Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ৩১, ২০২৬

‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ভেদাভেদ নেই’— বিজেপিকে নিশানা করে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। ভোটার তালিকা বিতর্কে ‘ভিনরাজ্য তত্ত্ব’

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ভেদাভেদ নেই’— বিজেপিকে নিশানা করে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। ভোটার তালিকা বিতর্কে ‘ভিনরাজ্য তত্ত্ব’

গড়বেতার মাটিতে দাঁড়িয়ে আবারও জনমুখী রাজনীতির সুর চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সামনে বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই নারী ভোটব্যাঙ্ককে দৃঢ় বার্তা—‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এ কোননো বিভাজন নেই, নেই ধর্ম-বর্ণ-জাতপাতের দেওয়াল। বক্তব্যে যেমন আশ্বাস, তেমনই রাজনৈতিক কৌশলের স্পষ্ট রেখাচিত্র।

মঙ্গলবার গড়বেতার সভামঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, যাঁরা এখনো ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর অর্থ পাননি, তাঁদেরও অচিরেই সে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘মায়েরা-বোনেরা যতদিন বাঁচবেন, এই ভাতা পাবেন।’ একইসঙ্গে বিহারে ভোটের আগে বিজেপির ঘোষিত আর্থিক সহায়তার প্রসঙ্গ টেনে তুলনা টানেন তিনি। প্রশ্ন ছুড়ে দেন যে, মাসিক ভাতার নিরিখে ৫ বছরে বাংলার মহিলারা কত অর্থ পাচ্ছেন, সে হিসেব কি সামনে আনা হচ্ছে?

রাজনৈতিক আক্রমণের ধারও ছিল সমান তীক্ষ্ণ। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতার দাবি, বছরে ২ কোটি চাকরির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। উল্টে তাঁর সরকারের আমলে রাজ্যে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হয়েছে বলেই দাবি করেন তিনি। তবে সেই প্রক্রিয়ায় বারবার আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে—পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন বা পিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আক্ষেপ করেন, ‘চাকরি দিতে গেলেই কোর্টে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।’ বিচারব্যবস্থা নিয়েও তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভের সুর শোনা যায়।

এদিন, গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়ন-খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। আইটিআই গড়ে ওঠা থেকে শুরু করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, নতুন রাস্তা ও সেতু নির্মাণ— একাধিক প্রকল্পের উল্লেখ করেন তিনি। ‘জলস্বপ্ন’ প্রকল্পে ৩৫টি কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা জানান, পাশাপাশি বাস টার্মিনাস তৈরির পরিকল্পনার কথাও বলেন। বক্তৃতার একাংশে ফিরে আসে অতীতের ‘অন্ধকার’ সময়ের কথাও । লালগড়-নেতাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি উসকে দিয়ে মমতা বলেন, ‘একসময় এ অঞ্চল সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর ছিল। মানুষ ঘর থেকে বেরোতে পারতেন না’। সে সময়ের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, শতাধিক সাধারণ মানুষ ও পুলিশকর্মীর প্রাণহানি হয়েছিল। একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণও করেন—এক বিধবা মায়ের ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসে ‘এসআইআর’ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্কও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের  সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা দাবি করেন, বিপুল সংখ্যক নতুন ফর্ম জমা পড়েছে, অন্যদিকে বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, ভিনরাজ্য থেকে ভোটার এনে নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হতে পারে। খড়গপুর, আসানসোলের মতো শিল্পাঞ্চলের নাম উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, ‘আপনাদের ভোট দখল করার চেষ্টা হতে পারে—সাবধানে থাকুন।’ মানুষের ‘হয়রানি প্রসঙ্গে আবেগঘন সুরও শোনা যায় তাঁর কণ্ঠে। ‘যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাদের জন্য আমার বুকে যন্ত্রণা হয়’—বলতে শোনা যায় তাঁকে।

তবে এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বামপন্থী শিবিরের প্রশ্ন, ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া নিয়ে অন্য রাজ্যের মতো বিধানসভায় প্রস্তাব আনা হল না কেন? একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরকারি কর্মী না দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, এখন জনমুখী আবেগের আশ্রয় নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী।  ভোটের আগে গড়বেতার এই সভা তাই শুধু প্রশাসনিক প্রকল্পের প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং তা হয়ে উঠল রাজনৈতিক বার্তা, পাল্টা বার্তা এবং আশঙ্কা-আশ্বাসের এক জটিল মিশ্রণ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!