- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৩, ২০২৬
যন্তরমন্তরে নিষেধাজ্ঞা, গেট টপকে ভিতরে ঢুকে আটক ‘সিজেপি’ নেতা সৌরভ-আশুতোষ-অজিঙ্ক
যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পরের দিনই সে নির্দেশ অমান্য করে সেখানে ঢোকার অভিযোগ উঠল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতাদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে বন্ধ যন্তরমন্তরের গেট টপকে ভিতরে প্রবেশ করেন দলের দুই শীর্ষনেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কয়েক জন ‘সিজেপি’ সমর্থকও। ভিতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন তাঁরা। এরপরই সৌরভ, আশুতোষ-সহ দলের নেতা অজিঙ্ক শিন্দে ও অন্যান্য সমর্থকদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, আইনভঙ্গের অভিযোগে সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হতে পারে।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে ‘জনতা দল ইউনাইটেড’ (জেডিইউ)-এর কার্যালয়ের দিকের গেট টপকেই যন্তরমন্তরে প্রবেশ করেন ‘সিজেপি’ নেতারা। উল্লেখ্য, সোমবারই যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করে দিল্লি পুলিশ। তার পরের দিনই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যন্তর ন্তরের পরিবর্তে রাজধানীর তিনটি জায়গায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা যাবে। সেই জায়গাগুলি হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি এলাকা।
ঘটনাচক্রে, সোমবারই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের অনুমতি চাইতে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়েছিলেন ‘সিজেপি’ নেতারা। কিন্তু পুলিশের তরফে অনুমতি না-মেলায় ফের প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়ার কথা জানিয়েছিল দলের নেতৃত্ব। সে ঘটনার পর মঙ্গলবার যন্তরমন্তরে ঢুকে পড়েন সৌরভ ও আশুতোষেরা। যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ হওয়ার পরেই সোমবার সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ‘সিজেপি’-র প্রধান অভিজিৎ দীপ। তিনি লেখেন, ‘যন্তরমন্তরে আর প্রতিবাদ করতে দেবে না ওরা। এটা এখন আর প্রতিবাদস্থল নয়। ভিতু একনায়কের কারণে তা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এখন পুরো দেশ যন্তর মন্তর হবে।’ তাঁর এই মন্তব্যের পরের দিনই বন্ধ যন্তরমন্তরে প্রবেশ করে আটক হলেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ ও আশুতোষ।
ভোটপ্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেই কর্মসূচিকে ঘিরে আগেভাগেই দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আন্দোলনকারীরা যাতে দিল্লিতে পৌঁছে বিক্ষোভে যোগ দিতে না-পারেন, সে জন্য দিল্লিগামী ২৪০টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, বন্ধ রাখা হয়েছিল দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। শনিবার আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরের কাছাকাছি পৌঁছতে দেয়নি পুলিশ। বিভিন্ন জায়গায় জমায়েতের চেষ্টা হলে সেখানেই চলে ধরপাকড়। আন্দোলনকারীদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় আটকশিবিরে। এই পুলিশি পদক্ষেপের সঙ্গে ১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা জরুরি অবস্থার তুলনা করে ‘সিজেপি’।
এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে আক্রমণ করেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘আসল দেশদ্রোহী’ বলেও কটাক্ষ করেন দলের নেতারা। জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে বিজেপি কেন এত তৎপর, সেই প্রশ্নও তোলেন তাঁরা। ‘সিজেপি’-র প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি না-দেওয়ার কারণ রবিবার বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা করেন দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) নেহা যাদব। এর আগে গত জুলাই মাসে ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে যন্তরমন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিল সিজেপি। সেইপ্রসঙ্গ তুলে পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, আগের কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা নিয়ম মেনে চলেননি।
নেহা যাদবের বক্তব্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে সিজেপি-কে যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত অনেকে পাথর ছুড়েছিলেন এবং অস্ত্র নিয়ে এসেছিলেন বলে অভিযোগ। এর ফলে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পুলিশের বক্তব্য, আগের কর্মসূচিতে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এ বার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে এই বিষয়ে ‘সিজেপি’-র তরফে ওঠা অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে।
চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে প্রতিবাদ কর্মসূচির নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সেই নির্দেশিকায় পরিবর্তন আনা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
দিল্লি পুলিশের তরফে নির্দেশিকাটি ১১ অক্টোবর, রবিবার প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। যদিও সেটি প্রকাশ্যে আসে সোমবার। যন্তর মন্তরের আশপাশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর রয়েছে। সেই এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগেও একাধিক ইস্যুতে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করেছে ‘সিজেপি’। কয়েক মাস আগে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিল দলটি। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এ বার ভোটপ্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ, ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনের ডাক দেয় ‘সিজেপি’। কিন্তু যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় সেই কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। একদিকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার যুক্তি দেখিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অনুমতি না-দেওয়ার কথা বলছে দিল্লি পুলিশ, অন্যদিকে প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলছে ‘সিজেপি’। এই পরিস্থিতিতে বন্ধ যন্তর মন্তরে ঢুকে দলের নেতাদের আটক হওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও উস্কে দিল।
❤ Support Us







