- দে । শ
- মার্চ ২৬, ২০২৬
শতাব্দী প্রাচীন মাধাইতলা আশ্রমের সংস্কার
কোটি টাকা ব্যয়ে শতাব্দী প্রাচীন মাধাইতলা আশ্রমের নতুন রাধা-কৃষ্ণের মন্দিরের দ্বারোঘাটন হল। কাটোয়ার বিদায়ী বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জির উদ্যোগে কাটোয়াবাসী ও ভক্তদের আর্থিক সাহায্যে অনিন্দ্যসুন্দর নবকলেবর বৈষ্ণব মন্দিরের উদ্বোধন করলেন মন্দিরের প্রধান সেবাইত নিতাই দাস মহন্ত।
উদবোধনী অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তথা কাটোয়ার টানা ৬ বারের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি, পুরপ্রধান কমলাকান্ত চক্রবর্তীরা উপস্থিত ছিলেন। মাধাইতলা আশ্রমের প্রধান সেবাইত নিত্যানন্দ দাস বাবাজি বলেন, ‘বেহাল মন্দির সংস্কারের জন্য আমরা বিধায়কের কাছে গিয়েছিলাম। বিধায়ক রবীন্দ্রনাথবাবু মন্দিরের অবস্থা দেখে নতুন করে মন্দির নির্মাণের জন্য তৎপর হন। আমরা বিধায়কের কাছে কৃতজ্ঞ।’ দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাধাইতলা আশ্রমের মধ্যেই ভক্তনিবাস ও ভোগ ঘর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কাটোয়ার প্রাচীন ইতিহাস গবেষক রণদেব মুখার্জির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সপ্তদশ শতকের তৃতীয় দশকে বৃন্দাবনের এক বৈষ্ণব সাধক গোপীনাথ দাস বাবাজি কাটোয়ায় মাধাইয়ের সমাধি উদ্ধার করেন। বৃন্দাবনের ওই মহন্ত কাটোয়ায় গঙ্গাতীরবর্তী এলাকা মাধাইয়ের নামে উৎসর্গ করে বৈষ্ণব ধর্মের প্রচার-প্রসার শুরু করেছিলেন। কালক্রমে এই বৈষ্ণব সাধনস্থল ‘মাধাইতলা আশ্রম’ নামে পরিচিত হয়। বেশ কয়েক দশক পর দিল্লির বাদশার প্রতিনিধি হরিনারায়ণ রায়ের অর্থানুকূল্যে ৪২ শতক জমিতে মাধাইতলা মন্দির নির্মাণ হয়।
চৈতন্য উত্তরকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বৈষ্ণব ভক্তরা মাধাইতলা আশ্রম দর্শনে আসতেন। ১৯৫০ সালে বিশ্বের মানবকল্যাণে নিতাইরমণ দাস বাবাজি হাজার বছরের নাম সংকীর্তন কর্মসূচি শুরু করেন। ছিয়াত্তর বছর অতিক্রান্ত হয়েও আজ সেই হরিনাম সংকীর্তনে ছেদ পড়েনি। পুরনো মন্দির সম্পূর্ণ বেহাল হওয়ায় কাটোয়ার বিদায়ী বিধায়ক রবীন্দ্রনাথবাবুর উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীর সাহায্যে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মন্দির প্রাণ পেল। কথিত আছে চৈতন্য মহাপ্রভু সন্ন্যাসদীক্ষা গ্রহণের পূর্বে নদীয়ার নবদ্বীপ থেকে কাটোয়ায় এই মাধাইতলা আশ্রমে উঠেছিলেন। চৈতন্য স্মৃতি জড়ানো এই স্থানটি আজও বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী ও গবেষকদের গন্তব্য
❤ Support Us





