Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

হিমালয়ের কোলে ফের দুর্যোগের ভ্রূকুটি ! নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত ২১, নিখোঁজ বহু, কেদারনাথে আটকে কয়েক হাজার তীর্থযাত্রী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হিমালয়ের কোলে ফের দুর্যোগের ভ্রূকুটি ! নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত ২১, নিখোঁজ বহু, কেদারনাথে আটকে কয়েক হাজার তীর্থযাত্রী

টানা চার দিনের প্রবল বৃষ্টিতে নেপালের একাধিক প্রান্তে বন্যা ও ভূমিধস। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে একাধিক নদী। রাস্তা বন্ধ, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। প্রায় তিন হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে হিমলুং শৃঙ্গের বেস ক্যাম্পে তুষারধসে স্থানীয় শ্রমিকদের নিখোঁজ হওয়ার খবর এসেছে।

গত মাসের ভয়াবহ হড়পা বান ও হিমবাহ-উদ্ভূত বন্যার ক্ষত এখনো শুকোয়নি। বহু মানুষের খোঁজ মেলেনি এখনো। সে বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ফের প্রকৃতির রুদ্ররূপের মুখোমুখি নেপাল। টানা চার দিনের প্রবল বৃষ্টিতে দেশের একাধিক প্রান্তে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোথাও নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়েছে, কোথাও পাহাড় ভেঙে রাস্তা বন্ধ। একাধিক জনপদে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাহত হয়েছে সড়ক, বিদ্যুৎ এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা।

২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা, ভূমিধস, বজ্রপাত এবং বৃষ্টিজনিত অন্যান্য দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের জাতীয় বিপর্যয় ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ । নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েক জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচ জন। পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, এ দফার দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ভূমিধসে। পাহাড়ি এলাকায় ধস নেমে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যায় প্রাণ গিয়েছে আরও চার জনের। প্রবল বৃষ্টি ও তার জেরে ঘটে যাওয়া অন্যান্য দুর্ঘটনায় আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। ধসের ঘটনায় এখনো পাঁচ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

বাগলুং জেলার নিশিখোলা এলাকায় রবিবার সকালে বড়োসড়ো ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। মাটি ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য একটি ঘটনায় পালপা জেলার মাথাগধি গ্রামীণ পুরসভায় শনিবার রাতে ধস নেমে একটি বাড়ি ভেঙে পড়ে। রবিবার সকালে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে পাঁচ জনের দেহ উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে মৃতের সংখ্যা ও ঘটনাভিত্তিক হিসাবের কিছুটা তারতম্য থাকলেও, টানা বৃষ্টির জেরে বিপর্যয়ের পরিধি যে দ্রুত বাড়ছে, তা স্পষ্ট। গত পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে ৪৩৯টি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে। ওই সমস্ত দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিরাপত্তাকর্মীরা বন্যা, ভূমিধস এবং জলমগ্ন এলাকায় আটকে পড়া ১,২৮৪ জনকে উদ্ধার করেছেন। পাশাপাশি বিপজ্জনক এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজও চলছে। সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

বৃষ্টির জেরে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নদীগুলির জলস্তর নিয়ে। লুম্বিনি প্রদেশের রুপানদেহি জেলায় শনিবার রাতে তিনাউ নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায়। নদীর জল বেড়ে বুটওয়াল এলাকায় নদীর তীরবর্তী ছ’টি বাড়ি ভেসে যায়। পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় নদীর ধারে থাকা প্রায় ২০০টি বাড়িকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নিরাপত্তাকর্মীরা রাতারাতি প্রায় ১,০০০ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যান। প্রথমে বুটওয়াল মেট্রোপলিটন সিটি-১৩-এর মাজুওয়া এলাকার প্রায় ৫০০ বাসিন্দাকে দুর্গা মন্দিরের ত্রাণকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাঁদের বুটওয়াল-১১ এলাকার বিভিন্ন স্কুলে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনাউ এবং আশপাশের ছোটো নদীগুলির জলস্তরও একটানা বৃষ্টিতে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। জেলা প্রশাসনের তরফে নদী ও নালার ধারের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি জলস্তর বাড়লে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চিতওয়ান জেলাতেও নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। রবিবার ভোরে নারায়ণী এবং রিউ নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে শুরু করে। দেবঘাট গেজ স্টেশনে ভোর ৫টা ১৫ মিনিট নাগাদ নারায়ণী নদীর জলস্তর ৯.২৩ মিটারে পৌঁছয়। সেখানে বিপদসীমা ৯ মিটার। অর্থাৎ নির্ধারিত বিপদসীমার থেকেও বেশ খানিকটা উপরে উঠে যায় নদীর জল। রিউ নদীর জলস্তরও ৩.৯২ মিটারে পৌঁছয়, যেখানে বিপদসীমা ৩.৮ মিটার। শুধু নদীর জল নয়, চিতওয়ানের বিভিন্ন জায়গায় ভারী বৃষ্টির জেরে ভূমিধস ও কাদাধসও হয়েছে। ইচ্ছাকামনা গ্রামীণ পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধরাপানিতে রাস্তার একটি অংশ আরও বসে যায়। তার সঙ্গে কাদামাটি ও পাথর নেমে এসে রাস্তার দু’দিকের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। একই এলাকার সিমালধারাতেও ধস নেমে রাস্তা দু’দিক থেকে আটকে যায়।

