Advertisement
  • দে । শ
  • অক্টোবর ১৩, ২০২৬

মহারাষ্ট্রে তীব্র জলসঙ্কট! ১৫ অক্টোবর থেকে ‘জল-কার্ফু’, অপচয়ে জরিমানা, বেআইনি সংযোগে এফআইআর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মহারাষ্ট্রে তীব্র জলসঙ্কট! ১৫ অক্টোবর থেকে ‘জল-কার্ফু’, অপচয়ে জরিমানা, বেআইনি সংযোগে এফআইআর

উৎসবের মরশুমেই তীব্র জলসঙ্কটের মুখে মহারাষ্ট্র। অনাবৃষ্টি, দাবদাহ ও পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ক্রমশ কমছে জলাধারগুলির জলস্তর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জল ব্যবহারের উপর একাধিক বিধিনিষেধ জারির কথা সামনে এসেছে। জল অপচয় করলে দিতে হতে পারে ৫ হাজার টাকা জরিমানা। অন্যদিকে, বেআইনি জলসংযোগ কিংবা জলের মিটারে কারচুপি ধরা পড়লে দায়ের হতে পারে এফআইআর। নিয়ম ভাঙলে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে জল সরবরাহও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এই বিধিনিষেধকে ‘জল-কার্ফু’ বলে অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার কলের জল সরবরাহ বন্ধ রাখার নিয়ম চালু হওয়ার কথা। জলাধারে সঞ্চিত সীমিত জল যাতে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে পুণে, নাগপুর এবং ছত্রপতি সম্ভাজীনগরের মতো শহরগুলিতে জলসঙ্কটের প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। জনসংখ্যার চাপ, দৈনন্দিন জলের চাহিদা এবং কমে আসা জলভাণ্ডারের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে জল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে প্রশাসন। নয়া বিধিনিষেধ অনুযায়ী, জল অপচয় করলে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। অপ্রয়োজনে কলের জল ফেলে দেওয়া, পানীয় জল দিয়ে গাড়ি ধোয়া, রাস্তা ও বাড়ির উঠোন পরিষ্কার করা, সুইমিং পুলে জল ভরা, বাগানে পানীয় জল ব্যবহার এবং নির্মাণকাজে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল খরচ করার মতো কাজগুলিকে জল অপচয়ের আওতায় রাখা হয়েছে। জল সংরক্ষণে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানার মাধ্যমে অপচয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

শুধু জল অপচয় নয়, বেআইনি জলসংযোগের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বেআইনি ভাবে পাইপলাইন বা ট্যাপের সংযোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হতে পারে। একই ভাবে, জলের মিটারে কারচুপি করে অতিরিক্ত জল ব্যবহার কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা ধরা পড়লেও ফৌজদারি পদক্ষেপ করা হতে পারে। নিয়মবহির্ভূত ভাবে জল ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট এলাকার জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। প্রশাসনের লক্ষ্য, সীমিত জলভাণ্ডারের উপর চাপ কমিয়ে সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা। জল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে আবাসন সমিতিগুলিকেও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আবাসনগুলিতে থাকা জল শোধনাগার বা ‘স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ সচল রাখতে হবে। শোধিত জল ব্যবহার করতে হবে বাগানে জল দেওয়া এবং শৌচাগারের ফ্লাশের মতো কাজে। এর ফলে পানীয় জলের উপর চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কোনো আবাসন বা এলাকায় জলের পাইপলাইনে লিকেজ দেখা গেলে দ্রুত তা মেরামতির ব্যবস্থা করতে হবে। পুণে এলাকায় এ ধরনের সমস্যা জানাতে ‘পিএমসি কেয়ার’-এর সাহায্য নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে দ্রুত জলের অপচয় বন্ধ করা যায়।

জলসঙ্কটের উদ্বেগজনক ছবি দেখা যাচ্ছে নাগপুরেও। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেখানকার জলাধারগুলিতে ধারণক্ষমতার তুলনায় মাত্র ৫৮ শতাংশ জল রয়েছে। ফলে আগামী দিনে জলের চাহিদা মেটানো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নাগপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে জল সংরক্ষণে বিধিনিষেধ জারির পিছনে এ পরিস্থিতি অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পুণে এবং ছত্রপতি সম্ভাজীনগরেও জল সরবরাহ ও ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শহরাঞ্চলে পানীয় জল, গৃহস্থালির কাজ এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে প্রশাসনকে ক্রমশ বেশি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ‘এল নিনো’-র প্রভাব এবং অপর্যাপ্ত বর্ষণের কারণে মহারাষ্ট্রে জলসঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় জলাধারগুলিতে প্রত্যাশিত পরিমাণ জল জমা হয়নি। তার উপর অক্টোবর মাসেও তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছনোয় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। মাটি শুকিয়ে খটখটে হয়ে গিয়েছে, কমছে জলাধারে সঞ্চিত জলের পরিমাণও। ফলে আগামী দিনে জল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে জলসঙ্কট কেবল পানীয় জলের সমস্যাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। কৃষিকাজ, দৈনন্দিন জীবনযাপন, জনস্বাস্থ্য এবং মানুষের জীবিকার উপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, জল নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিরোধ ও উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে জল বণ্টন ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। মহারাষ্ট্রে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, সীমিত জলভাণ্ডারকে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারযোগ্য রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় জল খরচ বন্ধ করা। সেই কারণেই জল অপচয়ে জরিমানা, বেআইনি সংযোগে এফআইআর, জল সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ এবং শোধিত জলের পুনর্ব্যবহারের মতো পদক্ষেপের কথা সামনে এসেছে। তবে এই বিধিনিষেধ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নিয়মের বাস্তবায়ন, জল সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতার উপর। জলসঙ্কটের এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি ফোঁটা জলের সঠিক ব্যবহারই আগামী দিনে মহারাষ্ট্রের শহরগুলির কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!