Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

বাংলায় স্লিপার সেল তৈরির ছক? জেএমবি যোগের তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্যের পাঁচ জায়গায় এনআইএ-র তল্লাশি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলায় স্লিপার সেল তৈরির ছক? জেএমবি যোগের তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্যের পাঁচ জায়গায় এনআইএ-র তল্লাশি

বাংলার মাটিতে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন-এর স্লিপার সেল তৈরির পরিকল্পনার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অসমের একটি মামলার তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর, পূর্ব বর্ধমান, ডায়মন্ড হারবার-সহ রাজ্যের মোট পাঁচটি জায়গায় এই অভিযান চলছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারী সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। গত সপ্তাহে অসমে জঙ্গি কার্যকলাপের সন্দেহে এক যুবককে গ্রেফতার করে এনআইএ। তদন্তে ওই যুবকের সঙ্গে জামাত-উল-মুজাহিদিনের যোগসূত্রের তথ্য সামনে আসে বলে দাবি তদন্তকারীদের। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বাংলাদেশের ওই জঙ্গি সংগঠনের একটি মডিউল বাংলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলার মাটিতে স্লিপার সেল তৈরির জন্য সংগঠনের তরফে তৎপরতা চালানো হচ্ছিল বলেও তদন্তে তথ্য উঠে এসেছে বলে এনআইএ সূত্রে খবর।

তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে বাংলার কিছু যুবককে প্রভাবিত বা মগজধোলাই করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অসমে ধৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাঁর ল্যাপটপ ও অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা এই সংক্রান্ত আরও বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এরপরই সে তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে এনআইএ-র একাধিক দল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে তল্লাশি শুরু করে। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরে দুটি জায়গা, ডায়মন্ড হারবারে একটি জায়গা এবং পূর্ব বর্ধমানে একটি জায়গা-সহ মোট পাঁচটি স্থানে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

এর আগে বর্ধমানে জঙ্গি যোগের অভিযোগে হামিদ-ই-মহম্মদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। রেনেসাঁ হাউজিং এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা যায়। তদন্তকারীদের দাবি, হামিদ জইশ-ই-মহম্মদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাতেই বসবাস করছিলেন। হামিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছিলেন বলে সূত্রের খবর। তদন্তে উঠে আসে, সরকারি বিভিন্ন গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য তাঁর হাতে ছিল বলে অভিযোগ। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াত, তিনি কোন গাড়িতে চলাফেরা করেন, কখন গাড়িতে ওঠেন, গাড়ি কতদূর যায়, চালক কে এবং কোথায় গাড়ি পার্ক করা হবে—এই ধরনের বিস্তারিত তথ্যও তাঁর কাছে ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

এছাড়াও হাবড়া এলাকা থেকে রানা রইউফ-সহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই সমস্ত তদন্তের সূত্র এবং অসমের সাম্প্রতিক মামলায় উঠে আসা তথ্যকে সামনে রেখেই এবার রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এনআইএ-র এই তল্লাশি অভিযান বলে জানা গিয়েছে। তবে তল্লাশি অভিযানে ঠিক কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে এবং অভিযানের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কোনও গ্রেপ্তার করা হবে কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার তরফে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!