Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২৫, ২০২৬

ইন্ডিয়া জোটকে সক্রিয় করতে বৈঠকের আহ্বান মমতার, কী মত জোটসঙ্গীদের ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইন্ডিয়া জোটকে সক্রিয় করতে বৈঠকের আহ্বান মমতার, কী মত জোটসঙ্গীদের ?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার “আই এন ডি আই এ” বা ইন্ডিয়া জোটকে নতুন করে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিলেন। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয়ের পর তিনি বিরোধী জোট ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে গঠিত এই বিজেপি-বিরোধী জোট শুরু থেকেই প্রাসঙ্গিকতা ও কার্যকারিতা নিয়ে সংগ্রাম করে চলেছে।

এপ্রিল মাসের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসন পেয়েছে, যেখানে আগের নির্বাচনে তারা ২১৫টি আসনে জয়ী হয়েছিল। শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও তাঁর দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে পরাজিত হন। তাঁর বিরুদ্ধে জয়ী হন একসময়ের মমতা বন্দ্যোপাধযায়-এর  ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী।
এই পরাজয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেতো বটেই রাজ্যের রাজনীতিতেও  এক বড় ধাক্কা। প্রায় ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির উত্থান এবং তথাকথিত ‘গেরুয়া ঢেউ’-কে রুখে রেখেছিলেন। একের পর এক তীব্র ও তিক্ত নির্বাচনী লড়াইয়ের মধ্যেও তিনি রাজ্যে এবং জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন।

কিন্তু ২০২৬ সালের এই বড় ধাক্কার পরে এখন তিনি দিল্লির দিকে তাকাচ্ছেন, বিশেষ করে কংগ্রেসের সমর্থনের আশায়। যদিও তৃণমূল ও কংগ্রেস একই বিরোধী জোটে থাকলেও দুই দলের সম্পর্ক বরাবরই টানাপোড়েন পূর্ণ।

এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক জুন মাসে হতে পারে, তবে তিনি মমতার আহ্বান সম্পর্কে নিশ্চিত নন। একইভাবে সমাজবাদী পার্টিও বলেছে, তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সরাসরি অখিলেশ যাদবের সঙ্গে কথা বলে থাকেন, তাহলে জুনে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমানে ইন্ডিয়া জোটের ভেতরে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি রয়েছে। কারণ বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস ও আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস ও ডিএমকের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কংগ্রেস অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে-র সঙ্গে সরকার গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা ডিএমকের অসন্তোষের কারণ হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ডিএমকে লোকসভা ও রাজ্যসভায় আলাদা বসার ব্যবস্থা চেয়েছে, যা কংগ্রেস থেকে তাদের দূরত্বকেই স্পষ্ট করছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তারা আদৌ ইন্ডিয়া জোটে থাকবে কি না।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিরোধী দলগুলির কাছে কংগ্রেস এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা ও নেতৃত্বের প্রশ্নে দ্বন্দ্ব রয়েছে, তবুও বিজেপিকে মোকাবিলা করতে গেলে বিরোধী ঐক্য বজায় রাখা ছাড়া বিকল্প খুব কম।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই কথাই তুলে ধরেছেন। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকগুলি সাধারণত সংসদে বিরোধী ঐক্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ডাকা হয়। এই বৈঠকগুলিতে আম আদমি পার্টিও অংশ নেয়। এমনকি গত অধিবেশনে বিজু জনতা দলও বিরোধীদের সঙ্গে কিছু বিষয়ে একসঙ্গে অবস্থান নিয়েছিল।

সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব ইতিমধ্যেই কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলে ধারণা, উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি একসঙ্গে লড়াই করতে পারে।
বর্তমানে ইন্ডিয়া জোটে কংগ্রেস সবচেয়ে বড় দল। এরপর রয়েছে সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে।

এখন দেখার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং ডিএমকে কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সত্যিই জুন মাসে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় কি না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!