Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১৩, ২০২৫

দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়াকে দলবদ্ধ যৌন নির্যাতনের ঘটনায় এবার গ্রেফতার অস্থায়ী পুরকর্মী, মোট অভিযুক্ত ধরা পড়ল ৪ । এখন অধরা এক । মেয়ের প্রাণের ঝুঁকির আশঙ্কা, নিজের রাজ্যে ফিরতে আর্জি নির্যাতিতার পিতার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়াকে দলবদ্ধ যৌন নির্যাতনের ঘটনায় এবার গ্রেফতার অস্থায়ী পুরকর্মী, মোট অভিযুক্ত ধরা পড়ল ৪ । এখন অধরা এক । মেয়ের প্রাণের ঝুঁকির আশঙ্কা, নিজের রাজ্যে ফিরতে আর্জি নির্যাতিতার পিতার

দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের জালে আরও এক অভিযুক্ত ধরা পড়েছে। ফলে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। রবিবার এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে কলেজ সংলগ্ন জঙ্গলে ড্রোন উড়িয়ে বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজ শুরু করেছিল পুলিশ । সূত্রের খবর, নতুন করে ধরা পড়া চতুর্থ অভিযুক্তও স্থানীয় বাসিন্দা। ফলে মূল পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে চারজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও একজন পলাতক, তার সন্ধানে তল্লাশি চলছে।

নির্যাতিতা দুর্গাপুরের একটা বেসরকারি মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। শুক্রবার রাত ৮টা নাগাদ সহপাঠী এক ছাত্রের সঙ্গে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে খেতে বেরিয়েছিলেন। দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন মোহনবাগান অ্যাভিনিউ ধরে হাঁটার সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ৫০০ মিটার দূরে ৫ জন যুবক অন্ধকারের মধ্যে নির্যাতিতাকে জঙ্গলে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে অবিযোগ। তাঁর মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় ।

ঘটনার সময় ওই তরুণীর সহপাঠী পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। রাত ৮.‌৪৫ মিনিট নাগাদ ছাত্রীর সহপাঠী কলেজে ফিরে আসেন। কিছুক্ষণ পর আবার বেরিয়ে যান। এরপর অসুস্থ ছাত্রীটিকে নিয়ে ফিরে আসেন। পরে নির্যাতিতা থানায় গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ করেন। এরপরই পুলিশ ওই নির্যাতিতাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবারের দাবি, গণধর্ষণ কাণ্ডের সঙ্গে ৫ জন যুক্ত রয়েছে৷ এমনকি সহপাঠী যুক্ত আছে বলেও পরিবারের লোকজন দাবি করেছে। যদিও ছাত্রীর সহপাঠীকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি।

নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, সহপাঠীর সঙ্গে ফেরার সময় ৩ জন তাঁদের অনুসরণ করছিল। এরপর তাঁকে ধরে জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায়। নির্যাতিতার সহপাঠী ভয়ে পালিয়ে যান। জঙ্গলে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। তিনজন নির্যাতন করার পর আরো ২ জন এসে নির্যাতন চালায়। এরপর ছাত্রীর মোবাইল থেকেই তাঁর সহপাঠীকে ফোন করে ছাত্রীকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে।

তদন্তে নেমে মোবাইলের সূত্র ধরে শনিবার রাতেই তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন কলেজেরই নিরাপত্তারক্ষী। বাকিদের খোঁজে জঙ্গলে ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি চালানোর সময় আরও একজনকে আটক করে পুলিশ ৷  ঘটনায় আটক হওয়া শেষ ব্যক্তি দুর্গাপুর নগর নিগমের অস্থায়ী কর্মী । তাকে আজ দুর্গাপুর আদালতে পেশ করা হবে । নির্যাতনের ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে । এপর্যন্ত গ্রেফতার হল ৪ জন ।

আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (‌পূর্ব)‌ অভিষেক গুপ্ত বলেন, ‘‌দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ৷ বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ৷ পরে এই ব্যাপারে বিস্তারিত ভাবে জানানো হবে। ঘটনায় নির্যাতিতার বন্ধুর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’‌

দুর্গাপুরের এসডিজেএম তিন অভিযুক্তদের ১০ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (দুর্গাপুর) অভিষেক গুপ্তা, এসিপি দুর্গাপুর সুবীর রায়সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা দফায় দফায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। নির্যাতিতা তরুণীর এক সহপাঠীর ভূমিকাও সন্দেহজনক বলে মনে করছে পুলিশ। গোটা ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় স্তম্ভিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তবে রাতে ওই ছাত্রী কেন ক্যাম্পাসের বাইরে বার হয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। উত্তরবঙ্গ রওনা হওয়ার আগে তিনি রবিবার বলেন, রাজ্যে নারীর উপর অপরাধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়। তাঁর কথায়, “যা ঘটেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় । পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি । কোনও অপরাধী যেন রেহাই না পায় ।”  ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে । বিরোধীরা রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন ।

অন্যদিকে, নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবেই তিনি তাঁকে বাংলায় আর রাখতে চান না। ওড়িশায় ফিরে যেতে চান বলেও জানান তিনি ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!