Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ৫, ২০২৬

ভোট লুঠ করেছে কমিশন। ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করাই এখন আমাদের লক্ষ্য, সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন মমতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোট লুঠ করেছে কমিশন। ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করাই এখন আমাদের লক্ষ্য, সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন মমতা

২৯৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল জিতেছে ৮০টি কেন্দ্রে। ভোটের এই ফলাফলের পর মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাট থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন মমতা বলেন, ‘আমরা হারিনি। ১০০টা আসন লুট করে নেওয়া হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই ছিল না, কমিশনই ভিলেন। কমিশন-বিজেপি এক হয়ে কাজ করেছে । বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন হয়েছে। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে। সব অফিসারদের বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।’

মমতা বলে, ‘কেন পদত্যাগ করব ? ‌আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’
এর আগে আমরা ২০১১ সালে দেখেছি পরাজয়ের পর রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেন। রাজধর্ম পালনের এটাই উদহারণ বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞরা বলেন। প্রসঙ্গত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পদের মেয়াদ ৭ মে পর্যন্ত থাকবে। তার পর তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা না দিলেও তাঁর পদ থাকছে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শক্তি বৃদ্ধি করবেন তিনি। সকল বিরোধী নেতৃত্ব তাঁকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন। সনিয়া গান্ধি, রাহুল গান্ধি, অরবিন্দ কেজরীওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেনরা মমতাকে ফোন করেছিলেন। সমবেদনা জানিয়েছেন এবং পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। অখিলেশ কাল বাংলায় আসবেন। মমতা বলেন, ‘সাখাওয়াতে আমার এজেন্টদেরও ঢুকতে দেয়নি। ভিতরে ওরা আমার পেটে লাথি মেরেছে, পিছনে লাথি মেরেছে। সিসিটিভি বন্ধ ছিল। সিআরপিএফ জওয়ানরা গুন্ডার মতো ব্যবহার করেছে। আমরা যখন ২০০ আসনে জিতে সেটা প্রচার করতে দেওয়া হয়নি।’

মমতা বলেন, ‘আমি মুক্ত পাখি। আমার কাজ হবে জোটকে মজবুত করা। আমি চেয়ারের কেয়ার করি না। আমাদের কাছে নির্বাচিত অনেক সদস্য রয়েছেন। সকলে আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন।’  মমতা বলেন, ‘ভোট-পরবর্তী হিংসার খোঁজ নিতে তথ্য অনুসন্ধানী কমিটি গড়ছি। এমনি জিতলে কোনও অভিযোগ থাকত না। হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে। মহিলা হিসাবে আমি অপমানিত। আমার সঙ্গেই এটা হল, তা হলে অন্যদের কী ভাবে অত্যাচারিত হতে হচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে। দল কর্মীদের পাশে আছে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। ঘুরে দাঁড়াব।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ‘আমরা যখন জিতেছিলাম, বলেছিলাম, কারও উপর যেন অত্যাচার না হয়। সিপিএমের  কোনও পার্টি অফিসে আমরা হাত দিইনি। অত্যাচার করিনি।রবীন্দ্র সংগীত, নজরুলগীতি বাজিয়েছিলাম। এরা জেতার পর মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনো দল করতে পারে? ভাবা যায়?’ মমতা বলেন, ‘কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট, বিচারব্যবস্থা নেই, কেন্দ্রীয় সরকার এক দলের শাসন চায়, তখন গণতন্ত্র কোথায় যাবে? আমি বাজপেয়ী, মনমোহন সিং, আই কে  গুজরাল, রাজীব গান্ধির সরকার দেখেছি। গণনার শুরুর পর সংবাদমাধ্যমে বিজেপি ২০০-র বেশি আসন পেয়ে গিয়েছে দেখানোর পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু হয়। ২০০৪ সালেও এই জিনিস দেখিনি। ১৯৭২-এর সন্ত্রাসের কথা শুনেছি। চোখে দেখিনি। তবে এই সরকার সব কিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।’  তিনি বলেন, ‘’বিজেপির লোকজন গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে মারধর শুরু করে। ১৩ হাজার ভোটে আমি লিড করছিলাম। ৩২ হাজারের বেশি পাওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ওরা গণনাকেন্দ্রে ঢুকেছে। সব ভেঙে দিয়েছে। এটা শুনেই আমি গেলাম। জগুবাজারের কাছে আমার গাড়ি আটকাল। বলল যেতে দেবে না। লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!