Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৬, ২০২৬

বকেয়া ডিএ পরিশোধে নবান্নে প্রশাসনিক তোড়জোড়! অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত-পুরকর্মীদের বিল প্রস্তুতির নির্দেশ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বকেয়া ডিএ পরিশোধে নবান্নে প্রশাসনিক তোড়জোড়! অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত-পুরকর্মীদের বিল প্রস্তুতির নির্দেশ

রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) পরিশোধের প্রক্রিয়ায় এবার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে চলেছে। সরকারি কর্মীদের একাংশ ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ-র একটি অংশ পেয়েছেন। তবে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত (গ্রান্ট-ইন-এইড) স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত কর্মী, পুরসভার কর্মী এবং অন্যান্য অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীরা এখনো সেই বকেয়া পাননি। এবার তাঁদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

বকেয়া ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকার ও সরকারি কর্মীদের মধ্যে আইনি লড়াই চলছিল। তৎকালীন রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট সরকারি কর্মীদের পক্ষেই রায় দেয়। তবে সেই রায়ের পরেও দীর্ঘ সময় বিষয়টি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। পরবর্তীতে, ১৫ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার মাত্র ৫৫ মিনিট আগে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ-র একটি অংশ মার্চ মাসের মধ্যেই দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী সরকারি কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে এবং অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ-র একটি অংশ জমা করা হয়। কিন্তু সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মীরা সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও এতদিন তাঁদের বকেয়া ডিএ পরিশোধের কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে এবার সে প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অধীন আইটি কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আপাতত সংশ্লিষ্ট বেতন ও প্রশাসনিক পোর্টালে অন্য কোনো বকেয়া বিল জমা না নিতে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে বকেয়া ডিএ-র বিল প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি স্থায়ী বেতন পান না এমন অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীদের—যেমন সরকার অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিভিন্ন বিধিবদ্ধ বোর্ড ও কর্পোরেশনের কর্মীদের— ‘রোপা ২০০৯’ অনুযায়ী দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ পরিশোধ করাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার। সম্প্রতি অর্থ দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিটি বিভাগকে তাদের নিজস্ব বেতন পোর্টালে (যেমন শিক্ষকদের ক্ষেত্রে iOSMS) বকেয়া ডিএ-র বিল জমা দেওয়ার জন্য পৃথক অপশন চালু করতে হবে।

এই প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হওয়ার পর অর্থ দপ্তর বিল জমা দেওয়ার পরবর্তী নির্দেশ জারি করবে। অর্থ দপ্তর স্পষ্ট করেছে, এই বকেয়া ডিএ পরিশোধের প্রক্রিয়া ‘রোপা ২০১৯’ অনুযায়ী ঘোষিত নতুন ২০ শতাংশ ডিএ-র সঙ্গে সম্পূর্ণ আলাদা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া দ্রুত মেটানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রতিটি বিভাগের নোডাল অফিসার ও আইটি কর্মীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ‘রোপা ২০১৯’ অনুযায়ী অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ-র বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই অর্থ দপ্তর প্রকাশ করেছে। বর্তমানে প্রাপ্য ১৮ শতাংশ ডিএ-র সঙ্গে এই নতুন ২০ শতাংশ যুক্ত হয়ে সরকারি কর্মীরা মোট ৩৮ শতাংশ ডিএ পাবেন। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এই বর্ধিত ডিএ-র সুবিধা পাবেন এবং অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে তা তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার কথা। মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির পক্ষ থেকে অনিমেষ হালদার বলেন, বিভিন্ন সূত্রে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের ‘রোপা ২০০৯’-এর বকেয়া ডিএ পরিশোধের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। তবে তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে আর দেরি না করে রাজ্য সরকার দ্রুত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বকেয়া ডিএ প্রদানের সময়সূচি স্পষ্ট করুক।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!