুডিশিয়াল অফিসার। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১৪ মার্চ রাজ্যের সমস্ত জেলায় যে জাতীয় লোক আদালত বসার কথা ছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, এস আই আর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বিচারকদের একটি বড়ো অংশকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে জেলা ও নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাঁধে ভোটার তালিকা সংশোধনের বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আদালতের স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়াতেও। সেই কারণেই ১৪ মার্চ নির্ধারিত জাতীয় লোক আদালত আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। কবে নতুন করে এই লোক আদালত অনুষ্ঠিত হবে, তা পরে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ওই দিন লোক আদালত বসার কথা ছিল। সাধারণত ট্র্যাফিক আইন ভঙ্গ, দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলা, দাম্পত্য কলহ, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হয় লোক আদালতে। অনেক ক্ষেত্রেই খুব কম খরচে বা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি সহায়তা মেলে। সারা দেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও বছরে একাধিকবার আদালত প্রাঙ্গণে লোক আদালত আয়োজিত হয়।
এদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ‘ডিসপিউটেড’ বা বিতর্কিত ভোটারের সংখ্যা এখন প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। এঁদের নথি বর্তমানে ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ অর্থাৎ বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। ফলে বড় প্রশ্ন উঠছে—এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নথি নিষ্পত্তি করতে বিচারকদের কত সময় লাগবে এবং বিধানসভা নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে তাঁদের মধ্যে কতজনের নাম শেষ পর্যন্ত সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।
কয়েক সপ্তাহ আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টের স্টেটাস রিপোর্টের ভিত্তিতে জানিয়েছিল, তখন পর্যন্ত যত বিচারক এই কাজ করছিলেন, তাতে প্রত্যেকে যদি গড়ে প্রতিদিন ২৫০টি করে শুনানি নিষ্পত্তি করেন, তবুও সমস্ত কাজ শেষ হতে প্রায় ৮০ দিন সময় লাগবে।
সেই সময় প্রায় ২৫০ জন বিচারক এস আই আর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত ছিলেন। তবে সিইও দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে এই কাজে প্রায় ৫৩০ জন বিচারক কাজ করছেন। প্রয়োজনে সিভিল জজ (সিনিয়র ও জুনিয়র ডিভিশন) ছাড়াও পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ড ও ওডিশার বিচারকদেরও কাজে লাগানোর অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে এত বিপুল সংখ্যক মামলার নিষ্পত্তিতে এখনও যে যথেষ্ট সময় লাগবে, তা স্পষ্ট।
❤ Support Us





