- কবিতা
- এপ্রিল ১৫, ২০২৫
কবিতা
চিত্রকর্ম: প্রকাশ কর্মকার
আতঙ্কের দিনরাত
১গাঢ় রাত্রি তোমাকে আমাকে রাখে দুই দিকে, আমার এ শ্রান্ত
চোখ নিভে নিভে আসে
তুমি কি শুনেছ হাসি ওই ভূতেদের ? কতখানি নিষ্ঠুরতা
জাগিয়ে তুলেছে চারপাশে !
নিদ্রা ভুলে প্রতিবাদ করো, কিংবা ওঝা হয়ে শক-থেরাপির
সাজাও আসর
ফিরবে না গোধূলি কিংবা ভোরের আকাশ, আর তার আলো
পূর্বাপর।
সূর্য ওঠার সাক্ষী হব বলে পার করি নিভৃত কষ্টের রাত
যেখানে নির্দিষ্ট নয় ঘণ্টা মিনিটের পথ, কখন যে কার্ফু আর
কখন যে চাঁদ
দিকনির্ণয় করে হুইসিল তরঙ্গ তুলে, মুছে দেয় পূর্বপুরুষের
সৌধলিপি, স্মৃতি অকস্মাৎ
চুরমার সমস্ত বিগ্রহ, যেন প্রবল ভিসুভিয়াস হয়ে তারা
পেতেছে মরণ-ফাঁদ !
আর সেই লাশগুলো, যারা দেখা দিয়ে আবার হারিয়ে যায়
জলের ভিতরে ?
জলের নির্মম গতি, অতীত কালের মতো নিরলস তারা
এ যাত্রার সাক্ষী নেই, জলের শব্দের মধ্যে সময়ের অন্তর্ঘাত
লাশ গুম করে
মাথার ওপরে ঘোরে নির্ভার আকাশ আর অনির্দিষ্ট
হত্যার কিনারা।
২
এ সময় ঘুমিয়ে পোড়ো না, আগুন লেগেছে বলে ধোঁয়ায় ধোঁয়ায়
ভরে ওঠে দেশ, যেদিকে তাকাই, দেখি দ্বেষ, শ্রেণিশত্রু ভেবে
ঘিরে ফেলে চারদিক
আগুনের ছড়িয়ে পড়ার আগে, এসো, নিরাপদ স্থানে যাই
ফায়ার-অ্যালার্ম ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে ক্রন্দনধ্বনির মতো,
কোন দিকে যাব? কোন পথ ঠিক ?
রাস্তায় কাদের দেহ, এমন রক্তাক্ত, চেনার উপায় নেই
ওদিকে যেয়ো না– অন্ধকার অনির্দিষ্ট করে পথ,
বিপর্যস্ত করে দেয় স্নায়ু
আতঙ্ক প্রকাশ করা এ সময় যথাযথ হবে না নিশ্চয়
রক্তের মতন লাল আকাশে মেঘের ফাঁকে এঁকেছে চিত্রবিচিত্র
আমাদের ক্ষুদ্র পরমায়ু।
শূন্য পথে দেখি শুধু আমি, তুমি নেই
এখনো কি দেখছ স্বপ্ন ? গোধূলি-আগুন কিংবা শ্রাবণ বর্ষার ?
ধরে নিই থেমেছে বিপ্লবপর্ব, শান্তিচুক্তি আমাদের হিতে
অথচ ভূতেরা দেখি সন্ত্রাস জমায় রাতে, এলাকা, মহল্লা, দুর্গ আর
ঝোপঝাড় লাল নীল বাতিঘর তাঁদের দখলে, গল্প জমে যায়
বেদনার বিপরীতে।
৩হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যাই পাঁচ-সাত কত কত ধাঁধার রাস্তায়
মনে হয় এখান থেকেই আমি পৃথিবীর
যে কোনো প্রান্তের দিকে চলে যেতে পারি
সূর্যপোড়া এই রাত জানে অতীতের যত গোপন কাহিনি
এবং প্রতিহিংসার ক্ষত
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শোক জানে দুঃস্বপ্নের মন্বন্তর, মহামারি ।
আগুনকে জানাই সুপ্রভাত ! দিন শুরু হয় তার দিনের মতন
কখনো ভোরের রং, কখনো ঝড়বিদ্যুৎ, কিংবা রক্তস্নান
রং পোড়াতে পারে না, শুধু তার চিত্রল শরীর দেখে
অযুত যৌবন
ফিরে পাই, যে নদীতে উল্কা আছড়ে পড়ে, আমি তার
স্রোতে পাই আত্মহননের টান ।
কে আমার কাঁধে রাখে হাত, তাকায় চোখের দিকে,
ঢেউয়ের ভিতরে
ঘোলা চোখে হয়তো সে মেপে দ্যাখে আমার অশ্রুর গভীরতা
আমি তার অবয়বে মৃত্যুগন্ধ পাই, ডুবসাঁতারে পার করি
হননকালের সীমা
ক্রোধে ফালা ফালা করি অদৃশ্য প্রতিহিংসার দেহ, নির্মমতা ।♦•♦–♦•♦♦•♦–♦•♦
❤ Support Us