কার্নালি প্রদেশেও বাড়ছে উদ্বেগ। পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। ডোলপার থুলি ভেরি নদীর জলস্তর ৩.৪৬ মিটারে পৌঁছেছিল। সেখানে সতর্কতামূলক সীমা ৩.৫৬ মিটার এবং বিপদসীমা ৩.৭৬ মিটার। হুমলার সারকেগাড়ে কার্নালি নদীর জলস্তর ছিল ২.৭৪ মিটার। সতর্কতামূলক সীমা ৪ মিটার হলেও জলস্তর বাড়ছিল। বিয়ুনহিধাঁদায় নদীর জলস্তর ছিল ২.৪২ মিটার। মুগু কার্নালি নদীর জলস্তরও বেড়ে ৫.১ মিটারে পৌঁছেছে। সেখানে সতর্কতামূলক সীমা ৭.৫ মিটার এবং বিপদসীমা ৯ মিটার। মুগুর ঝাড়িখোলায় ভূমিধসে নাগনা-গামগঢ়ী সড়ক বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কালিকোটের শুভকালিকা গ্রামীণ পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্যাগনে খোলায় কাদাধসে কার্নালি হাইওয়ে বন্ধ হয়ে যায়। হুমলার কার্নালি করিডরের একাধিক জায়গাতেও ধসের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সারকেগাড়-১-এর খাচ্চা, খারপুনাথ-১-এর গোপচেগৌড়া এবং নামখা-৪-এর ইয়ালওয়াংয়ে ভূমিধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুমলায় টিলা কার্নালি এবং সিজা নদীর জলস্তর অবশ্য আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।

বৃষ্টির জেরে শুধু রাস্তা বা বাড়িঘর নয়, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও বড়সড় প্রভাব পড়েছে। মানাং, মুস্তাং, মিয়াগদি এবং বাগলুং জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট দফতর। রাহুগঙ্গা নদীর বন্যায় ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাঠামো এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেপালের পানিসম্পদ ও জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ। বন্যার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও। অপটিক্যাল ফাইবার এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা। বন্যার আশঙ্কা শুধু কয়েকটি জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নেপালের ৭৭টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রধান নদী এবং শাখা নদীগুলির জলস্তর বাড়তে থাকায় দেশের অর্ধেকেরও বেশি জেলা বন্যা বা আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

‘এনডিআরআরএমএ’-র মুখপাত্র শান্তি মহাত জানিয়েছেন, গত মাসের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া এবং নুওয়াকোট জেলাকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে ওই দুই জেলাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকায় রাখা হয়নি। গত মাসের সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ে ১,৪৫০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এরই মধ্যে শনিবার নারায়ণী এবং সপ্তকোশী নদীর জল উপচে নওয়ালপরাসি পশ্চিম এবং সপ্তরী জেলার ৩৮৯টি বাড়ি প্লাবিত হয়। বহু পরিবারকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার জন্য প্রশাসনের তরফে বার বার আবেদন করা হয়েছে।

