- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ৯, ২০২৬
মণিপুর-মায়ানমার সীমান্তে মাদক চক্রের বিরুদ্ধে এনসিবির তীব্র অভিযান। উদ্ধার ১৫ কোটি টাকার হেরোইন, কুখ্যাত দুই পাচারকারী গ্রেফতার
ভারত–মায়ানমার সীমান্তে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। সীমান্তবর্তী মণিপুরে এক গোপন অভিযানে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৭.৩১২ কেজি উচ্চমানের হেরোইন উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এ ঘটনায় দুই কুখ্যাত পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, উদ্ধার হওয়া মাদক লুকিয়ে রাখা ছিল ৬৩৮টি সাবানের কেসের ভিতরে।
এনসিবি সূত্রে খবর, আগাম খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভারত–মায়ানমার সীমান্তের কাছে একটি গাড়িকে আটক করে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তল্লাশিতেই বিপুল পরিমাণ হেরোইনের হদিশ মেলে। সংস্থার তরফে জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘যানবাহনটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৭.৩১২ কেজি উচ্চমানের হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।’ হাতেনাতে গ্রেফতার হওয়া দুই পাচারকারী নাম গিনখাউমলিয়ান এবং মাংবোই সিমটে। তাঁরা মণিপুরের চুরাচাঁদপুর জেলার মাল্টাম এলাকার মাতা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মায়ানমারের হাইচিন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া হেরোইন-এর আমদানি। সেখান থেকে বনাঞ্চল ঘেরা দুর্গম পথ ব্যবহার করে মণিপুর হয়ে ভারতে পাচার করা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণের মাদক। শহুরে নজরদারি, পুলিশ চেকপোস্ট এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প এড়াতেই পাচারকারীরা এই ধরনের বনপথ ও বিকল্প করিডর বেছে নিচ্ছে বলে দাবি এনসিবির।
এনসিবির এক আধিকারিক জানান, ‘মায়ানমার–ভারত সীমান্তে প্রচলিত পাচার রুটগুলিতে কড়া নজরদারি শুরু হওয়ার পর পাচারকারীরা নতুন কৌশল নিচ্ছে। বনজঙ্গল ও নদীপথ ব্যবহার করে তারা নজর এড়ানোর চেষ্টা করছে।’ এই অভিযানে অসম রাইফেলসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধার হওয়া মাদকসহ নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (এনডিপিএস) আইনের অধীনে সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের সঙ্গে আরো বড়ো কোনো আন্তর্জাতিক মাদক নেটওয়ার্ক জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত মাসেই মণিপুরের জিরিবাম এলাকা থেকে প্রায় ৭ কেজি হেরোইন আটক করেছিল এনসিবি। সে ঘটনার সঙ্গে এদিনের উদ্ধার হওয়া মাদকের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এনসিবি সূত্রের দাবি, ধারাবাহিক এই সাফল্য বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং গোয়েন্দা-নির্ভর অভিযানের ফল।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত এনসিবি প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা মূল্যের ১.৩৩ লক্ষ কেজি মাদক উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি ধ্বংস করা হয়েছে প্রায় ৩,৮৮৯ কোটি টাকা মূল্যের ৭৭,০০০ কেজির বেশি নিষিদ্ধ মাদক। আন্তর্জাতিক স্তরে মাদক পাচারকারীদের ধরতে ৩৭টি ইন্টারপোল নোটিস জারি করা হয়েছে এবং ৫ জন পলাতক পাচারকারীকে ভারতে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। এনসিবির বিবৃতি অনুযায়ী, গত বছরে ৪৪৭টি মামলায় মোট ৯৯৪ জন মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ২৫ জন বিদেশি নাগরিক। ২০২৫ সালে ১৩১টি মামলায় ২৬৫ জন অভিযুক্তের দোষ প্রমাণিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৯ জনকে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড আর ২১০ জনকে ১০ বছরের বেশি সাজা দেওয়া হয়েছে। মোট জরিমানা আদায় হয়েছে ৩.৩ কোটি টাকা। দোষীদের তালিকায় রয়েছেন ৯ জন বিদেশি নাগরিকও। মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার ধারাবাহিক অভিযানে সীমান্তবর্তী এলাকায় চাপে পড়েছে আন্তর্জাতিক মাদক চক্র। তবে এনসিবির মতে, এ লড়াই এখনো অনেক দূর অবধি লড়তে হবে।
❤ Support Us







