Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • আগস্ট ৬, ২০২৫

‘সিঁদুরে’ ভেঙে গেছে সন্ত্রাসের হেডকোয়ার্টার, ‘সন্ত্রাস-আশ্রম’ পুনর্নির্মাণে সহায়তার আর্জি জইশের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘সিঁদুরে’ ভেঙে গেছে সন্ত্রাসের হেডকোয়ার্টার, ‘সন্ত্রাস-আশ্রম’ পুনর্নির্মাণে সহায়তার আর্জি জইশের

যেন একটা নতুন নাটকের দৃশ্য। পর্দা উঠল, আলো জ্বলল, মঞ্চে আবার হাজির জইশ-ই-মোহাম্মদ। তবে এবার রুদ্রভাব একটু কম, বদলে আছে কাতরতা। এক হাতে বন্দুক, আরেক হাতে ভিক্ষার ঝুলি। ব্যাকগ্রাউন্ডে ভেসে আসছে ‘সাবধান, আগুন আছে’। মওলানা মাসুদ আজহার, যিনি বিগত দু-দশক ধরে ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের খতিয়ান বইতে ব্যস্ত, এখন নতুন করে শুরু করেছেন—‘স্বর্গ নির্মাণে সাহায্যের আবেদন’ অভিযান। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনাটা কিন্তু চরম রকমের বাস্তব এবং ততটাই করুণ।

পহেলগাঁও হামলার জবাবে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুরে’ গুঁড়িয়ে গিয়েছে ভাওয়ালপুরের হেডকোয়াটার। এটিই ছিল মাসুদ আজাহারের প্রধান ‘সন্ত্রাস-আশ্রম’। জইশের আদর্শিক চর্চা, গোপন মিটিং, জঙ্গি প্রশিক্ষণ, বিস্ফোরক ও ডিটনেটরের ওয়ার্কশপ—সবই চলত সেখানে। এখন সেই জমকালো দফতর কেবলই ধ্বংসস্তূপ। ভারতের ২৪টি নির্ভুল মিসাইল যে কেবল জইশের সদর দফতর গুঁড়িয়ে দিয়েছে, তা নয়— সরাসরি কেঁপে উঠেছে জইশের খোলস। মাসুদ নিজেই এক ‘আত্মিক’ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আমার পরিবার থেকে ১০ জন শহিদ হয়েছেন। কিন্তু সেন্টিমেন্ট দিয়ে যে হেডকোয়ার্টার গড়ে ওঠে না, তা মাসুদও বোঝেন। তাই এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে গোপন তহবিল সংগ্রহের আহ্বান। পোস্টে লেখা, ‘আসুন সবাই একত্র হই, যেন আবার আমাদের স্বর্গ গড়তে পারি।‘ স্বর্গ! শুনেই এক সেকেন্ড থমকে যেতে হয়। কী সাংঘাতিক কল্পনা! যেখানে রক্ত, বারুদের গন্ধ, অন্ধ ধর্মান্ধতা, সে জায়গাকেই এঁরা বলছেন ‘স্বর্গ’।

২০১৫ সাল থেকে পাকিস্তানের দক্ষিণ পাঞ্জাব প্রদেশের অন্তর্গত ভাওয়ালপুরের ‘সুবহান আল্লাহ’ কমপ্লেক্সই ছিল জইশের মূল ঘাঁটি। মাসুদের ভাই মুফতি রউফ আসগর, যিনি ছিলেন দলের কমান্ডার, তিনিও সপরিবারে থাকতেন এখানে। ভাওয়ালপুর শহরটা হয়ে উঠেছিল সন্ত্রাসবাদের ‘ডিসনিল্যান্ড’। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধুমাত্র পহেলগাঁও হামলার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং জঙ্গি ও তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ, মানবিকতার জেহাদ। অপারেশন চলাকালীন অন্তত ৭০ জন জইশ সদস্যের মৃত্যু ও ৬০ জনের গুরুতর জখম হওয়ার খবর মিলেছে। আর তাতেই যেন কেঁপে উঠেছে জঙ্গিনেতাদের মনোবল। ভারতে ১৯৯৪ সালে ধরা পড়া মওলানা মাসুদ আজাহারকে ১৯৯৯-এ আইসি ৮১৪ হাইজ্যাকের পরে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। ২০০১ সালের পার্লামেন্ট হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট হামলা, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা আত্মঘাতী হামলার ষড়যন্ত্রে তিনি জড়িত। তারপর থেকে সে পাকিস্তানের ‘অদৃশ্য অতিথি’। অথচ ইসলামাবাদ বলে, ‘আমাদের কিছুই জানা নেই।’ যেন বাড়ির গ্যারেজে হাতির বসে আছে, আর বাড়িওয়ালা বলছে, ‘কই কেউ তো নেই এখানে।’ ভারত মাসুদকে ইউএপিএ আইনের আওতায় সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করেছে অনেক আগেই। জাতিসংঘও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীর তকমা দিয়েছে। কিন্তু তাতে কিছু এসে যায় না। কারণ, গডফাদার যদি চোখ বুজে থাকেন, নিরাপত্তা দেন, তবে মাসুদ আজাহারদের চোখে তো নতুন ‘জঙ্গিঘাঁটি’ নির্মাণের স্বপ্নই ভাসবে !


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!