গত মাসের বিপর্যয়ের ভয়াবহতাই এই নতুন বৃষ্টিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। হিমালয়-ঘেরা নেপাল এখনো সে ক্ষত সামলে উঠতে পারেনি। গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে উৎপত্তি হওয়া হড়পা বানে উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়েছিল। সরকারি হিসাবে, সেই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১,৪৫৩-তে পৌঁছেছিল এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ। প্রায় ১৩,৭৯৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এ পরিস্থিতির মধ্যেই এ বার নতুন করে বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও এক বিপদ—হিমালয়ে তুষারধস। নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় মানাং জেলায় ৭,১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং হিমালের বেস ক্যাম্পে তুষারধসের ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিকদের নিখোঁজ হওয়ার খবর মিলেছে। পর্বতারোহণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য তাঁবু তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন ওই শ্রমিকেরা। তুষারধসের সময় বিদেশি পর্বতারোহীরা সেখানে ছিলেন না। প্রাথমিক ভাবে অন্তত ১০ জন স্থানীয় শ্রমিকের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে উদ্ধারকারী দলের তরফে নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেশি বলে জানানো হয়েছে। তুষারধসে বেস ক্যাম্পের তাঁবুগুলি গভীর তুষারের নীচে চাপা পড়ে যায়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুল সিং গুরুং জানিয়েছেন, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে দুটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে আট জন পর্বতারোহী গাইড অংশ নিয়েছেন। উদ্ধারকারী দলের নেতৃত্বে থাকা পর্বতারোহী মিংমা জি শেরপা জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আরও আগে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারলে প্রাণ বাঁচানোর সম্ভাবনা ছিল। মিংমা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মৃত দু’জনই গাইড। অন্য দিকে নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন অভিযানের শিবিরে রান্নার কাজে যুক্ত কর্মীরা। তুষারধসে ঠিক কত জন এখনও নিখোঁজ, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত সংখ্যা জানতে আরও উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান প্রয়োজন।

নেপালের এই পরিস্থিতির সঙ্গে একই সময়ে উত্তরাখণ্ডেও প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ি বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বদ্রীনাথ জাতীয় সড়কের সিরোবাগাড় এলাকায় ধস নেমে রাস্তার উপর কাদা, মাটি ও বড় পাথর পড়েছে। ধারি দেবী মন্দিরের কাছে রাস্তার দু’দিকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৪,০০০ তীর্থযাত্রী আটকে পড়েছেন বলে খবর। ধস সরাতে জাতীয় সড়ক দফতরের যন্ত্র নামানো হলেও পাহাড়ের ঢাল থেকে নতুন করে পাথর ও ধ্বংসাবশেষ পড়ায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক নন্দন সিং রাজওয়ার জানিয়েছেন, রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে। তবে কবে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সিরোবাগাড়ে এ ধরনের ধস নতুন নয়। প্রায় তিন দশক ধরে বর্ষার সময়ে বদ্রীনাথ যাওয়ার পথে এই অংশটি বার বার সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ের খাড়া ঢালের মাটি ও পাথর বৃষ্টিতে আলগা হয়ে রাস্তার উপর নেমে আসে। যন্ত্র দিয়ে ধস সরিয়ে রাস্তা খোলার পর ফের বৃষ্টি নামলে নতুন করে ধস নামে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি ফের সামনে এসেছে।

পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কেদারনাথ যাত্রাও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর তেহরি, হরিদ্বার, দেহরাদূন এবং পৌড়িতে ভারী বৃষ্টির জন্য লাল সতর্কতা জারি করেছে। নৈনিতাল, রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলি এবং উত্তরকাশীতে কমলা সতর্কতা রয়েছে। আলমোড়া, চম্পাবত, পিথোরাগড়, উধম সিং নগর এবং বাগেশ্বরে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অলকানন্দা ও মন্দাকিনী নদীর জলস্তরও বেড়েছে। রবিবার অলকানন্দার জলস্তর ৬২৬.১০০ মিটার এবং মন্দাকিনীর জলস্তর ৬২৫.১০০ মিটার রেকর্ড করা হয়। নদীর ধারের এলাকাগুলিতে বিপদের আশঙ্কা বাড়ায় রুদ্রপ্রয়াগের জেলা ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টারকে সতর্ক রাখা হয়েছে। নদীর ধার থেকে দূরে থাকতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

এর মধ্যেই কেদারনাথ যাওয়ার পথে চিরবাসা এলাকায় আটকে পড়া প্রায় ১,৫০০ তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করেছে এসডিআরএফ, এনডিআরএফ এবং ডিডিআরএফ -এর যৌথ দল। রবিবার গভীর রাতে গৌরীকুণ্ড থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে চিরবাসায় ভূমিধসের কারণে তাঁরা আটকে পড়েছিলেন। সোনপ্রয়াগ পুলিশ খবর দেওয়ার পর সাব-ইনস্পেক্টর আশিস ডিমরির নেতৃত্বে SDRF-এর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। চিরবাসা হেলিপ্যাডের কাছে রাস্তার উপর বিপুল পরিমাণ ধসের ধ্বংসাবশেষ জমে ছিল। তার উপর পাহাড় থেকে ক্রমাগত পাথর পড়ছিল। ফলে তীর্থযাত্রীদের চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এসডিআরএফ, এনডিআরএফ এবং ডিডিআরএফ -এর দল যৌথ ভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধসের এলাকা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পার করিয়ে তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের গৌরীকুণ্ডের দিকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এসডিআরএফ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!