- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
দলের নাম-প্রতীক হারিয়ে সুপ্রিম দরবারে মমতা, দ্রুত শুনানির সম্ভাবনা
নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে দলের নাম ও প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার পর এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মমতা শিবিরের দায়ের করা মামলা গ্রহণ করা হয়। মামলাটির দ্রুত শুনানির আর্জিও জানানো হয়েছে।
এদিন আদালতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি জানান, দলের প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ ভোটের বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই জারি হয়ে গিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সিব্বলের বক্তব্য, দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে আগেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে। তাই মামলাটির দ্রুত শুনানির প্রয়োজন রয়েছে। কপিল সিব্বলের আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জানান, ‘আমরা চেষ্টা করব এই সপ্তাহে শুনানি করার। শুনানির সময়ে আপনি সওয়াল করবেন।’
উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। জয়ী ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করে মমতা শিবির থেকে বেরিয়ে যান। এরপরই দ্বিধাবিভক্ত দলের নাম, প্রতীক এবং তহবিলের অধিকার নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। দলের নাম, প্রতীক ও তহবিল নিজেদের হাতে রাখার দাবিতে দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় এবং নিজেদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন নথি ও যুক্তি পেশ করে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি কমিশন। অবশেষে ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বিতর্কে নতুন মোড় আসে।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ — কোনোটিরই আর অস্তিত্ব নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য নির্ধারিত নাম করা হয় ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক দেওয়া হয় ‘ফুটবলার’। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ‘খাম’ নির্ধারণ করা হয়। আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। ফলে নির্বাচনের আগে দলের নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত কমিশনের এই সিদ্ধান্ত দুই শিবিরের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কমিশনের সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে জানান, নিজের হাতে গড়া দল এবং প্রতীকের অধিকার তিনি ছাড়বেন না এবং বিষয়টি নিয়ে শেষপর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। এরপর কথামতোই শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মামলাই সোমবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে গ্রহণ করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই মামলাটির শুনানি করার চেষ্টা করা হবে।
❤ Support Us







