- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ৯, ২০২৬
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে বিদেশমন্ত্রীর ভাষণ একপাক্ষিক, পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি তুলে সংসদে বিক্ষোভ বিরোধীদের
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত কেন্দ্র করে সোমবার সংসদ ভবনে তীব্র উত্তেজেনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষণের পর, যুদ্ধপরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি জানিয়ে সরব হয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা। তাদের অভিযোগ, মোদি সরকার নীরব, নাগরিকদের নিরাপত্তা, ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা নিয়ে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন্দ্র।
বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় অংশ শুরুর আগে বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। বৈঠকে অংশ নেন রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, রামগোপাল যাদব, দয়ানীধি মারাণ, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউতরা। বৈঠকের পর খাড়্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ আমাদের দেশেও লাগছে, এই ভৌগোলিক সংকটের উপর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু একপক্ষীয় বিবৃতি যথেষ্ট নয়। ভারত সরকারকে দ্রুত একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে, যাতে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, ব্যবসায়ীদের সহায়তা করা হয়, রপ্তানির জন্য সরবরাহ বৈচিত্র্য তৈরি করা হয়, সর্বোপরি সাধারণ মানুষকে মূল্যবৃদ্ধির শাস্তি দেওয়া বন্ধ হয়। দেশবাসীর প্রতি সংবেদনশীলতা প্রয়োজন।’ বৈঠকের পরে বিরোধী সাংসদরা সংসদ ভবনের মকর দরজা সংলগ্ন এলাকায় প্রতিবাদ শুরু করেন। রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, অখিলেশ যাদব, তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষ সহ বিরোধী সাংসদরা হাতে ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন।
সোমবার, সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় অংশ শুরু হলেও, লোকসভায় প্রথমে স্পিকার ওম বিড়লার ‘অপসারণ’ নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু, এদিন বিরোধীরা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করার দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করেন। বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ভাষণের মাঝেই হস্তক্ষেপ করতে চান মল্লিকার্জুন খাড়্গে। স্পিকার জগদম্বিকা পাল তা খারিজ করে দিলে, বিক্ষোভ সপ্তম সুরে পৌঁছায়। জয়শঙ্কর এদিন জানান, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বাড়ার পর তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়াও পুণ্যার্থী, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাস ও কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী আর্মেনিয়ার মধ্য দিয়ে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। ভারতের দূতাবাস স্থানীয় নাগরিকদের জন্য পরামর্শ জারি করেছে এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তবে, বিদেশমন্ত্রীর কথার সঙ্গে একমত নন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের মতে, জয়শঙ্করের পেশ করা তথ্য একপাক্ষিক। সরকার বহু কিছু গোপন করছে, যার ফল ভুগতে হবে আমজনতাকেই। ইতিমধ্যেই দেশে রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে, তেলের দাম বাড়বার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি স্তব্ধ হয়ে আছে। এ পর্যায়ে, স্পিকার বারবার অনুরোধ করেন, যাতে মন্ত্রীকে বক্তব্য শেষ করতে দেওয়া হয়, কিন্তু তাতে প্রতিবাদ থামে নি। অবশেষে বিরোধী সাংসদরা রাজ্যসভা থেকে বেরিয়ে যান। বিরোধীদের এহেন আচরণের জবাবে বিজেপি নেতা জে পি নাড্ডা বলেন, ‘কংগ্রেস দায়িত্বহীন আচরণ করছে। যখন মাননীয় মন্ত্রী তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তখনই তাঁরা সংসদ কক্ষ ছেড়ে বেড়িয়ে যাচ্ছেন। আসলে সত্যি শোনার সৎসাহস ওঁদের নেই।’ সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজুজুও বলেন, ‘আমি আমার জীবনে এত দায়িত্বহীন বিরোধী দল দেখিনি। তারা সংসদের মৌলিক রীতিনীতিটুকুও মানে না।’
❤ Support Us





