- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫
সিএএ–এর অধীনে অসমে নাগরিকত্ব পেলেন মাত্র ৩ জন
নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে গোটা দেশ যখন তোলপাড়, সেই সময় অসমে সিএএ–এর অধীনে নাগরিকত্ব পেলেন ৩ জন। ভারতে বসবাসকারী প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিনেই একথা জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘সিএএ–র অধীনে নাগরিকত্বের জন্য এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১২টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩ জন নাগরিকত্ব পেয়েছে। বাকি ৯টি এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে।’ অসমের মানুষের মধ্যে সবসময়ই আশঙ্কা ছিল যে, রাজ্যে হাজার হাজার অভিবাসী সিএএ–এর অধীনে গরিকত্ব পাবে। নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ঘিরে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আসামে ২০-২৫ লক্ষ মানুষ নাগরিকত্ব পাবে বলে ব্যাপক হৈ চৈ হয়েছিল। এখন মাত্র ১২টি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। এখন আপনারা সিদ্ধান্ত নিন, সিএএ নিয়ে আলোচনা প্রাসঙ্গিক কিনা।’
গত বছর ১১ মার্চ সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পাস হওয়ার পর নথিভুক্ত অমুসলিম অভিবাসীদের দ্রুত নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য কেন্দ্র নিয়মগুলি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সিএএ বাস্তবায়ন করে। গত বছরের জুলাই মাসে অসম সরকার সীমান্ত পুলিশ শাখাকে ২০১৫ সালের আগে রাজ্যে প্রবেশকারী অমুসলিম অবৈধ অভিবাসীদের মামলাগুলি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে না পাঠানোর এবং পরিবর্তে সিএএ–র মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। গত মাসে রাজ্য সরকার সমস্ত জেলাকে নির্দেশ দিয়েছে যে, সিএএ বাস্তবায়নের পর ২০১৫ সালের আগে রাজ্যে সন্দেহভাজন অমুসলিম অবৈধ বিদেশীদের প্রবেশের চলতি মামলাগুলি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে বাদ দিতে।
নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা হিন্দু, জৈন, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ এবং পার্সিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যারা ভারতে এসেছেন, তারাই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নতুন করে জানিয়েছে, তিনটি দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা যারা ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত ভারতে এসেছেন, তাদের পাসপোর্ট বা অন্যান্য ভ্রমণ নথি ছাড়াই ভারতের থাকতে দেওয়া হবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুস্মিতা দেব সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘তাদের পরিচয় কী হবে? তারা কতদিন এই সুবিধা ভোগ করবে? এবং এর ফলে ভারতের নাগরিকত্ব কাঠামোর উপর কী প্রভাব পড়বে? সরকার কি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বৈধতা দিচ্ছে? যদি তাই হয়, তাহলে অসমে আটক শিবিরে থাকা ব্যক্তিদেরও মুক্তি দেওয়া উচিত। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসা করেছে যে গোয়ালপাড়া শিবিরের ৬৩ জন আটক ব্যক্তিকে কেন নির্বাসিত করা হয়নি। যদি বিজেপি সরকার ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রবেশকারীদের থাকার অনুমতি দেয়, তাহলে অন্যদের কেন কারাগারে রাখা হচ্ছে?’
সুস্মিতা দেব অভিযোগ করেন যে, বিজেপি নির্বাচনের আগে নির্বাচনী সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে নির্বাচনের ঠিক আগে, বিজেপি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল এনেছিল। যা পরে আইনে পরিণত হয়। কিন্তু এটি খুব একটা সাহায্য করেনি। মাত্র ১২ জন আবেদন করেছিলেন এবং মাত্র তিনজন নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এখন নির্বাচনের আগে একই রকম একটা আদেশ আনা হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হচ্ছে।’
❤ Support Us








