- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- জুলাই ১৩, ২০২৬
শটগান বিশ্বকাপে প্রথম ভারতীয় মহিলার স্বর্ণজয়, ইতিহাস গড়লেন নীরু ধান্ডার
ইতালির লোনাটোতে অনুষ্ঠিত আইএসএসএফ শটগান বিশ্বকাপ ২০২৬–এ মহিলাদের ট্র্যাপ ইভেন্টে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন ভারতের নীরু ধান্ডা। প্রথম ভারতীয় মহিলা শুটার হিসেবে তিনিই বিশ্বকাপের ট্র্যাপ ইভেন্টে সোনা জিতেছেন। ২৬ বছর বয়সী এই শুটার কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ১২৫-এর মধ্যে ১২১ স্কোর করে জাতীয় রেকর্ড ভাঙেন এবং এরপর এক টানটান ফাইনালে ফ্রান্সের প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ক্যারোল করমেনিয়ারকে পরাজিত করে সোনা জিতে নেন।
আইএসএসএফ বিশ্বকাপে এটাই নীরুর প্রথম ব্যক্তিগত পদক এবং শুটিং জীবনে দ্বিতীয় পদক। এর আগে, নীরু আলমাটি পর্বে ভিভান কুমারের সঙ্গে মিক্সড ট্র্যাপ ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। ভোপালের মধ্যপ্রদেশ স্টেট শুটিং অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণরত নীরু ধান্ডা প্রতিযোগিতার আগে লন্ডনে ১০ দিন অনুশীলন করেছিলেন। প্রতিযোগিতার নামার আগে থেকেই পদক জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
বাছাইপর্বে সম্ভাব্য ১২৫ পয়েন্টের মধ্যে ১২১ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করেছিলেন নীরু ধান্ডা। ফাইনালেও তাঁর দুর্দান্ত পারফরমেন্স অব্যাহত রাখেন। ফাইনালে তাঁকে একবারও বিচলিত মনে হয়নি। ৭ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সোনা জিতে নেন এই ভারতীয় মহিলা শুটার। নীরু সহজেই প্রথম তিনে থেকে পদক নিশ্চিত করেন। এরপর ফ্রান্সের প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও অলিম্পিয়ান ক্যারল করমেনিয়ারের কাছে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হন। চূড়ান্ত রাউন্ডে দুটি শট বাকি থাকতে নীরু ও করমেনিয়ার উভয়েই ২৫ পয়েন্ট করে পেয়ে একই স্থানে ছিলেন। শেষ রাউন্ডে ফরাসি শুটার মিস করলেও নীরু লক্ষ্যে অবিচল থেকে স্বর্ণপদক জিতে নেন। ইতালির প্রাক্তন জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এরিকা সেসাকে ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
ইতিহাস গড়ার পর নীরু বলেন, ‘পোডিয়ামে জাতীয় পতাকা উঠতে দেখাটা আমার কাছে এক অসাধারণ অনুভূতি। এটা আমাকে উপলব্ধি করিয়েছে যে, বিশ্বের সেরা শুটাররা আমাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। এই পর্যায়ে অনেক দিন ধরে মহিলাদের ট্র্যাপ ইভেন্টে আমাদের কোনও পদক ছিল না। এই স্বর্ণপদক অবশেষে সেই বাধা দূর করল। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, এখন থেকে ভারতে আরও নিয়মিতভাবে পদক আসবে।’ ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে নীরু ধান্ডা আরও বলেন যে, ‘এই বিশ্বকাপ জয় একটা দীর্ঘ প্রতিযোগিতামূলক চক্রের প্রথম ধাপ মাত্র। এই স্বর্ণপদকটি দলের আত্মবিশ্বাস ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেবে, কারণ দলটি এখন আসন্ন বড় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং অলিম্পিক বাছাইপর্বের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।’
❤ Support Us








