Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • এপ্রিল ৩, ২০২৬

বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার মালদহ অশান্তির ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলাম

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার মালদহ অশান্তির ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলাম

মালদহের কালিয়াচকে অবরোধ-বিক্ষোভ এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশন জানায়, পালানোর চেষ্টা করার সময় তাঁকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবারই নির্বাচন কমিশন মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে খুঁজছিল। একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা, চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুল পেশায় আইনজীবী। তিনি একসময় রায়গঞ্জ জেলা আদালতে প্র্যাকটিস করতেন এবং পরে কলকাতা হাই কোর্টেও মামলা লড়তেন। হাই কোর্টের কাছেই তাঁর চেম্বার রয়েছে। বর্তমানে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কলকাতায় বসবাস করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম-এ যোগ দেন এবং ইটাহার কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন। তবে সেই নির্বাচনে তিনি মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি চরমে ওঠে যখন কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাতজন বিচারককে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘিরে ধরে এবং প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রাখে। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তাঁরা অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে বিচারকদের উদ্ধার করে। তবে অভিযোগ ওঠে, উদ্ধার অভিযানের সময় পুলিশের গাড়িতে হামলার চেষ্টা হয়। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং বিচারকদের নিয়ে যাওয়ার সময় কনভয়ের একটি গাড়ি এক বিক্ষোভকারীকে ধাক্কা মারে।

বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে এবং তদন্তের দায়িত্ব এনআইএ বা সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি দ্রুত প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়।
এরপর নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে বসে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে। পুলিশ আধিকারিকদের কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত মালদহ কাণ্ডের তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, বুধবার স্থানীয় কয়েকজন নেতা সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করেছিলেন। তার জেরেই উত্তেজিত জনতা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই ঘটনার পিছনে ‘মূলচক্রী’ হিসেবে মোফাক্কেরুল ইসলামের নাম সামনে আসে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!