Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই ৬ বিচ্ছন্নতাবাদীকে আটক করল মণিপুর পুলিশ । শান্তির লক্ষ্যে দুই চুক্তি স্বাক্ষর কেন্দ্রের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই ৬ বিচ্ছন্নতাবাদীকে আটক করল মণিপুর পুলিশ । শান্তির লক্ষ্যে দুই চুক্তি স্বাক্ষর কেন্দ্রের

দীর্ঘ ১৬ মাস পর অবশেষে জাতিগত হিংসায় বিধ্বস্ত মণিপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ! আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর ৩ ঘণ্টার এ সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চরম সতর্কতায় রয়েছে কেন্দ্র সরকার ও মণিপুরের রাজ্যপাল। ২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে মেইতেই ও কুকিজো সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামলাতে কেন নরেন্দ্র মোদি উত্তরপূর্বের রাজ্যে যাচ্ছেন নাএ প্রশ্ন তুলে বিজেপিকে সংসদ ও সংসদের বাইরে বারবার নিশানা করেছে কংগ্রেসসহ ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলি। অবশেষে মণিপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ! তাঁর এ সফর ঘিরে যেমন রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি হয়েছেতেমনই নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।

মণিপুরের ভয়াবহ জাতিগত সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬০-র বেশি মানুষ। বাস্তুচ্যুত প্রায় ৫০ হাজার। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তারপর থেকেই রাজ্য শাসন চলছে রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে। সম্প্রতি সে মেয়াদের শাসনসময়ও বেড়েছে। অনিশ্চিত এ পটভূমিতেই ইম্ফল সফরে যাচ্ছেন মোদি প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে রবিবার রাজভবনে রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লার সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন বিজেপি নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংবিধানসভার স্পিকার থোকচোম সত্যব্রত সিংবিজেপির রাজ্য সভাপতি এ শারদা দেবী সহ একাধিক বিধায়ক ও প্রশাসনিক কর্তা। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলে রুদ্ধদ্বার আলোচনা। রাজনৈতিক মহলের মতেএই বৈঠকই স্পষ্ট করে দিচ্ছেমণিপুরে নতুন সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র।

এদিকেপ্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই মণিপুরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ২টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পন্ন করেছে কেন্দ্র। প্রথমটি সাসপেনশন অফ অপারেশনস’ চুক্তিযা কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ও ইউনাইটেড পিপলস ফ্রন্ট এর সঙ্গে সাক্ষরিত হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে কার্যকর এই অস্ত্রবিরতি চুক্তি ২০২৩-এর মার্চে মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং বাতিল করেছিলেনবিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে। এবার কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে তা নতুন করে পুনর্বহাল করা হল। দ্বিতীয় চুক্তিটি হয়েছে জাতীয় সড়ক ২ খোলার বিষয়ে। ইম্ফল ও ডিমাপুরের মধ্যে সংযোগকারী এই লাইফলাইন রুট কুকি-জো আন্দোলনের জেরে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ ছিল। কুকি-জো কাউন্সিলের সঙ্গে চুক্তির পর অবশেষে রুটটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং রসদ পরিবহণের সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানাচ্ছে সরকার। তবে কেন্দ্রের এহেন উদ্যোগে নাখুশ মেইতেই সম্প্রদায়ের একাধিক সংগঠন। তাঁরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বলেছেকুকিদের সঙ্গে এমন সমঝোতা মণিপুরের ভৌগোলিক অখণ্ডতাসামাজিক সুরক্ষা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলবে। কুকিদের দীর্ঘদিনের দাবিপৃথক প্রশাসনিক অঞ্চলযা মেইতেই সমাজ মানতে নারাজ।

সাসপেনশন অফ অপারেশনস’ চুক্তির শর্ত অনুযায়ীকুকি বিদ্রোহীদের সংবেদনশীল অঞ্চল থেকে ৭টি শিবির সরাতে হবেজমা দিতে হবে অস্ত্র। তবে চুক্তি কার্যকর থাকাকালীন সেনা অভিযান বন্ধ থাকবেচলবে কড়া নজরদারি। পরিস্থিতি যাতে আবার অগ্নিগর্ভ না হয়তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে প্রশাসন। এ আবহেই মণিপুরের তেঙ্গনৌপাল ও থৌবল জেলায় পৃথক অভিযানে ৬ জন জঙ্গিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রবিবার তেঙ্গনৌপালের চোংজাং এলাকায় জনতা মুক্তি বাহিনীইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (ইউএনএলএফ) এবং কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টির ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিনে থৌবল জেলার লিলং চাজিং মামাং লেইকাই এলাকা থেকে কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টির আরো  সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও যুবকদের জঙ্গি দলে যোগদানে প্ররোচিত করার অভিযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ইম্ফল শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। কুকি অধ্যুষিত এলাকাবিশেষ করে মিজোরাম সীমান্তবর্তী অঞ্চলকে ঘোষণা করা হয়েছে নো ফ্লাই জোন। তবে এই সংক্ষিপ্ত সফর নিয়েই চরম ক্ষোভ বিরোধীদের। কংগ্রেসের অভিযোগ, ‘মোদীর এই সফর মণিপুরবাসীদের এক প্রকার অপমান।’ শিবসেনার কটাক্ষ, ‘এ যেন এক রাজনৈতিক পর্যটন।

উল্লেখ্যজাতিগত হিংসা শুরু হওয়ার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি একাধিকবার মণিপুর সফর করেছেন। বারবার দাবি উঠেছেপ্রধানমন্ত্রী যেন নিজে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে আসেন। সে দাবি মেনে অবশেষে মোদির এই সফর। তবে৩ ঘণ্টার সফরে তিনি কতটা বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারবেনতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা। শান্তির পথে মণিপুরকে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর সফর কতটা কার্যকর হয়এখন সেটাই দেখার। তবে তাঁর এই সফরের প্রেক্ষিতে যে রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিতে চলেছেতা বলাই বাহুল্য।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!