- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ৩০, ২০২৬
মেদিনীপুরে প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার জনসভা। ‘ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন’- অভিযোগ তুলে কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি
শিয়রে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে ভোট যুদ্ধের উত্তাপ বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হেভিওয়েট প্রার্থীরা নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য মাঠে নেমেছেন। বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম থেকে শুরু করে আইএসএফ—সবাই একে অপরকে এক চুলও ছাড়ছে না। ইতিমধ্যেই কংগ্রেসও তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক মহড়া শুরু হওয়ার সাথে সাথে ভোটের ময়দান রীতিমতো গরম হয়ে উঠেছে।
সোমবার, মেদিনীপুরে পৌঁছেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধায়। দু-দিনের প্রচারসূচি হাতে নিয়ে তিনি জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরছেন। সোমবার প্রথমে তিনি নারায়ণগড়ে তৃণমূল প্রার্থী প্রতিভা রানি মাইতির সমর্থনে বেলদা স্টেডিয়ামে জনসভায় উপস্থিত হন। সভাস্থলে প্রচণ্ড উচ্ছ্বাসে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। মমতা উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘মেদিনীপুর স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যবাহী ভূমি। এখানে স্বাধীনতার আগেই গঠিত হয়েছিল স্বাধীন সরকার। এটি সংগ্রামের মাটি, আন্দোলনের মাটি। আমি এখানে প্রতিটি রাস্তা চিনি। সিপিএম এখানে অনেক খুন ও অত্যাচার করেছে।’
নারায়ণগড়ের সভা থেকে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে ফের নিশানা করে মমতা বলেন, ‘ওরা বলছে চারটি তালিকা বের হয়েছে, একটিও চোখে পড়েনি। এটা চক্রান্ত চলছে।’ সাথে তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন। ‘আমার নিজের আধার কার্ড করতেও চার ঘণ্টা সময় লেগেছে। এখন বলে, নো পপ আপ! যাদের কাছ থেকে আধার কার্ডের জন্য টাকা নেওয়া হয়েছে, তারা তা ফেরত দেবেন। আগে নোটবন্দির সময় লাইনে দাঁড়াতে হতো, এখন ভোটবন্দির জন্য। এসআইআর মানেই সর্বনাশ। বিজেপির জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। চক্রান্ত হচ্ছে’— বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
মমতা বন্দ্যোপাধায় আরো বলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভান্ডার বিতরণে আমরা কোনো ধর্ম, বর্ণ বা জাতি দেখি না। যেখানে বিজেপি শাসিত রাজ্যে শর্ত আরোপ করেছিল— ফোন থাকলে পাবেন না, টিভি থাকলে পাবেন না, স্কুটার থাকলে পাবেন না, এখানে কেউ বাদ পড়ে না। সবাই পাচ্ছে। এখনো যারা পাননি, তাদেরও কাজ চলছে, সকলেই শেষ পর্যন্ত পাবেন।’ বিরোধী অবস্থায় নিজের সংগ্রামের কথাও স্মরণ করান। বলেন, ‘আমি যখন বিরোধী ছিলাম, অনেক কষ্ট সহ্য করেছি। এখন রাজ্যে বিরোধীরা দুধেভাতে রাজনীতি করছে। আমরা গণতন্ত্রকে শ্রদ্ধা করি, তাই কোনো মিছিল বা সভা আটকাই না।’ বিজেপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত ‘চার্জশিট’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রথম চার্জশিট নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের বিরুদ্ধে হওয়া উচিত। তারা অশান্তি সৃষ্টি করে ক্ষমতায় এসেছে। প্রশাসনে ভাগাভাগি আগে কখনো ছিল না। ভালো অফিসারদের সরিয়ে দিচ্ছে যারা সত্যি কাজ করত।’ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এক টাকা দিয়েছে না কেউ। আমরা দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়ে কাজ শুরু করেছি।’
নারায়ণগড়ে প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘আগের প্রার্থীকে টিকিট দিতে পারিনি। সংখ্যালঘু ও মহিলাদেরও সুযোগ দিতে হয়। কেউ যদি মনে করেন, আজীবন আমি একা থাকব আর অন্য কেউ থাকবে না, তা ভুল। দল সকলের জন্য। যারা ভালো কাজ করবে, তারা টিকিট পাবে। টিকিট না পাওয়ায় বিরোধিতা করার কোনো কারণ নেই।’ এর আগে, ডেবরায় তিনি তৃণমূল প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে জনসভা করেছেন। ডেবরার বর্তমান বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সরিয়ে ওই আসনে রাজীবকে আনা হয়েছে। মমতার উপস্থিতি সেখানে হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রচারে নতুন শক্তি যোগ করেছে।
মেদিনীপুরের আরও অন্যান্য কেন্দ্রে তার প্রচারসূচি রয়েছে। মঙ্গলবার চন্দ্রকোনা ও গড়বেতায় তিনি জনসভা করবেন। গড়বেতায় প্রাক্তন সভাধিপতি উত্তরা সিংহ হাজরার সমর্থনে মমতা বক্তব্য রাখবেন। মোট চারটি কেন্দ্রে জনসভা করে দুই দিনের মধ্যে মমতা হেভিওয়েট প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রচারে জোর দেখাচ্ছেন। অন্যদিকে, দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে, সোমবার সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায় বিজেপি। সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে বিজেপি দাবি তুলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচার বন্ধ করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অভিযোগে বলা হয়েছে, তৃণমূলনেত্রী ভোটারদের উপর আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন এবং তাদের ‘জীবনহানির হুমকি’ দিচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার কমিশনের কাছে জানান, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারের ভয়ে মরিয়া হয়ে গিয়েছেন। এই অবস্থায় তিনি ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন। ভারতে এমন ঘটনা বিরল। একজন সিটিং চিফ মিনিস্টার বলছেন—যারা বিজেপিকে ভোট দেবেন, তাদের ভোটের পরে বাড়ির বাইরে প্ল্যাকার্ড লাগাতে হবে যে তিনি বিজেপি সমর্থক নন।’ সুকান্তের ব্যাখ্যা, এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে যাতে ভোটাররা নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে বাধ্য হয়ে প্রকাশ করে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক ভোটারকে প্রতিনিয়ত বলা হচ্ছে যে ইলেকশন কমিশন কিছুদিনের জন্য, আমরাই থাকব। হারের ভয়ে মমতা এই উপায় অবলম্বন করছেন বাংলার মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য।’ পাশাপাশি তারা কমিশনের কাছে ভোট প্রক্রিয়া অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ রাখার জন্যও আবেদন করেছেন।
❤ Support Us





