- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১৩, ২০২৬
মোথাবাড়ির ঘটনায় দুই কংগ্রেস নেতাকে আটক করল এনআইএ। জেরা শেষে শর্তসাপেক্ষে মুক্ত কং-প্রার্থী সায়েম
ভোটের মুখে মালদার মোথাবাড়ি ক্রমশই পরিণত হচ্ছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে। বিচারকদের ঘেরাও-কাণ্ডে তদন্তে নেমে পরপর পদক্ষেপ করছে এনআইএ। রবিবার গভীর রাতের অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই কংগ্রেস নেতাকে। ধৃতরা হলেন জেলা ছাত্র পরিষদের সভাপতি আসিফ শেখ, এবং আইএনটিইউসি-র মালদহ জেলা কমিটির সদস্য শাহাদত হোসেন।। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মোথাবাড়ি কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরীকে, যদিও তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরাক্কার টাউনশিপে অস্থায়ী ক্যাম্পে রবিবার রাতভর জেরা করা হয় ৩ জনকেই। পৃথক ভাবে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলে রাত প্রায় আড়াইটে পর্যন্ত। তারপর সোমবার সকালে আসিফ ও শাহাদাতকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য দিকে, প্রায় ১০ ঘণ্টার জেরা শেষে সায়েম চৌধুরীকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও তদন্ত এখানেই থেমে থাকছে না। তাঁর ফোন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ফের তাঁকে তলব করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। এনআইএ অফিস থেকে বেরিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তায় সায়েমের অভিযোগ, ‘আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল।’ তাঁর দাবি, বিজেপি নয়, এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই তাঁকে নিশানা করছে। কংগ্রেস শিবিরও কেন্দ্রীয় সংস্থার পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই তুলে ধরেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১ এপ্রিল কালিয়াচকের মোথাবাড়িতে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে উত্তেজিত জনতা বিডিও অফিসের ভিতরে বিচারকদের ঘিরে ফেলে। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় তাঁদের আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। বেরোনোর পথে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে আসে। সে ঘটনার জেরেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে। এর আগে এনআইএ গ্রেফতার করে আইএসএফের পঞ্চায়েত সদস্য, মোথাবাড়ির প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা গোলাম রাব্বানিকে। তারও আগে রাজ্য পুলিশের হাতে ধরা পড়েন আইএসএফ প্রার্থী মওলানা শাহাজাহান আলি কাদরী।
অন্য দিকে, ঘটনায় অন্যতম ‘মূল চক্রান্তকারী’ হিসেব হিসেবে অভিযুক্ত এআইএমআইএম নেতা মোফাক্কারুল ইসলাম-কে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে রাজ্যের সিআইডি। সব মিলিয়ে মোথাবাড়ির ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের দাবি, মোথাবাড়িতে জমায়েত ও উত্তেজনা ছড়ানোর পিছনে একটি সুপরিকল্পিত চক্র কাজ করছিল। চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েক জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে বলেও দাবি এনআইএ-র। নজর রাখা হচ্ছিল বেশ কিছু ‘প্রভাবশালী’ স্থানীয় ব্যক্তির উপর, তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন ধৃতদের কেউ কেউ— এমন ইঙ্গিতও মিলেছে তদন্ত সূত্রে।
এদিকে প্রশাসনিক স্তরেও নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য। মালদার অতিরিক্ত জেলাশাসক (আইন-শৃঙ্খলা) শেখ আনসার আহমেদকে শোকজ করা হয়েছে। অভিযোগ, ১ এপ্রিলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সময় তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে কালিয়াচকে পাঠানো হলেও বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত, এই ৫ ঘণ্টায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মাঠ পর্যায় থেকে কোনো তথ্য দেননি তিনি। যদিও তথ্যানুসন্ধানে জানা গিয়েছে, ওই সময় তিনি মহকুমা শাসক ও বিডিও-র সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে ছিলেন। অর্থাৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি জেলাশাসকের দফতরে রিপোর্ট করেননি, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ভোটের আগে এই পরপর গ্রেফতারি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপে মোথাবাড়ির ঘটনায় নতুন মাত্রা পেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজনৈতিক চাপানউতোর, কেন্দ্রীয় তদন্ত এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি, সব মিলিয়ে মালদার এই ঘটনা এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
❤ Support Us





