Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ২৬, ২০২৬

নাম বাদ পড়লে আইনি সহায়তার আশ্বাস, পাণ্ডবেশ্বর ও দুবরাজপুর জনসভা থেকে দ্রুত সব তালিকা প্রকাশের দাবি মমতার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নাম বাদ পড়লে আইনি সহায়তার আশ্বাস, পাণ্ডবেশ্বর ও দুবরাজপুর জনসভা থেকে দ্রুত সব তালিকা প্রকাশের দাবি মমতার

পাণ্ডবেশ্বর ও দুবরাজপুরের জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী সরাসরি নিশানা করলেন নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এখনও সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে কাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তার তালিকা দিচ্ছে না। এটা করলে যাদের নাম কেটে বাদ যাচ্ছে তাদের পক্ষে আইনজীবী দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টরি লিস্টে যাদের নাম উঠেছে তার কৃতীত্ব নিজের ও দলের দিকেই টানলেন।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন দুই জায়গার সব থেকেই বলেন, ‘‘আজও জানতে পারিনি কার কার নাম বাদ গেছে। সৎ সাহস যদি থাকে বিজেপি পার্টির, লিস্ট ঝোলাও। আমাদের না দাও, সাংবাদিকদের দাও। কোনও সাংবাদিককে ঢুকতে দিচ্ছে না শুনেছি। আমাদের তো অ্যাপিল করতে হবে। ২৯-৩০ লাখও যদি হয়, যাদের নাম উঠেছে, তার কৃতিত্ব আমাদের। আমি চাই ১০০ শতাংশ নাম উঠুক। এরা প্রকৃত ভোটার। আমাদের শিবির থাকবে বুথে বুথে। কী ভাবে দরখাস্ত করতে হয় জানবেন। আপনাকে আইনজীবী নিয়োগ করতে হবে না। বিএলএ-রা যেমন কাজ করেছেন, এরা কাজ করবে বিএলএ-২। চালন সূঁচের দোষ ধরে।’’

এদিন গ্যাসের চাহিদা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের সব বক্তব্যকে “সব মিথ্যা” বলে সমালোচনা করে বলেন, ‘‘গ্যাস বেলুন এখন গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। দু’দিন পরে গ্যাস পাবেন কি না জানি না! আবার গরুর গাড়ি। আবার উনুন! কাল বলেছিল ৩৫ দিন লাগবে। চিৎকার করেছিলাম। আজ বলে ২৫ দিন। সব ঝুট। গ্যাসের দাম বেড়েছে। গ্যাস বেলুনের দয়ায় আজ গ্যাসের দাম ১১০০ টাকা। ৭০০ টাকা বাড়িয়েছে। রেলের টিকিট যেমন রোজ বাড়ায়। বড় গ্যাস ২,১০০। আজ বলছে ২৫ দিন সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা। কী দিয়ে রান্না করবে? আমার মাথা খাবে না কি বিজেপির মাথা। তার পরে বলছে মাছ, মাংস খাওয়া যাবে না ওরা যে রাজ্যে আছে। বাংলা ভাষায় কথা বলা যাবে না। বললেই আপনি বাংলাদেশী। ধরে ধরে মারবে, অত্যাচার করবে। নাম কাটবে। কোনও পার্টি লড়াই করেনি। আমার বুকের পাটা আছে তাই, লড়াই করেছি।’’

বিজেপি মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, তাই বিজেপিকে বেলাইন করার জন্য মানুষের কাছে আবেদন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘লাইন চান না কি, বিজেপি-কে বেলাইন করতে চান! জোরে বলুন। লাইন দেবেন না বিজেপি-কে বেলাইন করবেন মা-বোনেরা! নোটবন্দির লাইন! আধার কার্ডের লাইন, এসআইআরের লাইন। ব্যাঙ্কে ১৫ লক্ষ টাকা পাঠাবে। বছরে ২ কোটি চাকরি দেবে।’’

বীরভূমের মাটিকে আন্তর্জাতিক মাটি বিলে বর্ণনা করে বীরভূমের উন্নয়নে অনুব্রত মণ্ডলের কৃতীত্বের কথা স্বীকার করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘‘বীরভূম আন্তর্জাতিক মাটি। কবিগুরুর মাটি। আমরা সকলকে সম্মান করি। কোথায় ছিল সে দিন বিজেপি? আজ তৃণমূলের সকলকে চোর বলছে নগ্ন ভাষায়। ব্রেন নেই। সবচেয়ে বড় ডাকাতের দল তোমরা। দেশ, রেল, এলআইসি বিক্রি করেছো। যারা দেশ বেচে, তারা বড় বড় কথা বলে। বীরভূম জেলায় নেতা কম না। সব ভণ্ড তপস্বী। বীরভূমে স্বাধীনতার পর যা হয়নি, বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছে। কেষ্ট অনেক সাহায্য করেছে। কারণ বীরভূম জেলা ওঁর নখদর্পণে। সুতরাং যখন প্রশাসনিক বৈঠক করতাম, ওরা সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরামর্শ দিত, আমরা কাজ করতাম। আজ বীরভূম জেলা অনন্য। আমি গর্ববোধ করি।’’ এদিন বক্তৃতার শুরুতেই অনুব্রত মণ্ডলের নাম উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বীরভূমে খুব গরম। প্রথমেই বলি দীর্ঘ দিনের সহকর্মী কেষ্ট সঙ্গে রয়েছেন।’’

এর পরে তৃণমূল নেত্রী তাঁর সহজাত ভঙ্গিতে বীরভূমের দুবরাজপুর-সহ বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের নাম বলেন শুরু করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘আজ অন্নপূর্ণা পুজোর দিনে এই বীরভূমের মাটি স্পর্শ করতে পেরে ধন্য। এখানে সতীপীঠ রয়েছে। সেগুলি উন্নয়ন করে দিয়েছি। মামা-ভাগ্নে পাওয়ার রয়েছে, তার উন্নয়ন হয়েছে। গ্রামীণ হাসপাতালে বাচ্চাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে। অনেক সেতু, পানাগড়-দুবরাজপুর রাস্তা করেছি। সিউড়ি-রাজনগর রাস্তার উন্নয়ন করেছি। জয়দেব-কেন্দুলি সেতু, অজয়ের উপরে সেতু, পথশ্রীতে টাকা দেওয়া হয়েছে। দেউচা-পচামিতে কয়লাখনিতে এক লক্ষ ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থান হবে। সেখানে কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষতিপূরণও দিয়েছে। চাকরিও দিয়েছি। প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পাবেন। আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম, হাজার বার শুনতাম, রাতে রাস্তায় বসে থাকতাম। শুনতাম লোডশেডিংয়ের সরকার। এই দেউচা-পচামি হলে বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে। অভাব হবে না আগামী ১০০ বছর। বীরভূমে আমার একটা গ্রাম আছে। শহরে থাকি মান আমাকে শহুরে মনে করবেন না। ৯৯ শতাংশের একটা গ্রাম আছে। পিতৃভূমি, মাতৃভূমি বীরভূমে। পিতৃভূমিতে যাওয়া হয়নি। নির্বাচনের পরে ঘুরে আসব। বাবা-জেঠুরা দেবোত্তর সম্পত্তি পান। বাবা নেননি। জ্যাঠামশাইদের ছেড়ে দেন।’’

এদিন পাণ্ডবেশ্বরের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “যতই করো হামলা, আবার তৃণমূলই জিতবে বাংলা।” একই সঙ্গে বিজেপিকে তোপ দেগে তাঁর সংযোজন, “কিচ্ছু করার নেই, তোমরা বসে উকুন বাছো।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!