Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১৪, ২০২৫

‘শহিদ দিবস’-এ অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আইন রক্ষকের হাতেই হেনস্থা, অভিযোগ জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘শহিদ দিবস’-এ অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আইন রক্ষকের হাতেই হেনস্থা, অভিযোগ জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর

কাশ্মীরি শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে শারীরিক হেনস্থার শিকার হলেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। নিজের শরীরেই আক্রমণের প্রমাণ দেখালেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে ওমর লিখলেন, ‘আইনের রক্ষকদের হাতে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া হল আমাকে। কিন্তু আমি নত হব না।’

১৩ জুলাই, ১৯৩১— ইতিহাসের এক যুগ সন্ধিক্ষণ। সেই দিন ডোগরা সেনার গুলিতে নিহত হন ২২ জন কাশ্মীরি। তাঁদের স্মরণে প্রতিবছর এই দিনে ‘মাজার-এ-শুহাদা’য় শ্রদ্ধা জানাতে যেতেন কাশ্মীরি রাজনৈতিক নেতারা। কিন্তু ২০১৯-এর পর থেকে বদলেছে চিত্র। এবারও মুখ্যমন্ত্রীপদে থেকেও জনতার শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিলেন ওমর। কিন্তু শ্রীনগরের নওহট্টা চৌকে পৌঁছতেই বাধা পুলিশ। ওমরের অভিযোগ, ‘আমরা যখন গাড়ি থেকে নামলাম, আমাদের সামনে ব্যারিকেড বসানো হল। আমাদের পতাকা ছিঁড়ে ফেলতে চাইল পুলিশ। গায়ে হাত দিল। এরা মাঝে মাঝে ভুলে যায়, আইনটা আসলে কী।’ এবছর রাজভবনের তরফে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল, সমাধিক্ষেত্রের দিকে এগোলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একাধিক নেতা ছিলেন গৃহবন্দি। ওমর বলেন, ‘গতকাল আমাকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হয়নি। রাত পর্যন্ত আমার গেটের সামনে বযারিকেড ছিল। আজ কিছু না জানিয়ে আমি শহিদদের সম্মান জানাতে রওনা হয়েছিলাম।’ জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘যারা আমাদের আটকাচ্ছে, তারা ভাবছে এ দেশ তাদের একার। আমরা কারো দাস নই। আমরা যদি কারো দাস হই, তবে সেই দাসত্ব শুধুই জনগণের। ওঁরা আমাদের থামাতে চেয়েছিল, পারেনি। আমরা এসেছি, সুরা ফাতিহা পাঠ করেছি।’

এই দিনটিকে কাশ্মীরের ‘জালিয়ানওয়ালা বাগ’ বলেই অভিহিত করেন অনেকে। সেই দিন, ব্রিটিশ প্রভাবাধীন ডোগরা শাসক হরি সিংহের বাহিনী শ্রীনগর জেলের সামনে বিক্ষোভকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়। আব্দুল কাদির নামে এক যুবকের মুক্তির দাবিতে ছিল সেই বিক্ষোভ। ওই ঘটনায় ২২ জন নিহত হন। এরপর কাশ্মীরের রাজনীতিতে শুরু হয় নতুন অধ্যায়। শহিদদের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম বিধানসভা নির্বাচন। শুরু হয় গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো গঠনের প্রক্রিয়া। আগে ১৩ জুলাই রাজ্য সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হত। শহিদদের উদ্দেশে গার্ড অব অনার দিত পুলিশ বাহিনী। রাজনৈতিক দলগুলি সভা করত, মাজারে ফুল দিত।

কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা (অনুচ্ছেদ ৩৭০) প্রত্যাহার এবং রাজ্যের ভেঙে ২ টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বদলের পর থেকেই শহিদ দিবসের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে ১৩ জুলাই এবং শেখ আবদুল্লাহর জন্মদিন (৫ ডিসেম্বর) ছুটির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। পরিবর্তে এখন ছুটি পালন হয় ডোগরা শাসক হরি সিংহের জন্মদিনে। এদিন ওমর আবদুল্লাহর মতোই গৃহবন্দি ছিলেন পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি ও পিপলস কনফারেন্স নেতা সাজাদ লোন। ৩ জনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শাসক শিবিরকে আক্রমণ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ওমর আবদুল্লাহর দাবি, ‘১৩ জুলাই গণআন্দোলনের প্রতীক। আজ সে ইতিহাস মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, কারণ শহিদরা নির্দিষ্ট ধর্মালম্বী ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে যাঁরা লড়েছিলেন, তাঁদের আজ খলনায়ক বানানো হচ্ছে।’ একজন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশ-প্রশাসনের বলপ্রয়োগের ঘটনা সামনে আসতে, প্রশ্ন উঠছে, ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর সংবিধানিক অধিকার কি খর্ব করছে কেন্দ্র সরকার? জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়েও প্রশ্ন উঠছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!