Advertisement
  • মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
  • জুলাই ১৩, ২০২৬

উত্তর আমেরিকার মাটিতে মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে পারবে ইউরোপ ?‌

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উত্তর আমেরিকার মাটিতে মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে পারবে ইউরোপ ?‌

বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই ইউরোপের দুই মহাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেনকে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে মনে করা হচ্ছিল। কারণ, দুই দলের গভীরতা। প্রত্যাশামতোই এই দুই দল সেমিফাইনালে উঠে এসেছে। সেমিফাইনালে ওঠা ৪ দলের মধ্যে তিনটি ইউরোপের। ফ্রান্স ও স্পেনের সঙ্গে উঠে এসেছে ইংল্যান্ড। ইউরোপের বাইরে একটা মাত্রই দেশ শেষ চারে, সেটা আর্জেন্টিনা। কিন্ত প্রশ্ন হল, উত্তর আমেরিকা থেকে এবারের বিশ্বকাপ কি শেষ পর্যন্ত ইউরোপে যাবে ?‌

ইতিহাস কিন্তু তা বলছে না। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত আগের তিনটি বিশ্বকাপে, মেক্সিকো ১৯৭০ ও ১৯৮৬ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৪, শিরোপা জিতেছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলি। যার মধ্যে ব্রাজিল দুবার এবং আর্জেন্টিনা একবার। ব্রাজিল জিতেছিল ১৯৭০ মেক্সিকো ও ১৯৯৪ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ। অন্যদিকে, ১৯৮৬ মেক্সিকোতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মারাদোনার আর্জেন্টিনা।

তবে এবারের বিশ্বকাপ শেষ ষোলোর পর্ব শেষে যখন কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বে পৌঁছয়, ইউরোপের দেশগুলি আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। কারণ ৮টি কোয়ার্টার ফাইনালিস্টের মধ্যে ৬টি দেশই ইউরোপের। অন্যতম দুই ফেভারিট ফ্রান্স ও স্পেনের পাশাপাশি শেষ আটে উঠেছিল ইউরোপের আরও ৪ দেশ ইংল্যান্ড, নরওয়ে, বেলজিয়াম এবং সুইজারল্যান্ড। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ থেকে একমাত্র উঠেছিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করছিল মরক্কো। এশিয়া, উত্তর আমেরিকা বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে কোনও দল শেষ আটে খেলার সুযোগ পায়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি মরক্কো।

সম্প্রসারিত ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে রেকর্ড সংখ্যক ১৬টি ইউরোপীয় দেশ অংশ নিয়েছিল। যাদের মধ্যে ১২টি নকআউট পর্বে উত্তীর্ণ হয়েছিল, যা ইতিহাস নতুন করে লেখার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাউন্ড অফ ৩২–এ ইউরোপকে অবশ্য বড় ধাক্কা খেতে হয়েছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, তিনবারের রানার্স আপ হল্যান্ড এবং ২০১৮ সালের ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়াসহ ৫টি দল বিদায় নিয়েছে। যদিও এদের মধ্যে কোনও দলই শিরোপার প্রধান দাবিদার ছিল না। তবুও তাদের দ্রুত বিদায় বেশ আশ্চর্যজনক ছিল।
তবে মহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলি জোরালোভাবে জবাব দিয়েছে। ফ্রান্স ও স্পেন যথাক্রমে মরক্কো ও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছিল। ইংল্যান্ডও নরওয়ের কঠিন বাধা পেরিয়ে শিরোপা জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। শেষ ষোলোর লড়াই ইউরোপের আধিপত্যকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছিল। ৮টি ইউরোপীয় দল এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যার মধ্যে পর্তুগালই স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে, যা ছিল দুটি ইউরোপীয় দলের মধ্যকার ম্যাচ হওয়ায় এক অনিবার্য পরিণতি। তবে, ইউরোপীয় দলগুলিকে নিয়ে অনুষ্ঠিত বাকি পাঁচটি নকআউট ম্যাচে সবাই জয়ী হয়েছিল।
পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২–১ গোলে হারিয়ে নরওয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটন ঘটায়। অন্যদিকে বেলজিয়াম আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ৪–১ গোলে হারিয়ে অবাক করে দিয়েছিল। এছাড়া, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কলম্বিয়াকে নাটকীয় টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের জায়গা করে নেওয়াটা সুইজারল্যান্ডের চমকও ছিল।

শেষ ষোলোতে দক্ষিণ আমেরিকা ও উত্তর আমেরিকা উভয়েরই তিনটি করে দল ছিল। কিন্তু কেবল আর্জেন্টিনাই টিকে রয়েছে, তাও আবার মিশরের বিরুদ্ধে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর। আয়োজক তিনটি দেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে। ইউরোপের এই দেশগুলির ধারাবাহিক সাফল্য কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। এর অভিজাত ঘরোয়া লিগ, আর্থিক শক্তি এবং খেলোয়াড় উন্নয়ন ব্যবস্থার জোরে এই মহাদেশ কয়েক দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের পর, ইতালি, স্পেন, জার্মানি এবং ফ্রান্সের মাধ্যমে পরবর্তী চারটি সংস্করণ ইউরোপীয় দেশগুলো জিতেছিল। এরপর ২০২২ সালে কাতারে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতে সেই ধারার অবসান ঘটায়।

পরিসংখ্যানেও ইউরোপের ক্রমবর্ধমান প্রভাব প্রতিফলিত হয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও মরক্কোর পাশাপাশি পাঁচটি ইউরোপীয় দল কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল। এ বছর সেই সংখ্যা বেড়ে ছয় হয়েছে। তবুও, আর্জেন্টিনা ও মরক্কো ইতিহাস থেকে আশা খুঁজে নিতে পারে। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে, তৎকালীন রেকর্ড সংখ্যক সাতটি ইউরোপীয় দল কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল। কিন্তু ব্রাজিল, হল্যান্ড, সুইডেন এবং ইতালিকে পরাজিত করে তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে। ফুটবলের ভাগ্য মাঠেই নির্ধারিত হয়, কাগজে-কলমে নয়। তবে আপাতত, ইউরোপের সেরা দলগুলো বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধার করতে এবং উত্তর আমেরিকার মাটিতে মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।‌‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!