- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ১০, ২০২৬
দুর্দিনে পুরনো বন্ধুর ‘হাত’ আঁকড়ে ধরার চেষ্টা মমতা-অভিষেকের ?
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য কঠিন সময়ের মধ্যেই দিল্লিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সনিয়া গান্ধির সঙ্গে সাক্ষাতের পরদিনই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার সকালে দিল্লির ১০ জনপথে সনিয়া গান্ধির বাসভবনে রাহুল গান্ধির সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন অভিষেক। তৃণমূল সূত্রের দাবি, বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে আরও শক্তিশালী করা, বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলির মধ্যে মতপার্থক্য দূর করে ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর থেকেই একের পর এক ধাক্কার মুখে পড়েছে তৃণমূল। পরিষদীয় দলের পর সংসদীয় দলেও ভাঙনের অভিযোগ উঠেছে। দলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ ‘বিদ্রোহী’ হয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাহুল-অভিষেক বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক সঙ্কটের সময়ে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করে ঘুরে দাঁড়ানোর কৌশল নিতে পারে তৃণমূল নেতৃত্ব। সে কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরদিনই অভিষেকের রাহুলের সঙ্গে বৈঠককে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সোমবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সনিয়া গান্ধির সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। দুই নেত্রী পরস্পরকে আলিঙ্গনও করেন। এরপর মঙ্গলবার বিকেলে সনিয়া গান্ধির বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন মমতা। জল্পনা রটেছে, সনিয়া গান্ধী না কি মমতা ব্যনার্জিকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি হবার প্রস্তাব দিয়েছেন, একইরকমভাবে অভিষেককে না কি সাধারণ সম্পাদক হবার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও এ নিয়ে কংগ্রেস বা তৃণমূল কেউই মুখ খোলেনি।
রাজনৈতিক মহলে বরাবরই আলোচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও গান্ধি পরিবারের সম্পর্ক। কংগ্রেসে থাকাকালীন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধির ঘনিষ্ঠদের অন্যতম ছিলেন মমতা। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করলেও গান্ধি পরিবারের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হয়নি। জাতীয় রাজনীতির নানা ইস্যুতে রাহুল গান্ধির সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এলেও সনিয়া গান্ধির সঙ্গে মমতার সম্পর্ক বরাবরই সৌহার্দ্যপূর্ণ থেকেছে। এমনকি রাহুলকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করলেও সনিয়া গান্ধির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনায় খুব কমই সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী ধাক্কার পর সাম্প্রতিক সময়ে কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে দিল্লিতে পরপর এই বৈঠকগুলি ভবিষ্যতের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।
❤ Support Us






