Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫

ইডি দফতরে মিমি চক্রবর্তী, বেআইনি বেটিং অ্যাপ মামলায় টলিউড তারকাকে শমন, জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রীয় সংস্থার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইডি দফতরে মিমি চক্রবর্তী, বেআইনি বেটিং অ্যাপ মামলায় টলিউড তারকাকে শমন, জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রীয় সংস্থার

বেআইনি অনলাইন বেটিং অ্যাপ কাণ্ডে টলিউড অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সোমবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিট নাগাদ দিল্লির ইডি-র সদর দফতরে হাজিরা দেন যাদবপুরের প্রাক্তন সাংসদ। সঙ্গে ছিলেন তাঁর আইনজীবী ও বেশ কিছু প্রয়োজনীয় নথিপত্র। ইডি সূত্রে খবর, দেশে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ‘১এক্সবেট’-সহ একাধিক বেআইনি বেটিং প্ল্যাটফর্মের হয়ে প্রচার করেছিলেন মিমি। সেই প্রচারের বিনিময়ে বিপুল আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ। ঠিক কী ভাবে টাকা লেনদেন হয়েছে, কোথা থেকে কত টাকা এসেছে, কোন অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে সেই টাকা, তা নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন টালিগঞ্জের তারকা।

সোমবার সকাল থেকেই ইডির সদর দফতরের সামনে ছিল কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনি। সাংবাদিকদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। সাদা ওভারসাইজ শার্ট ও নীল জিন্‌স পরে ইডি দফতরের চৌকাঠ পেরন মিমি। চিরাচরিত হাসিমুখেই গাড়ি থেকে নামলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সংক্ষেপে বললেন, ‘আমি আসছি, বেরিয়ে এসে কথা বলব।’ তারপর আর কোনো মন্তব্য না করেই সোজা ঢুকে যান ইডির দফতরে। সূত্রের খবর, মিমিকে রোববারই তলব করে ইডি। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর হাতে পৌঁছয় শমনপত্র। এবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজিরাও দিলেন অভিনেত্রী। কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে দাবি, প্রাথমিক পর্যায়ে মিমিকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা হয়েছে। তাঁর বয়ান রেকর্ডও করা হয়েছে ‘প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট’-এর আওতায়।

ইডির অভিযোগ, ‘১এক্সবেট’ সহ একাধিক অনলাইন বেটিং অ্যাপ ভারতে নিষিদ্ধ হলেও, দীর্ঘ দিন ধরে সেলিব্রিটিদের মাধ্যমে অ্যাপগুলির প্রচার চালানো হচ্ছে। আর প্রচারের পিছনে রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক লেনদেন। কর ফাঁকি, বিদেশি মুদ্রা বিনিময় আইন এবং মানি লন্ডারিং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত চলছে বিস্তৃত পরিসরে। শুধু মিমিই নন, এই একই মামলায় ইতিমধ্যেই তলব করা হয়েছে বলিউড অভিনেত্রী উর্বশী রাউতেলাকে। আগামীকাল, মঙ্গলবার ইডির দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা তাঁর। এর আগেই একই মামলায় বয়ান রেকর্ড হয়েছে প্রাক্তন ক্রিকেটার সুরেশ রায়না, শিখর ধবন, হরভজন সিং এবং টলিউডের অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরার। দক্ষিণী তারকা বিজয় দেবেরাকোন্ডা, রানা ডাগ্গুবতী এবং প্রকাশ রাজের নামও জড়িয়েছে এই বেআইনি বেটিং কেলেঙ্কারিতে।

প্রাক্তন সাংসদের তলব করার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষের মন্তব্যে রাজনৈতিক জলও কিছুটা গড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘আইন নিজের পথে চলবে।’ এ মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রসঙ্গত, মিমি চক্রবর্তী ২০১৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। আপাতত নিজের অভিনয়জগতে ফিরেই সময় কাটাচ্ছেন তিনি। পুজোয় ‘রক্তবীজ-২’ ছবিতে বাঘা পুলিশ অফিসার হিসাবে দেখা যাবে তাঁকে।

এদিকে, ইডি-র দাবি, তদন্তে উঠে এসেছে, এ সমস্ত বেটিং অ্যাপগুলি সাধারণ মানুষ এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছে। সে প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতেই জনপ্রিয় তারকাদের মুখ ব্যবহার করা হয়েছিল। যার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে মোটা টাকা। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খোঁজ পেয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। মিমির ব্যাঙ্ক লেনদেন সম্পর্কিত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, শুধু এই কয়েক জন নয়, আরো বহু নামী মুখ এরকম বেআইনি অ্যাপ প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। আগামী দিনে আরো তারকাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। এই মুহূর্তে মিমির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পদক্ষেপ না নেওয়া হলেও, তাঁর জবাব সন্তোষজনক না হলে দ্বিতীয় দফার তলবও আসতে পারে বলে ইঙ্গিত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!