Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

বাজেট অধিবেশনেই সংসদে পেশ নতুন মোটর ভেহিক্যাল সংশোধনী বিল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাজেট অধিবেশনেই সংসদে পেশ নতুন মোটর ভেহিক্যাল সংশোধনী বিল

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়মে বড়সড় স্বস্তির প্রস্তাব আনতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। নতুন ‘মোটর ভেহিক্যাল সংশোধনী বিল’ অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে বা তা পুনর্নবীকরণ করতে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত আর মেডিক্যাল ফিটনেস সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে না। পরিবহণ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংসদের বাজেট অধিবেশনেই এই বিলটি পাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে ৪০ বছরের বেশি বয়স হলেই ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু বা রিনিউ করার সময় মেডিক্যাল ফিটনেস সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সেই বয়ঃসীমা বাড়িয়ে ৬০ বছর করার কথা বলা হয়েছে। ফলে ৬০ বছরের নীচে থাকা চালকদের আর প্রতি বছর লাইসেন্স নবীকরণের সময় আলাদা করে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে না। এর ফলে সাধারণ চালকদের অতিরিক্ত খরচ ও হয়রানি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে পরিবহণ দফতর।

এই নিয়ম কার্যকর হলে যে কোনও ধরনের গাড়িচালকেরই সুবিধা হবে বলে মত অনলাইন ক্যাব অপারেটর গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর বক্তব্য, “শারীরিকভাবে অসুস্থ কেউ গাড়ি চালাতে পারেন না, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ৪০ বছরের বেশি বয়স হলেই প্রতি বছর মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নেওয়ার বাধ্যবাধকতা যুক্তিসঙ্গত ছিল না। যদি নতুন আইনে তা ৬০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়, তাহলে চালকদের বড় স্বস্তি মিলবে। কারণ, একটি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট পেতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা খরচ করতে হত। নতুন নিয়মে সেই খরচ আর থাকবে না।”

রাজ্য পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই মেডিক্যাল সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক থাকার ফলে রাজ্য সরকারের কোনও আর্থিক লাভ হত না। বরং সাধারণ মানুষকে বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হত। নতুন নিয়ম চালু হলে সেই বাড়তি খরচ ও ভোগান্তি কমবে, যার ফলে চালক ও প্রশাসন—দু’পক্ষই উপকৃত হবে।

তবে স্বস্তির পাশাপাশি নতুন সংশোধনীতে থাকছে কঠোর শাস্তির বিধানও। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত বা অসাবধানতাবশত বারবার ট্রাফিক আইন ভেঙে একাধিকবার ‘চালান’ কাটা হলে সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। আরও কড়া নিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, গত তিন বছরের মধ্যে একবারও যদি কোনও চালকের লাইসেন্স বাতিল হয়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সেই লাইসেন্স আর পুনর্নবীকরণ করা হবে না।

এ ছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রাফিক আইন ভাঙার জরিমানা না মেটালে সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, জরিমানা না দেওয়া পর্যন্ত ওই গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে না।

পরিবহণ দফতরের কর্তাদের মতে, এই সংশোধনী কার্যকর হলে একদিকে যেমন আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে, তেমনই সড়ক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। শিথিলতা ও কড়াকড়ির ভারসাম্য রেখে নতুন মোটর ভেহিক্যাল আইনের মাধ্যমে রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরানোই কেন্দ্র সরকারের মূল লক্ষ্য।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!