- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১৩, ২০২৬
শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তপ্ত নয়ডা! অচল প্রধান সড়ক, পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ, গাড়িতে আগুন
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা ৩ দিনের শ্রমিক বিক্ষোভ সোমবার নয়ডায় হঠাৎই হিংসাত্মক মোড় নিল। শিল্পাঞ্চলের একাধিক এলাকায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পথে নামে পুলিশ। কয়েকটি স্পর্শকাতর এলাকায় বলপ্রয়োগ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ফেজ-২ এলাকার সেক্টর ১ এবং ৮৪-তে বিক্ষোভকারীদের একাংশ অন্তত ২টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দ্রুত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলগুলিতেও। বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা দলে দলে রাস্তায় নেমে স্লোগান দিতে শুরু করেন। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। এর জেরে সকাল থেকেই দিল্লি-নয়ডা সীমান্তে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়। ডিএনডি ফ্লাইওয়ে-সহ প্রধান সড়কগুলিতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে। অফিস টাইমে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। কয়েক কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির লাইন, অনেক ক্ষেত্রেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, চিল্লা বর্ডারের কাছে নয়ডা লিঙ্ক রোড সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। ফলে দিল্লি থেকে নয়ডাগামী যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প পথ হিসেবে ডিএনডি বা এনএইচ-২৪ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নয়ডা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, ‘পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে।’ পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সর্বত্র পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, আগের দিনই জেলা প্রশাসন ও শিল্পপতিদের তরফে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও কেন পরিস্থিতি এত দ্রুত অবনতি হল? শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বেতন সংশোধনের দাবি জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। এ দিন নয়ডা অথরিটিতে একটি জরুরি বৈঠকও ডাকা হয়। সেখানে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি, বোনাস, সাপ্তাহিক ছুটি এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনাও হয়। জেলা শাসক মেধা রূপম অভিযোগ জানানোর জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালু করেন এবং একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম গঠনের ঘোষণা দেন। তাঁর আশ্বাস, ‘সব অভিযোগ দ্রুত খতিয়ে দেখা হবে।’
এ দিকে, পরিস্থিতির জেরে দিল্লি পুলিশকেও উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দিল্লিতে প্রবেশের সব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গাড়িতে কড়া তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।তবে, এই মুহূর্তে ভোগান্তির চরমে সাধারণ মানুষ। বহু যাত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে। এক বেসরকারি সংস্থার কর্মী বলেন, ‘সকাল সাড়ে সাতটায় বেরিয়েও এক ঘণ্টার বেশি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। গাড়ি এক ইঞ্চিও এগোয়নি।’ প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জোরকদমে কাজ চলছে। তবে শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতা ও শ্রমিক অসন্তোষ যে গভীরতর সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা মানছেন অনেকেই। এখন দেখার, আলোচনার মাধ্যমে কত দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করা যায়।
❤ Support Us





