Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫

জনগণনায় অদৃশ্য ‘ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি’দের তথ্য: অবহেলিত কয়েক কোটি নাগরিক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জনগণনায় অদৃশ্য ‘ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি’দের তথ্য: অবহেলিত কয়েক কোটি নাগরিক

২০২৭ সালের আসন্ন জনগণনা গোটা দেশে যখন তর্ক-বিতর্কের কেন্দ্রে, জাতিভিত্তিক ও গোষ্ঠীভিত্তিক তথ্য সামনে আসতে চলেছে, আসন পুনর্বিন্যাসও চলছে আলোচনা, তখন প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, বিশাল কর্মযজ্ঞে ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের অবস্থান ঠিক কোথায়! কেন বিপুল সংখ্যক নাগরিক ব্রাত্যই রয়ে যাচ্ছেন!

২০১১ সালের শেষ জনগণনায় ভারতে মাত্র ২.৬৮ কোটি মানুষকে ‘ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি’দের হিসাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। দেশের মোট জনসংখ্যার হিসেব করলে সে সংখ্যা মাত্র ২.২১ শতাংশ। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব বলছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অন্তত ১৬ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ভাবে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি। সে অনুযায়ী, ভারতে সংখ্যাটা হওয়া উচিত ২০ কোটিরও বেশি, সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনায় প্রায় ৭ গুণ। পরিসংখ্যানের বিপুল ফারাক নিছক প্রযুক্তিগত ভুল নয়, রাজনৈতিক ব্যর্থতা, বলছেন সমাজতাত্ত্বিকেরা। কারণ, সংখ্যার অদৃশ্যতা মানেই রাজনৈতিক গুরুত্বহীনতা। জনসংখ্যার হিসেবেই যখন কোনো ‘গোষ্ঠী’কে দেখা যাচ্ছে না, তখন রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণেও তাদের অস্তিত্ব মুছে যায়।

এ দেশে ‘ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি’দের পরিসংখ্যানগত অদৃশ্যতার ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৪১ থেকে ১৯৭১—৩ দশক ধরে কোনো জনগণনাতেই এই গোষ্ঠীর অস্তিত্ব ছিল না। ১৯৮১-তে প্রথমবার অন্তর্ভুক্ত হলেও, ১৯৯১-তে আবার বাদ পড়ে যায়। এরপর ২০০১ ও ২০১১ সালে ফিরে এলেও, প্রকৃত সংখ্যা কত, তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই গিয়েছে। আরো উদ্বেগজনক ছবি লুকিয়ে রয়েছে লিঙ্গ-বিভাজনের ভেতরে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিবন্ধিতার হার নারীদের মধ্যে বেশি, প্রায় ১৯ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে সেটা ১২ শতাংশ। অথচ ২০১১-র জনগণনায় দেখা গিয়েছে, ভারতে প্রতিবন্ধী পুরুষের সংখ্যা ১.৫ কোটি, আর নারীর সংখ্যা মাত্র ১.১৮ কোটি। অর্থাৎ দু-দিক থেকেই অদৃশ্য নারীরা—লিঙ্গ এবং সক্ষমতা। এই দ্বৈত অদৃশ্যতা নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে বাজেট বরাদ্দ, সব জায়গাতেই প্রভাব ফেলছে। ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে এই শ্রেণির জন্য বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের মাত্র ০.০২৫ শতাংশ—যা গভীর উদ্বেগের কারণ হিসাবেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

কেন এমন হচ্ছে? উত্তর খুঁজতে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভিন্নভাবে সক্ষমতা একটি অনুভূমিক পরিচিতি, যা জাত, ধর্ম, লিঙ্গ বা শ্রেণির রেখা পেরিয়ে যায়। অধিকাংশ সামাজিক পরিচিতি বংশগত, সেখানে ভিন্নভাবে সক্ষম বিষয়টি আসে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে জুড়ে থেকে, প্রায়শই জীবনের পরবর্তী ধাপে। ফলে, এসকল মানুষেরা একটি সুসংগঠিত গোষ্ঠী হয়ে ওঠেন না। তাদের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর দুর্বলই থেকে যায়। তাই ২০২৭ সালের জনগণনায় ‘ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি’দের সঠিকভাবে গণনার দাবি জোরালো হচ্ছে সমাজকর্মীদের তরফে। তাদের বক্তব্য, জনগণনা কেবল পরিসংখ্যান নয়, রাষ্ট্রের চোখে নাগরিক হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া। সেখানে সঠিকভাবে গোনা হলে তবেই ‘বিশেষভাবে সক্ষম’ ব্যক্তিদের চিহ্নিত ‘গোষ্ঠী’ গড়ে উঠবে, দাবি উঠবে সংরক্ষণের, তৈরি হবে সুষ্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান।

তথ্যঋণ: নিপূল মলহোত্রা, ঋষিতা কুমারী— দ্য প্রিন্ট


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!